kalerkantho


স্পন্দনের সন্তানেরা

১৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



স্পন্দনের সন্তানেরা

আমাদের বাবারা এই ব্যান্ডের মাধ্যমেই নাম করেছিলেন। তাঁদের গান সে সময় মুখে মুখে ছড়িয়ে গিয়েছিল।

চার দশক পর স্পন্দনের হাল ধরেছেন ব্যান্ডটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের উত্তরসূরিরা। পহেলা বৈশাখে আসবে তাঁদের নতুন অ্যালবাম ‘দিল ঈশ্বরে’; যেটির মাস্টারিং করেছেন গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার উডি পর্নপিটাকসুক। লিখেছেন  রবিউল ইসলাম জীবন

 

“১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি দুই ভাই—নাসির আহমেদ অপু ও মনসুর আহমেদ নিপু এবং আমার বাবা ফিরোজ সাঁই মিলে ‘স্পন্দন’ গড়ে তোলেন। এরপর তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন ফেরদৌস ওয়াহিদ ও কাজী হাবলু। পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন শেখ কামাল। একসময় ব্যান্ডটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৬ সালের ২৬ মার্চ আমরা সে ব্যান্ডটি নিয়ে নতুন করে যাত্রা শুরু করেছি”—বলছিলেন ‘স্পন্দন’-এর ভোকাল ও পার্কাশান বাদক নাজিম। সঙ্গে রয়েছেন তাঁর আরো দুই ভাই নাঈম (ড্রামস) ও নিয়াজ (গিটার)। রয়েছেন কাজী হাবলুর ছেলে কাজী আনান (ভোকাল ও গিটার)। দলের অন্য সদস্য হলেন শিশির (বেজ)। আরো যোগ হচ্ছেন পুষ্প (গিটার)।

নাজিম বলেন, ‘আমাদের বাবারা এই ব্যান্ডের মাধ্যমে নাম করেছিলেন। তাঁদের গান সে সময় মুখে মুখে ছড়িয়ে গিয়েছিল। এ প্রজন্মের অনেকেই তা জানে না। সে বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা তাঁদের সন্তানরা নতুন করে ব্যান্ডটির যাত্রা শুরু করেছি। আমরা চাই আমাদের মাধ্যমে তাঁদের স্বপ্নটা সবার মাঝে ছড়িয়ে যাক।’

সেই স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ হিসেবে ‘স্পন্দন’ নিয়ে আসছে নতুন অ্যালবাম ‘দিল ইশ্বরে’; যাতে গান থাকছে ৯টি। এর মধ্যে স্বনামে প্রকাশিত ব্যান্ডটির প্রথম অ্যালবামের ‘স্কুল খুইলাছে’, ‘মন তুই চিনলি না রে’, ‘বাবা ভাণ্ডারী লাইন ছাড়া চলে না রেলগাড়ি’ এবং ‘গাউসুল আজম বাবা’ নতুন সংগীতায়োজনে করা হয়েছে। চারটি গান মৌলিক—‘শোনোইয়া নাই’, ‘হিসাবী মহাজন’, ‘তুমি  আমি’ ও ‘গাঁজায় গজল’। এ ছাড়া ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’ গানটি নিজেদের মতো করে গেয়েছেন তাঁরা। নাঈম বলেন, “বাবাদের গানগুলো আমাদের প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই তাঁদের চারটি গান নতুনভাবে করেছি। তাঁরা যখন গানগুলো করেছিলেন তখন রেকর্ডিং, মাস্টারিং থেকে শুরু করে পুরো উপস্থাপনটা ছিল ভিন্ন। সুরটাকে ঠিক রেখে বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা গানগুলোর সংগীতায়োজন ও রেকর্ডিং করেছি। এর ফলে নতুন শ্রোতারা গানগুলোর সঙ্গে সহজেই কানেক্ট করতে পারবে। এর ফলে গানগুলো আরো বহু বছর বেঁচে থাকবে বলে আমাদের বিশ্বাস। মৌলিক গানগুলোতে নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি। আর ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’ গেয়েছি দেশের প্রতি ভালোবাসার জায়গা থেকে।” আসছে পহেলা বৈশাখে জি-সিরিজের ব্যানারে প্রকাশ পাবে অ্যালবামটি। সিডির পাশাপাশি এলপি আকারেও গানগুলো প্রকাশের চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা। নাজিম বলেন, ‘এখন সবাই  সিঙ্গেল গানের দিকে ঝুঁকছে। তার পরও আমরা এ পথে হাঁটছি। কারণ এতে অ্যালবামটিকে অন্ততপক্ষে স্যুভেনির হিসেবে রাখা যাবে। গানের সঙ্গে একটা বইও দেব। সেখানে ব্যান্ডটির ইতিহাস ও গানগুলোর পেছনের কথা দেওয়া থাকবে, যাতে যে কেউ এটা সংগ্রহে রাখতে পারে।’

চমকপ্রদ খবর হলো অ্যালবামটির মাস্টারিং করছেন গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী থাইল্যান্ডের সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার উডি পর্নপিটাকসুক। ‘লুইস আর্মস্ট্রং-দ্য কমপ্লিট হট ফাইভ অ্যান্ড হট সেভেন রেকর্ডিংস’ অ্যালবামের জন্য ৪৩তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। কয়েক দিন আগে উডির স্টুডিওতে গিয়ে কাজটি করে এনেছেন আনান, নাজিম ও নাঈম।

আনান বলেন, ‘থাইল্যান্ডের এক শিক্ষকের কাছে আমি সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং শিখেছি। সেই শিক্ষকের শিক্ষক উডি। তাঁর মাধ্যমেই উডির কথা জানতে পারি। উডির মতো একজন আমাদের অ্যালবামের মাস্টারিং করে দিয়েছেন, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। নতুন একটা সাউন্ড এনে দিয়েছেন তিনি। শুনলেই সবাই সেটা বুঝতে পারবেন। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি আমাদের গানগুলো বেশ পছন্দ করেছেন।’

অ্যালবামটি সামনে রেখে দেশে ও দেশের বাইরে কনসার্ট করার পরিকল্পনা করছে ‘স্পন্দন’। এরই মধ্যে প্রায় ৩০টি শোতে গান করেছেন তাঁরা। গেয়েছেন কয়েকটি টিভি লাইভেও। নিয়াজ বলেন, ‘টিভি লাইভে বাবাদের গানগুলো করতে গেলে যখন বিদেশ থেকে সবাই ফোন করে সে সময়কার ভালো লাগার কথাগুলো জানান, তখন খুব ভালো লাগে। আমরা সেই জায়গাটাকে ধরে রাখতে চাই। যোগ করতে চাই নতুন কিছু।’



মন্তব্য