kalerkantho


লাভের গুড় কে খায়?

১৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



লাভের গুড় কে খায়?

‘আয়নাবাজি’র দৃশ্যে লুৎফর রহমান জর্জ ও চঞ্চল চৌধুরী

কিছু ছবি দেখতে সিনেমা হলে হুমড়ি খেয়ে পড়ে দর্শক, ‘ব্যবসাসফল’ ট্যাগও পায়। দিন শেষে তবু প্রযোজকের পকেট ফাঁকা! অভিযোগ, প্রযোজককে প্রাপ্য শেয়ার দিচ্ছে না মধ্যস্বত্বভোগীরা। সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন রূপক জামান

 

পর পর দুই বছরের অন্যতম ব্যবসাসফল ছবি ‘আয়নাবাজি’ ও ‘ঢাকা অ্যাটাক’। ছবি দুটির পরিচালক যখন বলেন তাঁদের সিনেমায় লগ্নীকৃত অর্থ উঠে আসেনি, তখন অবাক হতেই হয়। টিকিট কাউন্টারে এখনো সিনেমাগুলোর জন্য দর্শকের দীর্ঘ সারি, তবু প্রযোজক নাকি লাভের টাকা ঘরে তুলতে পারেননি! অবশ্য এ ঘটনা বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন নয়। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়া এটলাস মুভিজের ‘স্বপ্নের ঠিকানা’র আয় ১৯ কোটি টাকা। প্রযোজক বলছেন, এখনো পাঁচ-ছয় কোটি টাকা পাওনা। ‘মনপুরা’, ‘মনের মাঝে তুমি’ কিংবা দুই বছর আগের ‘মেন্টাল’, ‘বাপজানের বায়োস্কোপ’সহ অনেক ছবির প্রযোজক প্রাপ্য হিস্যা বুঝে পাননি। অভিযোগের তীর পরিবেশনা সংস্থার ম্যানেজার, বুকিং এজেন্ট, হল রিপ্রেজেন্টেটিভ ও হল মালিকদের বিরুদ্ধে। এঁদের যোগসাজশেই নাকি ছবির আয় নানাভাবে কম দেখিয়ে প্রযোজককে বঞ্চিত করা হয়।

 

টু কে মেশিন ও ই-টিকিটিং দরকার

বদিউল আলম খোকন মহাসচিব, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি

সিনেমার ব্যবসার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে রিপ্রেজেন্টেটিভ, যাদের পরিবেশকের তরফ থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কথা থাকে প্রযোজকের লোক হিসেবে কাজ করবে তারা, কিন্তু তারা হয়ে যায় সিনেমা হলের লোক। ৫০ টিকিট বিক্রি হলে তারা দেখায় ৩০টি। বাকি টিকিটের টাকা হল মালিক ও তাদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়। তা ছাড়া বিভিন্ন কর দেখিয়ে অনেক টাকা কেটে নেওয়া হয়। ৮০ টাকা মূল্যের টিকিটের প্রবেশ মূল্য ১২ টাকা। এই ১২ টাকা থেকে প্রযোজকের পাওয়ার কথা ছয় টাকা। কিন্তু এর মধ্যে আবার জাজ মাল্টিমিডিয়ার তিন টাকা। এরপর সপ্তাহ হিসেবে প্রযোজককে দিতে হয় প্রজেক্টর ভাড়া। হল মালিকের যদি পর্দা ও প্রজেক্টর মেশিন না থাকে তাহলে তা হয় গোডাউন। পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হলে কোনো ছবিই লস গুনবে না। শুধু ঢাকা শহরের হল দিয়েই পুঁজি ফেরত পাওয়া সম্ভব। স্টার সিনেপ্লেক্সে টিকিট বিক্রি হয় দু-আড়াই শ টাকায়। কিন্তু আমরা পাই ১৩ শতাংশ [সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানায় ৪৫ শতাংশ]। আবার এ টাকা থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট কাটা হয়। ব্লকবাস্টারে পাঁচ শ টাকার টিকিটে দেয় বায়ান্ন টাকা। এভাবে যদি প্রযোজক ঠকেন তাহলে কখনই পুঁজি ফেরত আসবে না। দর্শক কিন্তু ছবি দেখেন। আমার জানামতে, বলাকা সিনেমা হলে ‘আয়নাবাজি’র টিকিট বিক্রি হয়েছে দু-তিন কোটি টাকার। কিন্তু প্রযোজক কত পেয়েছেন? একই কথা ‘ঢাকা অ্যাটাক’র ক্ষেত্রেও। ভারতে দুই সিস্টেমে ছবি চলে। এক সপ্তাহ বা মাসের জন্য হল ভাড়া নেন প্রযোজক। ধরেন, এক লাখ টাকাই ভাড়া দিল। প্রথম সপ্তাহে পাঁচ লাখ টাকা সেল হলে বাকি চার লাখ প্রযোজকের। আবার সারা দিনে দুই লাখ টাকার টিকিট বিক্রি হলে প্রযোজক পাবে এক লাখ টাকা। এই দুই নিয়মের কোনোটাই আমাদের হল মালিকদের পছন্দ না। আমরা চাচ্ছি সিনেমা হলের নিজস্ব টু কে মেশিনের পাশাপাশি ই-টিকিটিং সিস্টেম। ঘরে বসেই প্রযোজক দেখতে পারবেন কোন শোতে কত লোক ছবি দেখছে। কিন্তু হল মালিকরা বলছে, আমাদের হলে কেন ক্যামেরা বসাবেন? সরকার ৫০টি হলে টু কে মেশিন বসানোর কথা বলেছিল। কিন্তু প্রভাবশালীদের কারসাজিতে দেরি হচ্ছে। কারণ নতুন মেশিন বসালে হল থেকে জাজ মাল্টিমিডিয়ার মেশিন খুলে নিতে হবে।

 

 

সেন্ট্রাল সার্ভার বসাতে হবে

খোরশেদ আলম খসরু প্রযোজক নেতা

প্রযোজক-পরিবেশকরা এক লাখের নিচে ছবি দেবে না। বুকিং এজেন্টরা আমাদের কাছে এসে বলে হল মালিক ৫০ হাজারের বেশি দেবে না। কিন্তু ঠিকই এক লাখ আনে হল মালিকের কাছ থেকে। আবার আমাদের কাছ থেকে ‘ফিক্সড’ পদ্ধতিতে ছবি নিয়ে ওখানে পার্সেন্টিজে চালায়। বাড়তি যা আয় হয় তা বুকিং এজেন্টরা নিয়ে যায়। দেশে এখন সব মিলিয়ে হল আছে তিন শ, রেগুলার আড়াই শ। এর মধ্যে মাত্র ২৪ জন হল মালিক নিজে এসে দরদাম করেন। বাকিগুলো চালায় বুকিং এজেন্ট। তাদের মধ্যেও সিন্ডিকেট। এরা ভাগ করে নেয়, এ ছবিটা আমরা করব, খবরদার কেউ যাবা না। অপজিশন যাবে না। ফলে তারা ইচ্ছেমতো দাম ধরতে পারে। যা দেয় তা-ই নিতে হয়। হলিউডে এ সিস্টেম ছিল ৩০ বছর আগে। তারা যদি এই সিস্টেম বাদ দিতে পারে, তাহলে এ যুগে কেন আমাদের বুকিং এজেন্ট লাগবে? রিপ্রেজেন্টেটিভের দরকার হবে? আমি নিজে ‘আয়নাবাজি’র পরিবেশক ছিলাম। যদিও প্রযোজনা সংস্থা আমার অফিস ব্যবহার করেছিল শুধু। এত ভালো চলা সিনেমাটি এখনো অনেক টাকা পাবে হল মালিক, বুকিং এজেন্টদের কাছে। এনাম নামে একজনকে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল কয়েক মাসের জন্য। এখন উনি নেই, ফলে পাওনা টাকাগুলো পাওয়া যাচ্ছে না। গাউসুল আলম শাওন নিয়মিত প্রযোজক নন, তাই তাঁকে ঘোরাচ্ছে মিডলম্যানরা। গত বছরের ‘ঢাকা অ্যাটাক’ও ভালো অঙ্কের টাকা পাবে মার্কেটে। অথচ ছবিটা দিয়ে কী ব্যবসাটাই না করল হল মালিকরা! ছবির মহরতে মন্ত্রীরা এসে বলবেন, ভালো ছবি বানান। এর জন্য তো টাকা লাগবে! এফডিসিতে সেন্ট্রাল সার্ভার বসাতে হবে। টু কে মেশিন বসানোর জন্য পদক্ষেপ নেন। তবে সবার আগে দরকার প্রযোজক সমিতি। অনেক বছর ধরে সমিতির কোনো কমিটি নেই। নির্বাচন যেন না হয়, এ জন্য মামলা করে রেখেছে। এ মামলা তুলে না নিলে নির্বাচনও সম্ভব না।

 

ছবির মান খারাপ

ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ সভাপতি, প্রদর্শক সমিতি

হল মালিকরা টাকা আটকে রাখে, দেয় না—এ ব্যাপারগুলো ১৫-২০ বছর আগে ছিল। এখন তো অগ্রিম দেয় হল মালিক, তা-ই ফেরত পায় না। আমি নিজে ‘মেন্টাল’ ছবিতে এক লাখ টাকা বুকিং দিয়েছিলাম। যাতে অপজিশন হলে ছবিটা না দেয়। অথচ আমার হলে না চালানোয় টাকা ফেরত দেয়নি। শাকিব খানের আরো কয়েকটি ছবিতে ৭৫ হাজার করে দিয়েছি, কিন্তু পাইনি। আমরা বড় বড় হাউসের ছবিতে টাকা দিই, যাতে ছবিটা আমার হলের জন্য থাকে। আমাদের অপজিশন হল ‘অভিসার’ ও ‘জোনাকী’ যেন না পায়। ‘আয়নাবাজি’ ও ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সংশ্লিষ্টরা যে অভিযোগ করেছে সে ব্যাপারে বলব, তাদের উচিত ছিল আগে ভালো পরিবেশক খোঁজা।

আমাদের এখানে পাকিস্তান আমলে পরিবেশক ছিল, যারা একটা পার্সেন্টেজে পরিবেশনা করত। স্বাধীনতার পর প্রযোজক ও পরিবেশক আলাদা। হঠাৎ প্রযোজকরা পরিবেশক হয়ে গেল। সমস্যার শুরু এখানেই। এখন যে যুগ এসেছে তার তুলনায় ছবির মান অনেক খারাপ। পঞ্চাশ হাজার-এক লাখে এসব ছবি নিয়ে হল মালিক, বুকিং এজেন্টরা দৌড়াতে থাকে। এখানে তো টাকা মারের কিছু নেই। কারণ ১৫ শতাংশ ভ্যাট ছাড়া কোনো ট্যাক্সও নেই।

 

প্রযোজকরা অভিযুক্তদের প্রাধান্য দিয়েছে

আনোয়ার হোসেন আনু

সাধারণ সম্পাদক, বুকিং এজেন্ট সমিতি

বুকিং এজেন্টরা পায় ৫ শতাংশ কমিশন। ছবি তো চলতে হবে, টাকা হল থেকে পেতে হবে। হল থেকে টাকা আদায় করে দেওয়া বুকিং এজেন্টের দায়িত্ব। মুষ্টিমেয় বুকিং এজেন্ট আছে যারা ব্যবসাটা জিম্মি করে রেখেছে। ছবিও তো সেরকম নাই, চলে না ঠিকমতো। যে টাকা আয় হয়, তাতে কিছু থাকে না। আমি দীর্ঘ ২৫ বছর ব্যবসা করছি। চট্টগ্রামের ‘পূরবী’ হলের জন্য ছবি বুক করেছি। আমার কাছে কেউ এক পয়সা পাবে না। হয়তো কমিশন ১০ টাকার জায়গায় ১২ টাকা নিয়েছি, কিন্তু কারো টাকা মেরে দিইনি। অনেক প্রযোজকই অভিযুক্তদের প্রাধান্য দিয়ে দিয়ে তাদের স্বভাব খারাপ করেছে। এ ক্ষেত্রে তারা আমাদের সমিতিতে অভিযোগ করতে পারে। অতীতে অভিযোগের ভিত্তিতে অনেককে ব্যান করেছি। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ও ‘আয়নাবাজি’ নিয়ে যে কথা হচ্ছে, এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। পেলে হয়তো আমরা চেষ্টা করতাম, একজন প্রযোজক শখ করে ছবি বানাতে এসেছে তার টাকা যেন মার না যায়। অনেক সময় ম্যানেজারদেরও কারসাজি থাকে। এখনকার প্রযোজক, বুকিং এজেন্টরাও ঠিক নেই। নতুন লোক পেলে তো কথাই নেই। কে কারটা মেরে খাবে ঠিক নেই। অনেকে পাঁচ-সাতটি হলে বুকিং করে। ব্যবসার খাতিরে তাদের বাকিতে ছবি দেয়। কিন্তু কেন বাকি দেব? আমার ছবির সিকিউরিটি মানি নেব না? নিয়মটা ভেঙেছে প্রযোজক ও ম্যানেজাররা, ছবির হল সংখ্যা বেশি দেখানোর জন্য। আমার কথা হচ্ছে, বেতন দিয়ে ম্যানেজার রাখব ব্যবসার জন্য, কী ভালো হয় না হয় তা দেখব না?

 

পরের ছবি নির্মাণে ভয় পাচ্ছি

অমিতাভ রেজা পরিচালক, আয়নাবাজি

বাংলাদেশে সিনেমা নির্মাণের পুরো প্রক্রিয়াটাই কঠিন। ‘আয়নাবাজি’তে কাকরাইলপাড়া থেকে পূর্ণ সহযোগিতাই আমরা পেয়েছি। বিশেষ করে খসরু ভাই, ইকবাল ভাই আমাদের প্রাথমিক সব সহযোগিতা করেছেন। মধ্যস্বত্বভোগী কারা সেটা আমার জানা নাই। সেটা শাওন ভালো বলতে পারবে। প্রাথমিকভাবে হলে আমাদের লোক নিয়োজিত ছিল। এই লোক নিয়োগে বিশাল খরচ হয়। পাইরেসি আর টিকিট চুরি আটকানোর জন্য প্রযোজক থেকে লোক নিয়োগই সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা বলে আমার মনে হয়। ‘আয়নাবাজি’ নির্মাণের খরচ এক কোটি ৫৭ লাখ টাকা। বক্স অফিস সঠিক আয় আমাদের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান অফিস টপ অব মাইন্ড বলতে পারবে, আমার কাছে পূর্ণ হিসাব নাই। কতগুলো টিকিট বিক্রি হয়েছে সেখান থেকে জানা যাবে। একটা সিনেমা নির্মাণ করতে এক-দুই বছর সময় লাগে। ‘আয়নাবাজি’তে ১৫ শতাংশ খরচ আমি নিজেই করেছি। যেহেতু আমাদের সিনেমা পুঁজি অস্থায়ী, তাই শেষ মুহূর্তেও হল থেকে কালেকশন আমরা করতে পারিনি। ৬০-৭০ লাখ টাকা হল মালিকদের কাছে আছে, টাকাগুলো তোলা যাচ্ছে না। এক বছর অন্য কাজ না করায় আমার ব্যক্তিগত উপার্জন কমেছে, আমার কম্পানি বিশাল দেনার শিকার হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে আমাকে আবার নিয়মিত বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণে মনোযোগী হতে হয়েছে। এসব কারণে পরের ছবি নির্মাণে ভয় পাচ্ছি।

 

পরিবেশকের দোষ নেই দোষ সিস্টেমের

দীপংকর দীপন পরিচালক, ঢাকা অ্যাটাক

নেট সেলের অর্ধেক প্রযোজকের পাওয়ার কথা। কিন্তু এর ভেতরে আছে প্রজেক্টর ভাড়া, হল রিপ্রেজেন্টেটিভ, বুকিং এজেন্টসহ অন্যদের টাকা। দিন শেষে ১০০ টাকা মূল্যের টিকিটে আমরা ১৫-২০ টাকা পাই। এটা অনেক বড় বৈষম্য, পৃথিবীর কোথাও এমন সিস্টেম নেই। কত টাকার টিকিট বিক্রি হলো তার স্পষ্ট চেহারা পাওয়ার উপায়ও নেই। অ্যানালগ সিস্টেম হওয়ায় হল মালিকের পাঠানো ডাটার ওপর নির্ভর করতে হয়। আমরা নিজেরা কোনো ডাটা ক্রিয়েট করতে পারি না। কাকরাইলে পরিবেশনার জায়গা থেকে অনেক রকম খরচ আছে, সবই প্রযোজককে বহন করতে হয়। সব মিলিয়ে প্রযোজক যদি গ্রস টিকিট সেলের ১৫-২০ শতাংশ টাকা পায়, তাহলে এটাকে কিভাবে লাভজনক জায়গায় নিয়ে যাবে? এ কারণে ছবি সফল হওয়ার পরও প্রযোজকের মুখ কালো থাকে। অথচ ভারতে ৩৫-৪০ শতাংশ টাকা প্রযোজক পান গ্রসের ওপর। আমাদের এখানে টিকিট থেকে তিন টাকা, এক টাকা করে নানা খাতে টাকা কাটা হয়। আপাতদৃষ্টিতে অনেক কম টাকা মনে হলেও এটা কিন্তু বিশাল অঙ্ক। ‘ঢাকা অ্যাটাক’র তিনজন প্রযোজক—পুলিশ পরিবার, ফ্ল্যাশ মাল্টিমিডিয়া ও থ্রি হুইলারস লিমিটেড। আয়ের একেকটা অংশ একেকজন প্রযোজক পেয়েছে। বিদেশ থেকে পাওয়া আয় একজনের, দেশের আয় আরেকজনের। ‘ঢাকা অ্যাটাক’র মূল ব্যয় আড়াই কোটি টাকা। আমার জানামতে, সিনেমা হল থেকে আমরা আড়াই কোটি টাকার মতোই পেয়েছি। এখন পত্রিকায় যিনি বলেছেন লস হয়েছে, তিনি দুই কোটি ৩০ লাখের মতো পেয়েছেন। মজার কথা হচ্ছে, এ পরিমাণ টাকা পেতে হলে টিকিট বিক্রি হতে হবে তার পাঁচ গুণ, প্রায় সাড়ে বারো কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে গ্রস আরো বেশি হওয়ার কথা। কারণ অনেক হল থেকে আমরা সঠিক হিসাবটা পাই না। আনুমানিক হিসেবে গ্রস ১৪-১৫ কোটি হওয়ার কথা। ‘ঢাকা অ্যাটাক’র পোস্টারে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের লোগো আছে, সেখান থেকে ভালো টাকা পেয়েছি। টিভি রাইটস, অনলাইন রাইটস ও বিদেশে চালানো বাবদ প্রাপ্ত অঙ্কটাও বেশ। সিনেমা হল থেকে আয়ের পরিমাণ আরো বেশি হতো যদি এতগুলো খরচের খাত না থাকত। প্রযোজকের শেয়ারের পরিমাণও বাড়ত। এখানে পরিবেশকের দোষ নেই, দোষ সিস্টেমের। ভারতে বাংলা ছবির জন্য সরকার ৮০ শতাংশ কর ছাড় দিয়েছে। ওদের টিকিট বিক্রির হিসাব স্বচ্ছ, সবাই দেখতে পারে। এগুলো করলেই বাংলাদেশের সিনেমার আয় আমরা চোখে দেখতে পাব।


মন্তব্য