kalerkantho


জমিয়ে রাখা গল্প

কত ধরনের গল্পেই অভিনয় করেন তাঁরা। হুট করে কি নায়ক-নায়িকাদের মাথায় কোনো গল্প বা বিষয় গেঁথে যায় না, যেটা দিয়ে তাঁরা নিজেরাই সিনেমা বা নাটক বানাতে চান! আরিফিন শুভ, সাইমন সাদিক, বিদ্যা সিনহা মিম, মেহজাবীন চৌধুরী ও শবনম ফারিয়া জানিয়েছেন তেমনই কিছু গল্পের কথা। শুনেছেন রাকিব হাসান

১৯ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



জমিয়ে রাখা গল্প

আরিফিন শুভ

ভ্রমণবিষয়ক সিনেমা আমার বেশ পছন্দ। নিজেও প্রচুর ভ্রমণ করতে পছন্দ করি। ভ্রমণ যে সব সময় খুব আনন্দের হয়, তা কিন্তু নয়। দেশে-বিদেশে শুটিংয়ে গেলে এমন গল্পই মাথায় আসে বেশি। যদি কখনো ছবি নির্মাণের সুযোগ হয়, আগে ভ্রমণের ওপর সিনেমা বানাব। পরতে পরতে এক্সাইটমেন্ট থাকবে, আর লোকেশনের সৌন্দর্য তো থাকবেই।

আরেকটা হচ্ছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের অনেক অজানা গল্প আছে, অনেক আনসাং হিরো আছেন। তাঁদের গল্পগুলো শুনলে ভেতরে একটা টান অনুভব করি। এমন গল্প থেকে যদি সিনেমা নির্মাণ করতে পারতাম! গোয়েন্দাভিত্তিক সিনেমা সাধারণত খুব একটা হয় না আমাদের দেশে। এ ধরনের কিছু গল্পও মাথায় আছে। সুযোগ পেলে নিজেই লিখে ফেলতে পারি। আসলে হয় কি, অনেক চরিত্রই মাথায় আসে। সময়ের অভাবে সেটাকে পূর্ণ গল্পে রূপ দেওয়া হয়ে ওঠে না। সময়-সুযোগ পেলে করে ফেলতে পারি কিন্তু। ভ্রমণভিত্তিক সিনেমাটায় মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, ফজলুর রহমান বাবু, জাহিদ হাসান ভাইদের এক ফ্রেমে চাই। আমার ইচ্ছা এদের সবাইকে নিয়ে একটি সিনেমা করতে, আমিও থাকব।

 

সাইমন সাদিক

মাদকদ্রব্য ও নেশা নিয়ে একটি সিনেমা বানাতে চাই। সমাজের খুবই জটিল একটা রোগ। নেশায় আক্রান্ত হয়ে দেশের যুবসমাজ কিভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে! নেশার টাকা জোগাড়ের জন্য মা-বাবার গায়েও হাত তোলে অনেকে। অনেক দিন ধরেই ভাবছি, যদি এমন একটা গল্প লিখতে পারতাম বা কেউ যদি আমার কাছে সাজেশন চাইত! ভবিষ্যতে সময়-সুযোগ পেলে অবশ্যই এমন একটা সিনেমা বানাতে চাই। এই সিনেমা দেখে অনেকেই নেশা করা ছেড়ে দেবে। আর প্রধান চরিত্রে নিজেকেই ভেবে রেখেছি। আমার মনে হয়, এই চরিত্রটা আমি ভালো পারব।

 

বিদ্যা সিনহা মিম

একজন নারী খুব ছোট থেকে স্ট্রাগল করে সমাজের উঁচু স্তরে গেছেন এমন কোনো সত্য ঘটনা নিয়ে কাজ করতে চাই। উদ্দেশ্য, এই ছবি দেখে অনেক নারী নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে পারবে। চাইলে একজন নারীও অনেক কিছু পারে, সেটা দেখাতে চাই। এখন তো আমার নির্মাণে নামা সম্ভব নয়। এটা অনেক কঠিন কাজ। যদি আরো অভিজ্ঞতা নিয়ে কখনো সাহস হয়, তাহলে ইচ্ছা আছে এমন কিছু ফুটিয়ে তোলার।

 

মেহজাবীন চৌধুরী

আমার প্রিয় মুভি ‘টাইটানিক’। কতবার যে দেখেছি, তার হিসাব নেই। যতবারই সিনেমাটা দেখি, মনে হয় আমিও যদি এমন একটা সিনেমা নির্মাণ করতে পারতাম! আমার মাথায় গল্পগুলো তাই ‘টাইটানিক’কে ঘিরেই আসে। ধনী-গরিব প্রেমিক-প্রেমিকার কাছে আসা বা দূরে যাওয়া নিয়ে অসংখ্য সিনেমা, সেখানে ‘টাইটানিক’ আমার কাছে স্পেশাল। লঞ্চডুবিতে দেশে কত মানুষ মারা যায়। সেখানেও তো কোনো প্রেমিক থাকে, কোনো প্রেমিকা থাকে। অথবা সেই জার্নিতেই একে অন্যকে ভালো লেগে যেতে পারে। সেভাবেই একটা গল্প বলতে চাই। আমাদের জীবনটাও তো একটা জার্নির মতো। একদিন শেষ হবেই। এর মধ্যেই আমাদের হাসি-কান্না চলে। আমার সিনেমা বানানোর ইচ্ছা আছে এবং সেটা ‘টাইটানিক’ থিম ধরেই। নিজের সিনেমায় অবশ্যই আমি অভিনয় করব না। অডিশন নিয়ে একেবারে দুটি নতুন মুখ নিতে চাই। সাপোর্টিং রোলে হয়তো সময়ের আলোচিতরা থাকবেন। কিন্তু মূল চরিত্রে থাকবে নবাগতরা। আরেকটা কথা, পুরো সিনেমায় অসংখ্য মানুষ কাজ করবে। প্রতিটা ফ্রেম পূর্ণ থাকবে মানুষে।

 

শবনম ফারিয়া

আশপাশের অনেক কিছু দেখেই মনে হয়, এটা নিয়ে যদি সিনেমা বানাতে পারতাম! ভালো কিংবা খারাপ অনেক ঘটনা দেখলেই সিনেমা বা নাটক বানানোর একটা তাড়না হয়। সব কিছুর নির্যাস নিয়েই সিনেমা বানানো সম্ভব, যেটা সাধারণত হয় না। যেমন—একটা ফানি বিষয় হচ্ছে, আমরা তো টানা কয়েক ঘণ্টা শুটিং করি। আমাদের একটা বিষয় থাকে। আমরা একসঙ্গে হলেই ফ্রেন্ডদের বা কলিগদের নিয়ে গসিপ করি। অনেক   হাসাহাসি করি মেকআপরুমে। কিছুদিন আগে ভেবেছিলাম, মেকআপরুম নিয়ে একটা নাটক বানাই। মেকআপরুমে আমরা কী করি, সেটা নিয়ে নাটক। আবার শুটিংয়ে যে বিড়ম্বনা হয়; যেমন—সেটে কেউ দেরিতে এলে ‘হায় হায় কী হবে’ একটা অওয়াজ উঠে যায় বা একটা জিনিস কাজ করছে না তা নিয়ে হট্টগোল বেধে গেল। সবাই তো ভাবে আমরা শুটিং করি, ঘুরিফিরি, আনন্দফুর্তি করি। আমাদের লাইফ যে কত স্ট্রাগলের, সারা দিন আউটডোরে থাকা যে কত কষ্টের, অনেকেই তা জানে না। মাঝে মাঝে ইচ্ছা হয় আমাদের হাসিঠাট্টা, কষ্টগুলো তুলে আনি। আর এই গল্পে অভিনেত্রী হিসেবে আমার প্রথম পছন্দ রুনা খান, সাদিয়া জাহান প্রভা ও নওশীন মেহরীন মৌ।



মন্তব্য