kalerkantho


বহু কাজের কাজি

পাঞ্জাবের মেয়ে হলেও রাকুলপ্রিত সিং জনপ্রিয় হয়েছেন দক্ষিণি সিনেমায়। অভিনেত্রী হলেও তাঁর আছে নানা গুণ। আগামীকাল তাঁর দ্বিতীয় বলিউড ছবি ‘আইয়ারি’ মুক্তি উপলক্ষে অভিনেত্রীকে নিয়ে লিখেছেন খালিদ জামিল

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বহু কাজের কাজি

আমি কোনো প্রেমের ছবি করছি না। এটা করটেন্ট নির্ভর ছবি, যেখানে প্রতিটি চরিত্রই গুরুত্বপূর্ণ। কাকে কতক্ষণ পর্দায় দেখা গেল সেটা দিয়ে চরিত্রের ওজন মাপা যাবে না।

রাকুলপ্রিত সিংয়ের নামটা বাবা রাজেন্দর সিং ও মা কুলেন্দর সিং দুজনের নাম মিলিয়ে। নাম শুনলে যে কেউ সহজেই বুঝে নেবেন তিনি পাঞ্জাবি; যদিও রাকুলপ্রিতের পরিচিতি তামিলকন্যা হিসেবেই! তামিল সিনেমাজগতে অতি পরিচিত মুখ হওয়ায়ই নিজেদের ঠিকানা বদলে এখন হায়দরাবাদেই থাকছেন। তামিল সিনেমায় নিয়মিত দেখা গেলেও তাঁকে দেখা গেছে বলিউডেও। বছর তিনেক আগে ‘ইয়ারিয়াঁ’ ছবি দিয়ে শুরু করেছিলেন। ছবি ব্যর্থ হওয়ায় অবশ্য এরপর দীর্ঘদিন এমুখো হননি। ‘আইয়ারি’ নিয়ে আসছেন দীর্ঘবিরতির পর। ট্রেলারে যদিও রাকুলকে খুব অল্প সময়ের জন্যই দেখা গেছে। অভিনেত্রী তা নিয়ে চিন্তিত নন, ‘আমি কোনো প্রেমের ছবি করছি না। এটা বিষয়নির্ভর ছবি, যেখানে প্রতিটি চরিত্রই গুরুত্বপূর্ণ। কাকে কতক্ষণ পর্দায় দেখা গেল সেটা দিয়ে চরিত্রের ওজন মাপা যাবে না।’   

ক্রাইম ড্রামা ধাঁচের ‘আইয়ারি’ নির্মিত হয়েছে সত্য ঘটনা অবলম্বনে। দুই কঠিন মনের আর্মি অফিসার দ্বন্দে জড়ায় তাদের ভিন্ন চিন্তাধারার কারণে। রাকুলপ্রিত ছবিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সোনিয়ার চরিত্র করেছেন।  

অনেক অভিনেত্রীর মতো রাকুলপ্রিতেরও শুরু মডেলিং দিয়ে। তখনো কলেজ শেষ হয়নি। এরপর ‘গিল’ ছবি দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক। তখন সিনেমা নিয়ে তত উচ্চাশা ছিল না, কোনো মতে ‘হাতখরচ’ উঠলেই খুশি ছিলেন। তখনো ভাবেননি, কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি হয়ে উঠবেন তামিল সিনেমার জনপ্রিয় মুখ। 

অভিনয়ের বাইরে রাকুলপ্রিত পেশাদার গলফার। খেলেছেন জাতীয় পর্যায়েও। বাবার অনুপ্রেরণায় শুরু করেছিলেন। অভিনয়ের মতো এ ক্ষেত্রেও যে এত দূর এগিয়ে যাবেন তা ভাবেননি শুরুতে, ‘একদিন যে পেশাদার গলফ খেলোয়াড় বনে যাব, সেটা চিন্তাও করিনি। অথচ মেয়েদের জাতীয় গলফেও খেললাম। যদিও জানি, ভালোবাসলেও এটা ছেড়ে দিতে হবে। কারণ আমি শোবিজজগৎ নিয়েই থাকতে চাই।’ ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারটা অবশ্য নতুন নয় অভিনেত্রীর জীবনে। একটা সময় লন টেনিসও খেলেছেন তিনি; যদিও এখন খেলার নিয়মগুলো মনেও করতে পারবেন না। সেকেন্ড গ্রেডের ছাত্রী থাকার সময়ই কারাতেতে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন, পেয়েছিলেন ব্লু বেল্টও। বড় হওয়ার পর সেটাও ছেড়েছেন। ওসব ছাড়লেও ছাড়তে পারেননি ঘোড়ায় চড়া। অভিনয়ের  ফাঁকে সময় পেলেই ঘোড়ায় চেপে বসেন। 

এত ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের ফিটনেস ধরে রাখার ব্যাপারে বেশ সচেতন রাকুলপ্রিত। তিন তিনটি জিমের সদস্য তিনি। ফিটনেসের জন্য আরেকটা কাজে বেশ নিয়মিত এই অভিনেত্রী, নাচ। সাধারণ মানুষ তো বটেই, সিনেমাপাড়ার ও অনেকেরই অজানা যে রাকুলপ্রিত ভরত নাট্যমে রীতিমতো বিশেষজ্ঞ একজন। এত সব চব্বিশ ঘণ্টায় কিভাবে করেন কে জানে!



মন্তব্য