kalerkantho


কালো চিতার আগমন

প্রথমবারের মতো আফ্রিকান-আমেরিকান সুপারহিরো নিয়ে আসছে মার্ভেল। ঘোষণার পর থেকেই ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ নিয়ে তাই উত্তেজনার শেষ নেই। ছবিটি নিয়ে লিখেছেন হাসনাইন মাহমুদ

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কালো চিতার আগমন

পোশাকে আমেরিকান পতাকার আদলে লাল কিংবা নীল রঙের উপস্থিতি, ককেশিয়ান কোনো হিরো একের পর এক দুষ্টু লোককে শায়েস্তা করে পৃথিবীকে বারবার বিপদের হাত থেকে রক্ষা করছে—এটাই হলিউডের জনপ্রিয় ঘরানা সুপারহিরো চলচ্চিত্রের নিয়মিত দৃশ্য। মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের ১৭টি চলচ্চিত্র মুক্তি পাওয়ার পর অষ্টাদশ চলচ্চিত্রে প্রথমবারের মতো আসছে বদল, যেখানে মূল চরিত্রে একজন আফ্রিকান সুপারহিরো, ব্ল্যাক প্যান্থার। পাশ্চাত্যবাদের প্রবল প্রসারের এই সময়ে রুপালি চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টরা যাকে আখ্যা দিচ্ছেন এক নতুন বিপ্লব হিসেবে, যার তুলনা চলছে বারাক ওবামার আমেরিকার রাষ্ট্রপতির আসনে বসার সঙ্গে! মার্ভেলের জনপ্রিয় চরিত্র ব্ল্যাক প্যান্থারকে প্রথম রুপালি পর্দায় দেখা যায় ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা : সিভিল ওয়ার’-এ।

এবারের চলচ্চিত্রটির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে আফ্রিকার রহস্যময় দেশ উগান্ডায়। গল্প দেশটির রাজপুত্র টি-চালা ওরফে ব্ল্যাক প্যান্থারের নিজ দেশে ফেরত আসাকে ঘিরে। বাবার মৃত্যুর পর সিংহাসনে টি-চালার ন্যায্য অধিকারকে বাধাগ্রস্ত এবং উগান্ডার পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে দুটি শক্তি বিশৃঙ্খলা শুরু করে। তাদের চক্রান্ত এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে থামাতে না পারলে শুরু হয়ে যাবে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ। ব্ল্যাক প্যান্থার তাই তাঁর মিত্রদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশ তথা বিশ্ব রক্ষার লড়াইয়ে। ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ শুধু নায়কোচিত বীরত্বে ভরপুর একটি সুপারহিরো চলচ্চিত্র নয়, এতে রয়েছে আফ্রিকার রাজনীতি ও সংকটের বিভিন্ন রূপের একটি সংমিশ্রণও। চলচ্চিত্রটিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন চ্যাডউইক বসম্যান। আরো দেখা যাবে মাইকেল বি জর্ডান, লুপিতা নিয়ঙ্গ, মার্টিন ফ্রিম্যানের মতো তারকাদের। চলচ্চিত্রটি নিয়ে প্রচণ্ড উত্তেজিত নাকিয়া চরিত্রে রূপদানকারী অস্কারজয়ী অভিনেত্রী লুপিতা নিয়ঙ্গ, ‘এটি শুধু একটি চলচ্চিত্রই নয়, দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতিত আফ্রিকার জনগণের জন্য একটি অনুপ্রেরণাও।’

নব্বইয়ের দশক থেকে ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ নির্মাণের পরিকল্পনা চললেও প্রথম আলোর মুখ দেখছে পরিচালক রায়ান কুগলারের হাত ধরে। তিনি বলেন, ‘আমি শুধুই একটি সুপারহিরো চলচ্চিত্র বানাতে চাইনি, চেয়েছিলাম একটি পরিপূর্ণ চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে। প্রধান তারকা চ্যাডউইক বসম্যান সম্পর্কে তাঁর অভিমত, ‘চরিত্রটি তাঁকে ছাড়া পূর্ণই হতো না।’ মুক্তির আগে থেকে চলচ্চিত্রটি নানা কারণে শিরোনামে। কিছুসংখ্যক ডিসি ভক্ত অনলাইনে চলচ্চিত্রটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে। অন্যদিকে সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে বঞ্চিত শিশুদের প্রেক্ষাগৃহে দেখার সুযোগ করে দিতে শুরু হয় তহবিল গঠন। ইতিমধ্যে ৩০টি দেশ থেকে সে তহবিলে জমা পড়েছে তিন লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ!



মন্তব্য