kalerkantho


জাদুকর চাচ্চু

দুরন্ত টিভির অনুষ্ঠান ‘সোনার কাঠি রুপার কাঠি’ দিয়ে পরিচিতি পেয়েছেন। শিশু-কিশোরদের কাছে তিনি জাদুকর চাচ্চু। রাজীব বসাককে নিয়ে লিখেছেন ইসমাত মুমু

১৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



জাদুকর চাচ্চু

‘জাদুকর’ নয়, নিজেকে উপস্থাপক পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তিনি মনে করেন, জাদু তো একটা কৌশল, এটা উপস্থাপনারও বিষয়। মঞ্চে জাদু দেখিয়েছেন অনেক। তবে জাদু নিয়ে টিভি অনুষ্ঠান এটাই প্রথম। শুরুতেই বাজিমাত।

এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হলেন কিভাবে? ‘ফেসবুকে একটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসে, অ্যাকসেপ্ট করি। কথা বলে জানলাম সে আমার স্কুলজীবনের বন্ধু, দুরন্ত টেলিভিশনের অন্যতম পরিচালক অভিজিৎ চৌধুরী। আমি তো চট্টগ্রামে থাকি। অভিজিৎ বলল, ঢাকা আসো দেখা করি। এলাম ঢাকায়। দুরন্তর হেড অব প্রগ্রাম আলী হায়দার ভাই, সিনিয়র প্রডিউসার সুমনা আপা ও আমার প্রডিউসার শিপন ভাই—সবাই মিলে আমার সঙ্গে মিটিং করলেন। সিদ্ধান্ত হলো একজন উপস্থাপিকা থাকবেন, যিনি জাদুকর এবং বিজ্ঞানী। বিজ্ঞান যদিও জাদু, জাদুটাও যেন বিজ্ঞানভিত্তিক হয়। বিজ্ঞান প্রমাণের দায় রাখে, জাদুতে প্রমাণ বিষয়টি লুকিয়ে রাখতে হয়। দুটি বিষয়ই বাচ্চাদের সামনে আনতে হবে। পরে সিদ্ধান্ত হলো, একজন উপস্থাপিকা থাকবেন, সঙ্গে আমি থাকব। আমি প্রস্তাব দিলাম, উপস্থাপিকা যদি থাকেন তাহলে দুজনের বোঝাপড়াটা জমবে না। রিহার্সালের মতো করে দেখালাম। সবার ভালো লাগল। তারপর শুরু হয়ে গেল শুটিং।’

৬৬ পর্বের অনুষ্ঠান। রাজীবের আগে আরো অনেকেরই ইন্টারভিউ নিয়েছে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ। দুজন জাদুকরকে নিয়ে ছয় পর্ব শুট করা হয়েছে। চ্যালেন কর্তৃপক্ষ রাজীবকে বললেন, আপনিই শুরু থেকে ৬৬ পর্ব করেন। রাজীব বললেন, এই ছয় পর্ব থাকুক। পরের ৬০ পর্ব করবেন তিনি। এই ৬০ পর্বের শুট হয়েছে মাত্র ১৫ দিনে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টানা ১৫ দিন সাত ক্যামেরায় শুটিং হলো।

বাচ্চাদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অনেক কিছু শিখেছেন রাজীব। ‘ওদের ভাষা বুঝতে পারলাম। মজার ব্যাপার হলো বাচ্চারা শুটের আগে জানতই না আমি জাদুকর। শুট শেষ হওয়ার পর আমি ম্যাজিকটা দেখাতাম। সেদিন আমার এক বন্ধু ও তার বাচ্চার সঙ্গে দেখা। বন্ধু আমাকে জাদুকর বলে পরিচয় করিয়ে দিল। বাচ্চাটা আমাকে চেনে। সে প্রশ্ন করল, আমার যে বাচ্চারা তারাও কি তার মতো বাচ্চা? ওর মাথায় আমাকে নিয়ে একটা ভাবনা তৈরি হলো।’

প্রচার শুরুর আগে রাজীব ভাবতেও পারেননি অনুষ্ঠানটি এত জনপ্রিয় হবে। ‘সেটা যদি টের পেতাম তাহলে হয়তো আরো বেশি পরিশ্রম করতাম। এখন মনে হচ্ছে, আমি দায়সারা কাজ করেছি। আরো ভালো করার ক্ষমতা আমার ছিল। দোষ পুরোটাই আমার’—বললেন রাজীব।

জাদু নিয়ে একটা ফ্যামিলি শো এমনকি রিয়ালিটি শোও করতে চান। দুরন্তের সঙ্গে আরো একটি অনুষ্ঠানের কথা চলছে। ‘অনেক চমক থাকবে এখানে’—বললেন রাজীব।

বাড়ি ঢাকাতেই। চট্টগ্রামে গিয়েছেন পড়াশোনার সুবাদে। ভালোলাগা তৈরি হওয়ায় সেখানেই থেকে গেছেন। বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির কেন্দ্র ঢাকা। রাজীবের মনে হলো, তিনি না হয় ঢাকার বাইরে থেকেই করবেন। তাঁর স্বপ্ন, চট্টগ্রাম হবে বাংলাদেশের জাদুর রাজধানী। বছরে পাঁচ শরও বেশি ম্যাজিক শো করেন। দুরন্ত টিভিতে আসার আগে মাসে ৩০-৪০টা শো করতেন। এখন চাহিদা আরো বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশে যাঁরা ম্যাজিক করেন, প্রত্যেকেই এক প্রজন্মের জাদুকর। রাজীব ব্যতিক্রম। তাঁর বড় মেয়ে দ্বিজেত্রী বসাকও ম্যাজিক করেন, ‘আমরা দুই প্রজন্মের জাদুকর। ও এলএলবি করছে। প্রফেশনাল জাদুকর, মঞ্চে নিয়মিত শো করে।’


মন্তব্য