kalerkantho


‘আগে মানুষ গানের কাছে যেত এখন গান মানুষের কাছে আসছে’

‘চলো না’র পর বছরের দ্বিতীয় মিউজিক ভিডিও ‘তোমার চোখে জল’ প্রকাশ করেছেন হাবিব ওয়াহিদ। নতুন কাজ এবং আরো অনেক কিছু নিয়ে তাঁর মুখোমুখি হয়েছিলেন রবিউল ইসলাম জীবন। ছবি তুলেছেন সাইফুল রাজু

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘আগে মানুষ গানের কাছে যেত এখন গান মানুষের কাছে আসছে’

আমরা এখন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বাংলা গানগুলোকে অনেক ফলো করছি। বলিউডকে মনেপ্রাণে যতটুকু ফলো করতে চাই ততটুকু ফলো করতে পারছি না। এটা খুব নেগেটিভ একটা বিষয়

‘তোমার চোখে জল’ গানটির ভিডিওতে আপনি বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ।

ভিডিওটির আইডিয়া শাহরিয়ার পলক ভাইয়ের। ভিডিওর কনসেপ্টের পরই গানটা বানাই। গীতিকার গুঞ্জন রহমান, পলক ভাই এবং আমি—তিনজন মিলে ফোনে কনভারসেশন করে পুরো ভিডিওর আইডিয়া শেয়ার করি। তারপর সুরের ওপর কথা লেখা হয়। এর আগে ‘চলো না’র ক্ষেত্রে বিষয়টি ঘটেছিল। কল ছাড়লে পানিটা সোজা পড়বে এটা ন্যাচারাল, কিন্তু আপনি যদি পাইপ লাগিয়ে এটাকে অন্যদিকে নিয়ে যান তাহলে পানিও অন্যদিকে যাবে। ঠিক তেমনই, বৈচিত্র্য আনার জন্যই আগে ভিডিওর কনসেপ্ট ঠিক করেছি, তারপর গান।

 

ভিডিওটিতে আপনার অভিনয় প্রশংসা কুড়াচ্ছে। অনেকেই বলছেন অভিনয় করলে ভালো করবেন। তেমন কোনো ইচ্ছা আছে নাকি?

এখনই অভিনয়ের জন্য প্রস্তুত নই। তবে অনেকেই প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁদের বলেছি, যদি ওয়েব বেইজড ১০-১২ মিনিটের শর্টফিল্ম হয় আমি রাজি। নাসিরউদ্দিন শাহ্র একটি শর্টফিল্ম খুব হিট করেছে। এ রকম কিছু হলে করা যায়। তানিম রহমান অংশু ভাই এবং শাহরিয়ার পলক পরিকল্পনা করছেন। হয়তো এ বছরই হয়ে যাবে।

 

২০০৩ সালে ‘কৃষ্ণ’ অ্যালবাম দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। তখন ছিল অডিও গানের দাপট। আপনার নিজেরই করা অনেক গান জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এখনকার বাজার ভিডিওনির্ভর।

আমি এভাবে চিন্তা করি না। এ নিয়ে আমার কোনো আফসোস নেই। তাহলে তো টিঅ্যান্ডটি ফোন নিয়েও আফসোস করতে হবে। একসময় আমরা টিঅ্যান্ডটি ফোনে কথা বলতাম। একটা ফোনের জন্য বসে থাকতাম। ফোন করব ভাবলেই ভেতরে অন্য রকম অনুভূতি হতো। এখন সেটা নেই। মোবাইল চলে এসেছে। আর অডিও কিন্তু অডিওর জায়গাতেই আছে। জাস্ট ভিডিও যোগ হয়েছে। আমি বলব, এটাই বাস্তবতা। তখন মানুষকে একটা গানের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। চাইলেই কেউ ১০০টি গান পেত না। এখন একটা চাপ দিলেই হাজার হাজার গান হাতের মুঠোয় চলে আসছে।

 

অডিওর তুলনায় ভিডিওর দিকে বেশি মনোযোগ চলে যাচ্ছে না? 

মানুষের যদি ডিমান্ড থাকে তাহলে বেশি ভিডিও এনজয় করবে। এমনও কিছু গান হচ্ছে যেগুলোর লিরিক ভিডিওই লাখ লাখ ভিউ হচ্ছে। অর্থাৎ গানের মতো গান করতে পারলে মানুষ শোনে। তবে এটা খুব কঠিন। হাজার হাজার ভিডিওর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয়। অডিওতে সে গানই বের হয়ে আসবে যেটার মধ্যে সেই লেভেলের ডেপথ আছে। প্রচারও একটা বিষয়। এত চ্যানেল এত মাধ্যম। আগে মানুষ গানের কাছে যেত, সিডি কিনত। এখন গানই মানুষের কাছে আসছে। সবাই অপেক্ষা করে কখন নোটিফিকেশন আসবে। দোকান বলতে কিছু নেই। ফোনটাই হচ্ছে টোটাল স্টেশন।

 

সামনে নতুন কি কাজ আসছে?

পহেলা বৈশাখে গানচিলের ব্যানারে একটি গান করার কথা। সাউন্ডটেকের ব্যানারেও একটি গান করব। নিজের চ্যানেলের জন্য নিজের মতো করে একটি গান করেছি। সময় সুযোগ বুঝে ছাড়ব। ন্যানিসর সঙ্গেও একটি গান করা আছে। সামনে ভিডিও আকারে আসবে। ‘মায়া’ অ্যালবামের ১৪ বছর পর হেলালের জন্য একটি নতুন গান করছি। এটিও ফোক। 

 

সাজিদ সরকার ও প্রীতম হাসান দুজনেরই অনুপ্রেরণা আপনি। দুজনই খুব ভালো করছেন...

সাজিদ খুব ভালো সংগীত পরিচালক, ভালো করছে। শ্রোতারা নিয়মিত যে ধরনের গান শুনতে চায় তার মধ্যে সে ব্যাপারটি আছে। তার নিজের সুর করা গান তেমন শুনিনি। তবে কম্পোজিশন দারুণ। প্রীতম একেবারেই ব্যতিক্রম। কারণ তার রক্তের মধ্যেই মিউজিক। প্রতিটি জিনিস সে ব্যতিক্রম করার চেষ্টা করে। ওর সব গানের ভিন্নতা আছে, যা ব্যক্তিগতভাবে আমাকে অনেক নাড়া দেয়।

 

আপনি নাকি মাঝে মাঝে গান থেকে দূরে চলে যান?

হ্যাঁ। মাঝে মাঝে গানকে একদম ভুলে যাই। দূরে কোথাও ঘুরতে চলে যাই। এটা ইচ্ছা করেই। ভুলে যাই যে আমি একজন মিউজিশিয়ান। তখনই ভেতর থেকে আবর্জনা ক্লিয়ার হয়। হার্ডডিস্ক রিফ্রেশ করার মতো। কোনো জিনিসকে আপনি যখন মিস করবেন তখনই তার প্রতি টান আসবে, আসল জিনিসটা বের হবে। দেশ-বিদেশের অনেক জায়গায় ঘুরতে গেছি। এভাবে অনেক সুরও মোবাইলে রেকর্ড করেছি। সামনে হয়তো এগুলো প্রকাশ করব। সর্বশেষ মাকে নিয়ে গিয়েছি আমেরিকায়। প্রায় এক মাস ছিলাম।

 

আপনার বাবার (ফেরদৌস ওয়াহিদ) সঙ্গে নতুন কোনো কাজের পরিকল্পনা আছে?

গান তো করেছি। ছোটবেলা থেকেই তো তাঁকে গান করতে দেখি। গানের কথা ভাবলে মনে হয় ঘরের মানুষই তো। তাই সিরিয়াসনেসটা আসে না। জিঙ্গেলসহ কিছু গান করেছি ক্লায়েন্টের চাহিদার কারণে। এখন আমার ইচ্ছা বাবার সঙ্গে একটি শর্টফিল্মে অভিনয় করার। ‘ডেঞ্জারম্যান’সহ কিছু কাজ তিনি করেছেন। অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহও আছে। ইদানীং আমারও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মনে হচ্ছে দুজন একসঙ্গে মজার কিছু করতে পারব। মানুষও গানের চেয়ে অভিনয়টাই বেশি এনজয় করবে।

 

চলচ্চিত্রে কাজ কমিয়ে দিয়েছেন নাকি?

ব্যতিক্রমী চলচ্চিত্র না হলে কাজ করতে চাই না। কারণ আমার নিয়মিত মিউজিক ভিডিও আসছে। নিজের ভিডিওতে নিজে থাকছি আবার যদি একই ভয়েস নায়কের সঙ্গে যায় তখন একটু ক্ল্যাশ হতে পারে। সঠিক গল্প কিংবা চরিত্র হলে ঠিক আছে। আরেকটা সমস্যা হলো, আমার গলা অনেকের সঙ্গে ম্যাচ করে না। এটা আমার বড় একটা কষ্ট। চলচ্চিত্রের নায়কদের সঙ্গে যায় চিকন গলা। যেমন ইমরান।

 

ইন্টারন্যাশনালি চিন্তা করলে বাংলাদেশের মিউজিক এখন কোন পর্যায়ে আছে বলে মনে করেন?

আমরা ভালোই পিছিয়ে আছি। আমরা এখন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বাংলা গানগুলোকে ফলো করছি। বলিউডকে মনেপ্রাণে যতটুকু ফলো করতে চাই ততটুকু ফলো করতে পারছি না। এটা খুব নেগেটিভ একটা বিষয়। বলিউডকে আরো ভালোভাবে ফলো করতে পারলে আমাদের গান আরো ওপরে উঠবে। আমাদের শ্রোতারা যদি এটাই পছন্দ করে তবে সমস্যা নেই। কিন্তু বলিউডের সাউন্ড ব্রেক করা সহজ নয়। বলিউডে যে পরিমাণ রিসোর্স আছে, রিসার্চ আছে, যে পরিমাণ টিম কাজ করে তা আমাদের এখানে আসতে দেরি আছে। কিছু কিছু মানুষ নিজ উদ্যোগে করে যাচ্ছে। যেমন প্রীতম হাসান। আশা করি ধীরে ধীরে আমরাও একদিন অনেক এগিয়ে যাব।



মন্তব্য