kalerkantho


নতুন প্রেক্ষাগৃহ

কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাজ

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাজ

লায়ন শপার্স ওয়ার্ল্ডের বাইরের চিত্র

পুরান ঢাকার বাবুবাজার ব্রিজ থেকে নেমে হাতের ডান দিকে তাকালে চোখে পড়ে আধুনিক এক শপিং মল—‘লায়ন শপার্স ওয়ার্ল্ড’। কেরানীগঞ্জের এই শপিং মলে তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক চারটি সিনেপ্লেক্স। ১ মার্চ থেকে দুটি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে ছবি। সরেজমিনে গিয়ে দেখে এলেন সুদীপ কুমার দীপ

 

শপিং মলের ভেতরে হাজার ক্রেতার ভিড়। শোরুমগুলোও বেশ সাজানো-গোছানো। আছে লিফট ও এসকেলেটরের ছড়াছড়ি। পুরো শপিং মলটি দেখভাল করছেন মাহফুজুর রহমান। শুরুতে কথা হলো তাঁর সঙ্গে। জানা গেল, এখানে আছে জিম, সুইমিং পুল, গেম জোন, ফুড কোর্টসহ আধুনিক সব ব্যবস্থা। ক্রেতারা নগদ টাকায় নয়, কেনাকাটা করবে কার্ডের মাধ্যমে। আর সেই কার্ড সরবরাহ করবে মল কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ মলের ভেতরে ঢুকে কর্তৃপক্ষকে টাকা দিয়ে কার্ড নিতে হবে। সেই কার্ডে কেনাকাটা করে যদি টাকা বেঁচে যায় ফিরিয়ে দেবে কর্তৃপক্ষ।

মাহফুজুরের সঙ্গে কথা বলতে বলতে হাজির হলেন শপিং মলের কর্ণধার মির্জা আব্দুল খালেক। একসময়কার ঢাকাই চলচ্চিত্রের দাপুটে প্রযোজক। ‘ঘরনী’, ‘প্রতিহিংসা’, ‘অবদান’, ‘লোভ লালসা’সহ ২০টির অধিক ছবি নির্মাণ করেছেন তিনি। ইসলামপুরের ‘লায়ন সিনেমা’ হলেরও মালিক ছিলেন। কুশল বিনিময় শেষ করে নিয়ে গেলেন তাঁর রুমে। জানালেন, শপিং মলটি করার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এখানে চারটি সিনেপ্লেক্স করবেন। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পেরে দারুণ খুশি তিনি, ‘সিনেপ্লেক্স চারটির একটি থ্রিডি। পর্দাগুলো নিয়েছি ভারতের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে। প্রজেক্টরগুলো বার্কোর। চলবে প্যানাসনিক ও কিউবের সার্ভারে।’ একটু পরে সিনেপ্লেক্সগুলো ঘুরে দেখাতে নিয়ে গেলেন খালেক। বেশ বড় পরিসর। ঢুকতেই চোখ আটকে গেল সুন্দর ইন্টেরিয়রে। দামি টাইলস বসানো, চারপাশে থাই গ্লাস। টিকিট কাউন্টার চারটি। সিনেপ্লেক্স চারটির দুটির কাজ শেষ হলেও বাকি দুটির কাজ কিছুটা বাকি। খালেক জানালেন, প্রতিদিন ২৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন। সামনের মাস থেকেই ছবি চলবে।

একটি সিনেপ্লেক্সের ভেতরে ঢুকতেই দেখা গেল সুন্দর কার্পেট মোড়ানো মেঝে। লাল রঙের চেয়ারগুলোও দেখতে বেশ। খালেক বললেন, ‘দর্শকদের আরামের কথা ভেবে এই চেয়ারগুলো নিয়েছি। প্রতিটি চেয়ারের দাম পড়েছে ৯ হাজার টাকা।’ দেয়ালে সুন্দর করে রাখা সাউন্ডবক্স, সনি থিয়েটার সাউন্ড সিস্টেম। আনা হয়েছে সিঙ্গাপুর থেকে। প্রতিটা সিনেপ্লেক্সে রয়েছে ৬৪ টন এসি। আছে এক্সিট ও এন্ট্রির আলাদা আলাদা পথ। সিনেপ্লেক্সকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ফুড কোর্ট। ওয়াশরুমগুলোতে আছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। ঢাকার তুলনায় কেরানীগঞ্জে উচ্চবিত্তের সংখ্যা কম, সেটা ভেবে টিকিটের দাম রাখা হয়েছে তিন ক্যাটাগরিতে—দুই শ, আড়াই শ ও তিন শ টাকা। টিকিটের সঙ্গে থাকবে পপকর্ন ও ড্রিংকস ফ্রি।

খালেক বললেন, ‘এই এলাকায় এমন শপিং মল আর নেই। এলাকার বেশির ভাগ সমৃদ্ধ পরিবারের সদস্যরা এখানে কেনাকাটা করতে আসেন। শপিংয়ের ফাঁকে বিনোদন পেতে অবশ্যই একবারের জন্য হলেও সিনেপ্লেক্সে ঢুঁ মারবেন, এই বিশ্বাসে এতগুলো সিনেপ্লেক্স করার সাহস দেখিয়েছি। তা ছাড়া আমি আগাগোড়াই চলচ্চিত্রপ্রেমী। একটা দায় তো আছেই।’

ইসলামপুরের ঐতিহ্যবাহী হল ‘লায়ন’ প্রসঙ্গও এলো। ভবনটি পুরনো হওয়ায় ভেঙে নতুন ভবন তৈরি করেছেন। বর্তমানে এলাকাটি জনবহুল ও চলাচলের অযোগ্য প্রায়। তা ছাড়া পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় সেখানে আর হল করতে চাননি। অবশ্য ফার্মগেটে বড় একটা জায়গা আছে খালেকের। সেটির কনস্ট্রাকশনের কাজ শুরু হবে এ বছরের মাঝামাঝি। যদি ‘লায়ন সিনেমাজ’ সফল হয় তাহলে সেখানে অন্তত পাঁচটি সিনেপ্লেক্স করবেন বলে জানালেন। কথা বললেন চলচ্চিত্র ব্যবসা নিয়েও, ‘সারা দেশে হলের সংখ্যা দিন দিন কমছে, এটা সত্য। কিন্তু হলের চেয়েও আনুপাতিক হারে কমছে ছবি নির্মাণ। কেরানীগঞ্জের সিনেপ্লেক্সগুলোতে নিয়মিত ছবি পাব কি না তা নিয়েই সন্দেহ আমার। সিনেপ্লেক্সের দর্শকদের রুচি ভিন্ন। তাঁরা টাকা দিয়ে বস্তাপচা ছবি দেখবে না। মানসম্মত ছবি চাই। সে ধরনের ছবি বছরে কয়টা হচ্ছে?’

‘লায়ন সিনেমাজ’-এ কাজ করছেন ৪০ জন স্টাফ। এখন চলছে নিজস্ব অনলাইন পেজ তৈরির কাজ। ১ মার্চ থেকে অনলাইনে টিকিট ছাড়া হবে। ঘরে বসেই টিকিট কাটতে পারবে দর্শক। থাকবে প্রিমিয়ারের ব্যবস্থাও। কোনো পরিচালক-প্রযোজক যদি তাঁর ছবির প্রিমিয়ার করতে চান সে ব্যবস্থাও করবে ‘লায়ন সিনেমাজ’। দেশের একটি দৈনিক পত্রিকা, টিভি চ্যানেল ও এফএম রেডিও’কে মিডিয়া পার্টনার করবে লায়ন। সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছেন চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান প্রযোজক সমিতির উপদেষ্টা মিয়া আলাউদ্দিন।

কী ধরনের ছবি চালাবেন? খালেক বলেন, ‘চেয়েছিলাম চারটি সিনেপ্লেক্সেই দেশি ছবি চলুক। কিন্তু এত নতুন ছবি পাব কই। তাই একটি হল থ্রিডি করেছি, যাতে হলিউডের ছবিও প্রদর্শন করা যায়।’


মন্তব্য