kalerkantho

সবই কাকতাল!

জীবনের নানা ক্ষেত্রে অদ্ভুত কাকতালীয় ঘটনার শিকার তিনি। কখনো তা মন্দের কারণ হয়েছে, কখনো বয়ে এনেছে সৌভাগ্য। আমাগীকাল ‘লাভ, সিমোন’ মুক্তি উপলক্ষে জেনিফার গার্নারকে নিয়ে লিখেছেন খালিদ জামিল

১৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



সবই কাকতাল!

আপনি ভালো কাজের পিছনে ছুটবেন আর পাবেন ব্যাপারটা তেমন নয়। আপনাকে কাজ করতে থাকতে হবে, এভাবেই একসময় ভালো কিছু পেয়ে যাবেন

তাঁর চেহারা অনেকটা অ্যামি জো জনসনের মতো। সাধারণ মানুষ তো বটেই, এই দুজনের মধ্যে গুলিয়ে ফেলেন অনেক সিনেমাজগতের মানুষও। ব্যাপারটা বেশ উপভোগই করেন জেনিফার গার্নার, ‘অনেকেই আমার কাছে একটা ছবি এগিয়ে দিয়ে তার ওপর অটোগ্রাফ চায়। কিন্তু সেই ছবিটা আমার না, জনসনের। মজাই লাগে।’

এমন কাকতালীয় ব্যাপারস্যাপারের ঘটনা গার্নারের ক্ষেত্রে একটু বেশিই। এই যেমন বেন অ্যাফ্লেকের সম্পর্ক। পরিচয় হয়েছিল সেই ২০০১ সালে ‘পার্ল হারবার’-এর সেটে। কিন্তু তখন বেন চুটিয়ে প্রেম করছেন আরেক জেনিফারের সঙ্গে—সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী জেনিফার লোপেজ। যত দিন সেই সম্পর্ক টিকে ছিল তত দিন জেনিফার গার্নারের সঙ্গে সম্পর্কে জড়াননি। লোপেজ সম্পর্কের ইতি টানলে সবাইকে জানিয়ে গার্নার আর বেন পরে বিয়ের কাজটা সেরেছিলেন। মজার ব্যাপার, ২০০৪ সালে ‘থার্টি গোয়িং অন থার্টি’ ছবিতে গার্নারের চরিত্র ছিল একটি ম্যাগাজিন সম্পাদকের, যেটার প্রচ্ছদে শোভা পেয়েছিল স্বামীর সাবেক প্রেমিকা জেনিফার লোপেজেরই ছবি!

কিছু কাকতালীয় ঘটনা তো গার্নারকে রীতিমতো পোড়াকপালি বলে প্রমাণ করবে। ‘ইলেক্ট্রা’ ছবিতে একটি মারপিটের দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় উইল ইউন লির তলোয়ারের আঘাত লাগে তাঁর আঙুলে। চিকিৎসা নিয়ে ফের শুট শুরু করতেই লিয়ের তলোয়ার আবারও আঘাত করে গার্নারকে, ওই একই জায়গায়! ভালো ব্যাপারও অবশ্য ছিল এই ছবিতে। যে কমিক বই অবলম্বনে ‘ইলেক্ট্রা’ নির্মিত হয়েছিল সেটাতে গার্নারের চরিত্রের চোখ ছিল বাদামি। কাকতালীয়ভাবে গার্নারের চোখ প্রাকৃতিকভাবেই একই রঙের। তাই কোনো কনটাক্ট লেন্স ব্যবহার করতে হয়নি।

তবে শুধু কাকতালের জোরেই নয়, বড় পর্দায় অভিনেত্রী মাত করেছেন নিজের যোগ্যতায়। দর্শক তাঁকে সিআইএ অফিসার ভাবতেই বেশি ভালোবাসে। কারণ এবিসির স্পাই-অ্যাকশন থ্রিলার ‘অ্যালাইস’ দিয়েই প্রথম পরিচিতি পেয়েছিলেন অভিনেত্রী। জিতেছিলেন গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডও। মনোনয়ন পেয়েছেন প্রাইমটাইম অ্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্যও।

আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে গার্নারের নতুন ছবি ‘লাভ, সিমোন’। রোমান্টিক কমেডি ড্রামা ধাঁচের এই সিনেমায় তাঁর সঙ্গে দেখা যাবে নিক রবিনসন আর জস ডুহামেলকে। বেকি আলবার্টালির প্রথম উপন্যাস ‘সিমোন ভার্সেস দ্য হোমো সেপিয়েন্স এজেন্ডা’ অবলম্বনে প্রায় ১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচে ছবিটি নির্মাণ করেছেন গ্রেগ বারল্যান্টি।

কয়েক বছর ধরেই উল্লেখযোগ্য ছবি নেই গার্নারের; বেন অ্যাফ্লেকের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে বিস্তর খবরে ছিলেন যদিও। কিন্তু সেসব দিনকে অতীতই বলতে চান তিনি, ‘যা কিছু হয়েছে সেটা খুব খুশি মনে আমরা বেছে নিয়েছি তা নয়, নানা পরিস্থিতির জন্য সেটা অনিবার্যই ছিল।’ ‘লাভ, সিমোন’ সিনেমাটিকে ‘নতুন শুরু’ টাইপ কিছু হিসেবে দেখছেন না তিনি। বরং তিনি যে কাজের মধ্যেই আছেন এটা মনে করে প্রেরণা খুঁজতে চান, ‘আপনি ভালো কাজের পেছনে ছুটবেন আর পাবেন ব্যাপারটা তেমন নয়। আপনাকে কাজ করতে থাকতে হবে, এভাবেই একসময় ভালো কিছু পেয়ে যাবেন।’


মন্তব্য