kalerkantho


যা পড়ছি যা পড়ব

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি, বইয়ের মাসও ফেব্রুয়ারি। চলছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। শোবিজ তারকারা জানিয়েছেন কে কী বই পড়ছেন, সামনে কী পড়বেন। শুনেছেন মীর রাকিব হাসান

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



যা পড়ছি যা পড়ব

অর্ধেক জীবন বাবরনামা

আলী যাকের

দীর্ঘদিন পর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘অর্ধেক জীবন’টা আবার পড়ছি। ১৯৩৪ সালে সুনীলের জন্মের সময় থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় পর্যন্ত [১৯৭২] নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন এই বই। বাংলাদেশের মাদারীপুর থেকে তাঁর বাবা কালীপদ গাঙ্গুলী কেন ও কিভাবে কলকাতায় গেলেন, সেখানে তাঁর বাবা কী করে একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক হলেন এবং সংসার পাতলেন সুনীলের মা মীরার সঙ্গে, তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে শুরু হয় বইটি। আমিও আত্মজীবনী লেখার চেষ্টা করছি। এগুলো পড়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করছি। প্রায় ১০ হাজার শব্দ লেখা হয়ে গেছে। হাজার চল্লিশ হলেই প্রকাশ করাব। বইটির নাম ‘মধ্যাহ্ন অপরাহ্ন’—আমার জীবনের দুপুর এবং বিকেল নিয়ে লেখা।

সামনে পড়ব বলে অনেক বই ঠিক করে রেখেছি। সেলফে বেশ কিছু বই জমে গেছে। এর মধ্যে সবার আগে পড়ার ইচ্ছা মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরউদ্দিন মুহম্মদ বাবরের আত্মকথা ‘বাবরনামা’। তিনি তো লিখতে পারতেন না। জীবনের ঘটনাগুলো তিনি বলে গেছেন, আরেকজন সেটা লিখেছেন। সম্প্রতি নিউ মার্কেট থেকে কিনেছি বইটির একটি ভার্সন। আরেকটা আছে ‘আকবরনামা’।

 

দ্য উইজডম অব অ্যান্টস

বড় শহরের ছোটগল্প

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

আমি তো সারাক্ষণই পড়ি। অবশ্য এখন বেশির ভাগ সময় অনলাইনেই পড়ি। কখনো কখনো একই দিনে তিন-চারটা বই পড়ে শেষ করি। সর্বশেষ পড়েছি রায়ান হলিডের ‘ট্রাস্ট মি আই অ্যাম লায়িং’, ওসামা বিন লাদেনের স্ত্রী ও সন্তানদের কথামালা নিয়ে ‘গ্রোয়িং আপ বিন লাদেন’। দুটিই পড়েছি আমার সিনেমার কাজের জন্য। এ মুহূর্তে পড়ছি শংকর জগনথনের ‘দ্য উইজডম অব অ্যান্টস’। পিঁপড়াদের জীবন নিয়ে লেখা। এখানে মূলত অর্থনীতি নিয়ে ‘খেলাধুলা’ আছে।

বাংলা বইয়ের মধ্যে সম্প্রতি পড়েছি মোশাহিদা সুলতানা ঋতুর উপন্যাস ‘লবণ পানি’। ভীষণ মুগ্ধ হয়েছি। তাঁর নতুন লেখা খুঁজছি। শুনেছি বইমেলায় তাঁর গল্পগ্রন্থ ‘বড় শহরের ছোটগল্প’ এসেছে। যত দ্রুত সম্ভব পড়া শুরু করব। এ ছাড়া আনিসুল হকের ‘আলো-আঁধারের যাত্রী’, মাহবুব মোর্শেদের ‘তোমারে চিনি না আমি’, কিঙ্কর আহসানের ‘রাজতন্ত্র’ পড়তে চাই। পড়তে চাই সা’দত হুসাইনের বইও। প্রবীণ-নবীনদের বই মিলেমিশে পড়ি আমি। বেশ কিছু কবিতার বইয়ের তালিকাও করেছি। সেগুলোও সংগ্রহ করতে হবে।

 

মাই নেম ইজ রেড স্নো

বন্যা মির্জা

ওরহান পামুকের ‘মাই নেম ইজ রেড’ শেষ করলাম। হাতে কিছু কাজ আছে। এগুলো শেষ হলে পামুকের ‘স্নো’টা পড়ে ফেলব।

আমি কবিতা পড়তে খুব ভালোবাসি, নিয়মিতই পড়ি। আগে একটা শেষ করে আরেকটা ধরতাম। এখন তা করি না। গাড়িতেই বই থাকে, অফিসে থাকে, হ্যান্ডব্যাগে থাকে। দেখা যায়, একই সঙ্গে তিনটা কবিতার বই পড়ছি।

 

দ্য ভেজিটেরিয়ান

ফরটি রুলস অব লাভ

মৌটুসী বিশ্বাস

শেষ করলাম হান ক্যাংয়ের ‘দ্য ভেজিটেরিয়ান’। ভীষণ ইন্টারেস্টিং। দুঃস্বপ্ন দেখার পর এক মহিলা আর মাংস খেতে পারে না। বাসার ফ্রিজ থেকে সব মাংস ফেলে দেয়। তার স্বামী বেশ অসুবিধায় পড়ে যায়। অফিশিয়াল একটা পার্টি, সেখানে মাংসের কোনো আইটেম রাখা যাবে না। মহিলার বাপের বাড়িতে এ কথা জানায় স্বামী। তারা এসে জোর করে মাংস খাওয়ানোর চেষ্টা করে মহিলাকে। হিতে বিপরীত হয়, মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। গল্পটা পড়ে মানসিকভাবে আমিও কেমন যেন মহিলার মতো হয়ে যাচ্ছিলাম। মাংস খুব যে খাই তা নয়। তবু বইটার প্রভাব থেকে বের হতে   পারিনি।

এলিফ শাফাকের ‘ফরটি রুলস অব লাভ’ পড়ব। অলরেডি শুরু করেছি। ৩৩০ পৃষ্ঠার বই, মাত্র ৩০ পৃষ্ঠা পড়া হয়েছে।

 

পেয়ারার সুবাস

প্রথম আলো

জাকিয়া বারী মম

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের ‘পেয়ারার সুবাস’ পড়ছিলাম। তার আগে পড়েছি সুচিত্রা ভট্টাচার্যের ‘ঢেউ আসে ঢেউ যায়’। এটা পড়েছিলাম অরিন্দম শীলের ছবি ‘বালিঘর’-এর জন্য। পরে কোনো কারণে ছবিটি করা হয়নি। চরিত্রটা এখন করছে নওশাবা।

চোখের সামনে অনেক বই। এটা-ওটা পড়তে ইচ্ছা করে। কিন্তু সব কিছু গুছিয়ে বইয়ের প্রতি মনোযোগটা আজকাল কমে যাচ্ছে। এখন আসলে রমরমা অনলাইনের যুগে দেখা যায়, খুব সহজেই নাটক সিনেমা দেখতে পাচ্ছি। তাই বই পড়া কম হয়।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘প্রথম আলো’ আবার পড়ার খুব ইচ্ছা। ধরলে দুই খণ্ডই আবার পড়ব। এবার মেলায় আমার বন্ধুদের কিছু বই বের হয়েছে, সেগুলো পড়ার ইচ্ছা আছে।



মন্তব্য