kalerkantho


ফেইসবুক থেকে

১৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ফেইসবুক থেকে

থ্রি বিলবোর্ডস আউটসাইড এবিং, মিসৌরি

থ্রি বিলবোর্ডস আউটসাইড এবিং, মিসৌরি।

শান্ত, নিস্তব্ধ, কুয়াশাচ্ছন্ন মিসৌরির ছোট্ট এবিং শহর। এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে যেন চারদিকে। এবিং শহরের এই ড্রিকওয়াটার রোড ঘেঁষেই পরপর তিনটি বিলবোর্ড। সিনেমার ওপেনিং সিনে মন্তাজ শটে ধরা দেওয়া এ নিস্তব্ধ পরিবেশটা কেমন জানি রহস্যের আভাস দেয়। ব্যাকগ্রাউন্ডে অপেরা মিউজিকের ব্যবহার শান্ত পরিবেশটাকে চমকপ্রদ ও রহস্যময় করে তুলছিল। অন্য রকম আর দুর্দান্ত শুরুটা মুহূর্তেই সব আকর্ষণ টেনে নিল। শেষ হওয়া অবধি তাতে আর ছেদ পড়েনি। মিসৌরির এই কাল্পনিক ছোট্ট এবিং শহরেই বাস মিলড্রেড হায়েসের। ড্রিকওয়াটার রোড ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা তিন বিলবোর্ডের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে কী যেন ভাবল মিলড্রেড। গাড়ি স্টার্ট করে উপস্থিত হলো রেড ওয়েলবির কাছে। এই তিন বিলবোর্ড সে এক বছরের জন্য ভাড়া নিতে চায়। উত্তর শোনার অপেক্ষা না করে ৫০০০ ডলার ছুড়ে মারল। তিন বিলবোর্ড রং করা হলো। তাতে লেখা হলো, রেপড হয়াইল ডায়িং, স্টিল নো অ্যারেস্ট!!!!!!, হাউ কাম চিফ উইলবলি????’ ধীরে ধীরে গল্পটা পরিষ্কার হয়, মিলড্রেড হায়েসের একমাত্র মেয়ে ধর্ষণ ও খুন হয় সাত মাস আগে। কিন্তু জড়িত কাউকে ধরতে পারেনি প্রশাসন। এত দিন অপেক্ষা করেও ন্যায়বিচার মেলেনি, তাই এ অভিনব পন্থা বেছে নিয়েছেন মা। ছোট্ট শহরে জানাজানি হতে সময় লাগল না, সবাই হায়েসের এ কাজের বিপক্ষে। অবশ্যই চিফ উইলবলিও। তাতে কোনোরূপ ভাবান্তর নেই হায়েসের। প্রতিশোধের আগুন যে জ্বলছে তার মাঝে। মার্টিন ম্যাকডোনাহ পরিচালিত তৃতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এটি। সিরিয়াস সাবজেক্টকে ব্ল্যাক কমেডির ছাঁচে ফেলে চমৎকার রূপ দিয়েছেন, বরাবরই তাতে সিদ্ধহস্ত তিনি। আগের দুটি কাজকে ছাড়িয়ে গেছে এবারেরটি। ম্যাকডোনাহ এ সিনেমায় সবচেয়ে বড় চমক দিয়েছেন চিত্রনাট্যে। চেনাজানা প্রেডিক্টেবল প্লটলাইনকে আনপ্রেডিক্টেবলিটি দিয়েছে চিত্রনাট্য। ক্লিশে বিষয়গুলোকে দূরে সরিয়েছে। সাবপ্লটগুলোকে জোর করে নয়, আলাদা লেয়ারে ভাগ করে সুন্দর সাজিয়েছেন ম্যাকডোনাহ। গল্পে যে প্রশ্নগুলো উঠে এসেছে, তার উত্তরও খোঁজা হয়েছে চিত্রনাট্যে। রাগ, প্রতিশোধ, মনুষ্যত্বর মতো সিরিয়াস থিমগুলোর ইন্টারপ্রেটেশন ঘটেছে গল্পে। এমন সিরিয়াস, জটিল বিষয় অথচ কমেডিক টোন! অযাচিত মনে হতে পারত, কিন্তু তা হতে দেননি পরিচালক। এর পরই এ সিনেমার শক্তিশালী পারফরম্যান্সের কথা। ফ্রান্সেস ম্যাকডরমোন্ড আমার খুব পছন্দের একজন অভিনেত্রী। জেদি, একগুঁয়ে, কাঠিন্যতায় ভরা মিলড্রেড চরিত্রটিকে তাঁর চেয়ে ভালো আর কেউ রূপ দিতে পারত বলে মনে হয় না। চরিত্রটিকে কখনো হাসতে দেখা যায়নি, এমনকি কাঁদতেও না। যথাযথ সম্পাদনা, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের দারুণ ব্যবহার, সিনেমাটোগ্রাফি মিলিয়ে দারুণ কাজ করেছে পুরো সিনেমাটিকে চমৎকার আর প্রাণবন্ত করে তোলার ক্ষেত্রে।

মো. মামুনুর রশিদ তানিম

সিনেমাখোর গ্রুপের পোস্ট [ঈষৎ সংক্ষেপিত]



মন্তব্য