kalerkantho


‘শ্রোতাদের রুচি বদলে গেছে’

অনেক জনপ্রিয় গানের শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী। এখনো গেয়ে চলেছেন। তাঁর মুখোমুখি হয়েছেন আতিফ আতাউর

১৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



‘শ্রোতাদের রুচি বদলে গেছে’

সাত বছর আগে সর্বশেষ রবীন্দ্রসংগীত গেয়েছিলেন ‘যখন ভাঙল মিলনমেলা’ অ্যালবামে। সম্প্রতি আবার একটি রবীন্দ্রসংগীত গাইলেন...

সেবার পুরো একটি অ্যালবাম করেছিলাম। এবার গেয়েছি একটি গান—‘আজ ধানের ক্ষেতে’। এখন গানটির ভিডিও করা হবে, অংশ নেবে বাচ্চারা। রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২৫ বৈশাখে গান ও ভিডিওটি প্রকাশ করবে বাংলা ঢোল।

 

এই দেরির কারণ কী?

রবীন্দ্রনাথের গান করি প্রাণের তাগিদে। এর সঙ্গে বাণিজ্যিক ভাবনা জড়িত নয়। 

 

এখনকার ব্যস্ততা কী নিয়ে?

বাংলাভিশনে দীর্ঘদিন ধরে গানের একটি অনুষ্ঠান করি—‘গানে গানে দেশে দেশে’। বিভিন্ন চ্যানেলে নানা রকম অনুষ্ঠানে যেতে হয়। আমার একজন প্রিয় গীতিকার মাহফুজুর রহমান, তিনি নিউ ইয়র্ক থাকেন। এবার নিউ ইয়র্কে যাওয়ার পর তিনি কিছু গান দিয়েছেন। এটা নিয়েও একটু ব্যস্ততা আছে। এ ছাড়া বর্তমান বিশ্ব মানবতার যে সংকট চলছে—রোহিঙ্গা সংকট, সিরিয়া পরিস্থিতি; সে বিষয়েও আমার একটি গান আসছে।

 

মঞ্চে এখন গান পরিবেশন করেন?

দীর্ঘদিন মঞ্চে গান করিনি। তবে এখন বেছে বেছে কিছু অনুষ্ঠানে গান করছি। মঞ্চে গান গাওয়ার যে মজা তা অন্য কোথাও গেয়ে পাওয়া যায় না। দেশে ও দেশের বাইরে ইদানীং বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে গেয়েছি।

 

গত বছর আপনার ৪৫টি গানের সংকলন বের হয়েছিল। সে রকম আর কোনো পরিকল্পনা—

বেশ সময় নিয়ে অ্যালবাম সংকলনের কাজটি করেছিলাম। গান বাছাই নিয়েও প্রচুর ভাবতে হয়েছিল। অ্যালবামটি করতে গিয়ে বেশ বিপদেই পড়ে গিয়েছিলাম। তার কারণ জীবনে এত গান গেয়েছি! কোনটা বাদ দিয়ে কোনটা রাখব ভেবে পাচ্ছিলাম না। ষাটের দশকের আধুনিক বাংলা গানগুলোকেই প্রাধান্য দিয়েছি। তার কারণ এসব গানের কোনো আর্কাইভ ছিল না। রেকর্ডগুলোও নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। সেগুলো নতুন করে গেয়েছি। শ্রোতারা বেশ পছন্দ করেছে। বাংলা ঢোল ইতিমধ্যে বাকি গানগুলো নিয়ে সংকলন করার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু সময় করতে পারছি না। 

 

এখনকার শিল্পীরা হরহামেশাই অন্যের গান রিমেক করছেন। আপনার ক্যারিয়ারে কি এ রকম উদাহরণ আছে?

জীবনে কখনোই অন্যের গানে কণ্ঠ দিইনি। যখন থেকে প্রফেশনালি গাওয়া শুরু করেছি, তখন থেকেই নিজের গান ছাড়া অন্যের গান গাওয়ার আমার প্রয়োজনও পড়েনি। নিজেরই এত অজস্র গান, অন্যের গানে কণ্ঠ দেওয়ার সময় কোথায়!

 

একটা সময় চলচ্চিত্রে নিয়মিত গাইতেন। এখন প্লেব্যাকে আপনাকে কম পাওয়া যাচ্ছে...

সময় বদলেছে, শ্রোতাদের রুচিও বদলে গেছে। সেই সময়ের চলচ্চিত্রের সঙ্গে এখনকার চলচ্চিত্রের বিস্তর ফারাক। এ কারণেই আর আগের মতো চলচ্চিত্রে গাওয়া হচ্ছে না। তবে একেবারেই যে গাইছি না তা নয়। গত বছরও কয়েকটি চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছি।

 

মেয়ে তনিমা হাদীর অ্যালবাম ‘এই কি জীবন’ প্রকাশিত হলো গত বছর। মেয়ের গান সম্পর্কে বাবার মূল্যায়ন কী?

ওর গানগুলো তো ১৫ বছর আগে করা। আইয়ুব বাচ্চু সুর করেছিলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে যারা গানটি ক্যাসেটে রেকর্ড করল তারা একটি ক্যাসেটও বাজারে ছাড়েনি। কেন ছাড়েনি এ রহস্য এখনো আমার কাছে অনাবৃত। এ জন্য আমার মনে একটু দুঃখ ছিল। কারণ তনিমা নিজের মেয়ে বলে বলছি না, ও গাইলে প্রথম সারিতেই থাকত বলে আমার বিশ্বাস। বাংলা ঢোল নতুন করে তনিমার অ্যালবামটি প্রকাশ করে এবং বেশ ভালো সাড়া মিলেছে। তনিমা লেখাপড়ায়ও ভালো ছিল। ডক্টরেট করেছে, এখন নিউ ইয়র্কে একটা ইউনিভার্সিটিতে লেকচারার।

 

আপনি তো বেড়াতে খুবই ভালোবাসেন...

খুউব। এই তো দিন পনেরো আগে আফ্রিকা ঘুরে এলাম। কেনিয়ার সাফারি পার্কগুলোসহ দেশটির পুরোটাই ঘুরে ঘুরে দেখেছি। খুবই চমৎকার একটি অভিজ্ঞতা হলো। দেখার পর আফ্রিকা সম্পর্কে আমার আগের ধারণা পুরোটাই পাল্টে গেছে। এখন এই ভ্রমণ নিয়ে লিখব।

 

পত্রিকায় বেশ কয়েকবার লিখতে দেখা গেছে আপনাকে...

প্রথম আলোতে আমার কলাম বেরিয়েছিল কয়েক বছর আগে। আবার একটা নতুন কলাম শুরু করব। তবে এটা হবে বিষয়ভিত্তিক। বাংলাদেশের সব মূল সমস্যার কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত জনসংখ্যা। এটা আমার বিশ্বাস। যে যত কথাই বলুক কর্মীর হাত বানাব, এত কর্মীর হাতে কর্ম দেওয়ার ক্ষমতা কারো নেই। এবং কর্ম দিতে না পারলে কর্মীদের হাত অপকর্ম করবেই। যা হচ্ছে এখন। আমি এটা নিয়ে লেখালেখি আগেও করেছি। খুব শিগগির এ বিষয়ে আরেকটা লেখা বেরোবে। তবে লেখালেখি আমার মুখ্য উদ্দেশ্য নয়, শিল্পী হিসেবেই বেঁচে থাকতে চাই। 

 

আপনার আত্মজীবনীর কী খবর?

তারকালোক পত্রিকার চাপে পড়ে বায়োগ্রাফি লিখতে শুরু করেছিলাম। ১৬-১৭ পর্ব বোধহয় লিখেছিলাম। প্রকাশও হয়েছিল। নামটা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। তারপর পত্রিকাটা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর এগোনো হয়নি। আমি খুব অলস। মনে হয়, লিখব-লিখব। তারপর এটা-ওটা করে আর হয় না।



মন্তব্য