kalerkantho


একটু আস্তে ভাই!

অস্ট্রেলিয়ায় সংগীত নিয়ে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরেছেন ছয় মাস হলো। গত সপ্তাহে প্রকাশ করলেন গানের ভিডিও ‘আস্তে’। ‘ডি রকস্টার’ খ্যাত শুভকে নিয়ে লিখেছেন ইসমাত মুমু

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



একটু আস্তে ভাই!

চার বছর ছিলেন অস্ট্রেলিয়ায়। দেশে ফিরেছেন প্রায় ছয় মাস হলো। দেশে আসার পর প্রথম কী মাথায় এলো? কী করবেন ভেবেছেন কিছু? ‘এসেই মনে হলো, এটা করব সেটা করব। এখন মনে হলো প্লেব্যাকে গেলেই ভালো হবে। নতুন করে শুরু করাটা এক রকম চ্যালেঞ্জেরও’, বললেন শুভ।

অস্ট্রেলিয়ায় পড়েছেন সংগীত নিয়ে। পড়াশোনাটাও তো কাজে লাগাতে হবে। সেই চেষ্টাই করছেন শুভ।

তিন মাস আগে প্রকাশ করেছেন ‘অতঃপর’ গানের ভিডিও। গত সপ্তাহে প্রকাশ করেছেন আরেকটি মিউজিক ভিডিও ‘আস্তে’। এটি লিখেছেন শাহান কবন্ধ। সুর ও সংগীতায়োজনে মীর মাসুম।

গানের শিরোনাম ‘আস্তে’ কেন? “কনসেপ্টটা হচ্ছে শাহান কবন্ধের। স্যোশাল মিডিয়ায় যেকোনো উপায়ে হিট হওয়ার চেষ্টা করছেন অনেকে। এ ব্যাপারটাকে ঈঙ্গিত করেই আমরা বলেছি, ‘একটু আস্তে ভাই।’ যা করতে চাইছেন সেটা আগে জানার চেষ্টা করুন।”

সঙ্গে আরো একটি ইস্যু যোগ করলেন, ‘একটা গান এখন কতটা ভালো-খারাপ তার মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ইউটিউব ভিউ’। দেখা যায়, অনেক গান কোটি ভিউয়ার্স পেয়েছে; কিন্তু গানটা নিয়ে মানুষের মধ্যে কোনো উন্মাদনা নেই। গানটা সম্পর্কে মানুষ ঠিকমতো জানেই না। ইউটিউব প্ল্যাটফর্মটাই শুধু গানটিকে হিট তকমা দিচ্ছে। ফলে অনেক বিতর্কিত বিষয়ের কনটেন্টও হিটের তকমা পেয়ে যায়। বিষয়গুলো হাস্যরসের মাধ্যমে মজা করে তুলে ধরা হয়েছে গানের ভিডিওতে।”

ভিডিওতে দেখানো হয়েছে একজন হ্যাকার একটা কম্পিউটার নিয়ে বসেছেন, আর সেটাই হলো তার পুঁজি। ভিডিওর শেষে শুভ বলছেন, ‘ওকে, অল ডান। আমি শেয়ার দিয়ে দিলাম।’ তখন আশপাশের অন্যরা বলছেন, ‘কী ভাই! এতক্ষণ না সবাইকে বললেন ‘আস্তে আস্তে’, আর এখন নিজেই সেটা করছেন। ‘মানুষের এমন দ্বৈতনীতির কথাও আছে গানটির কথা ও ভিডিওতে’, বললেন শুভ।

গানটিতে শুভর সঙ্গে র‌্যাপ গেয়েছেন দর্পণ। মিউজিক ভিডিও পরিচালনা করেছেন আসিফ ইফতেজা, ব্ল্যাক জ্যাং, স্বাক্ষর ও রীম।

মার্চে আসবে শুভর গান ‘আমি কাউকে বলিনি’র ভিডিও।

এ বছর এ রকম আরো আট-দশটা গান ও ভিডিও প্রকাশ করতে চান। ব্যান্ড ‘অ্যাপিরাস’-এর সঙ্গেও গাইছেন। কানাডার গায়ক জেননের সঙ্গে যৌথভাবে একটি গান করার কথা রয়েছে। জেনন গাইবেন ইংরেজিতে আর শুভ বাংলা ফোক পার্ট। দুটিকে ম্যাশাপ করে ইন্টারন্যাশনালি প্রকাশ করা হবে।

দীর্ঘদিন পর গানে নিয়মিত হয়ে কেমন লাগছে? ‘খারাপ লাগছে না। স্টেজ শো তো নিয়মিতই করছি। তবে সবাই সিঙ্গেল নির্ভর হয়ে যাচ্ছেন, ইউটিউব নির্ভরও। এটাই খারাপ লাগছে। একটা সময়ে আমরা অ্যালবাম কিনতাম। অ্যালবামে কে কী কাজ করলাম, লিরিকস দেখতাম। এগুলো এখন স্মৃতি হয়ে যাচ্ছে। এসব কারণে গানগুলোও শ্রোতামনে স্থায়ী হচ্ছে না। ব্যবসা কোনো না কোনোভাবে ঠিকই করা যাবে; কিন্তু গানটা তো মনের মধ্যে গেঁথে রাখার ব্যাপার, সেটার দিন হয়তো ফুরিয়ে যাচ্ছে’—শুভর কণ্ঠে আফসোস।



মন্তব্য