kalerkantho


তাঁদের স্মরণে সুমন কল্যাণ

২৩ জানুয়ারি নায়করাজ রাজ্জাকের জন্মদিন। দিনটিতে শ্রদ্ধা জানাতে তাঁকে নিয়ে গান করেছেন সুমন কল্যাণ। আরো ছয়জন গুণীকে নিয়ে গান বেঁধেছেন তিনি। লিখেছেন আতিফ আতাউর। ছবি তুলেছেন আব্দুল্লাহ আল কায়েস রাতুল

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



তাঁদের স্মরণে সুমন কল্যাণ

নায়করাজ

‘তুমি সূর্য, তুমি আলো/আঁধারের পথে আগুন জ্বালো/কালের যাত্রী তুমি, তোমার নাই তো শেষ/তুমি নায়করাজ কোটি প্রাণের রেশ’। লিখেছেন আবু সায়েম চৌধুরী। ছোটবেলা থেকেই নায়ক রাজ্জাকের ভীষণ ভক্ত সায়েম। প্রিয় নায়কের মৃত্যু নাড়া দিয়ে যায় তাঁকে। কিছু একটা করার তাড়না বোধ করেন। একদিন ফোন করেন সুমন কল্যাণকে, ‘নায়করাজকে নিয়ে একটা গান করতে চাই।’ সুমনের সায় পেয়ে গানটি লিখে শেষ করেন। পছন্দ হয় সুমনের। পরে গানটিতে সুর এবং কণ্ঠ দেন সুমন কল্যাণ। এ সুরকার ও গায়ক বলেন, ‘নায়ক বলতে এখনো আমি রাজ্জাককেই বুঝি। ছোটবেলা থেকেই তিনি আমার হিরো। জন্মদিনে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা জানাতেই গানটি করেছি। এটা তাঁর জন্য আমাদের উত্সর্গ।’

গুরু

২০১১ সালে পপসম্রাট আজম খানের মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে গান করার চিন্তা করেন সুমন। লেখার দায়িত্ব দেন লুত্ফর হাসানকে। সুমন বলেন, ‘যে যার ভক্ত তাকে দিয়েই গানটির কথা লিখিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি। এতে গান লেখাটাও সহজ হয়। আজম খানের ডাই হার্ড ফ্যান লুত্ফর হাসান। তিনিই গানটির কথা লিখেছেন। আমি তাতে সুর করার পাশাপাশি কণ্ঠ দিয়েছি। গানটির জন্য অনেকের ভালোবাসা পেয়েছি।’

তুমি নেই তুমি আছো

সুমনের প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ। তাঁর ক্যান্সার হওয়ার খবরে ভীষণ মন খারাপ হয়েছিল। তখনই প্রিয় লেখককে নিয়ে গানটির চিন্তা করেন। ভেবেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ দেশে ফিরলে তাঁকে গেয়ে শোনাবেন। কথা লেখেন লেখকের আরেক ভক্ত নবাব আমিন। কাজ ঠিকমতোই চলছিল। কিন্তু এর মধ্যেই মারা যান হুমায়ূন আহমেদ। মন ভেঙে যায় দুজনেরই। পরে গানের কথায়ও পরিবর্তন আনতে হয়। সুমন বলেন, ‘২০১৩ সালের শেষ দিকে গানটি প্রকাশ করি। ইচ্ছে ছিল স্যারের জন্মদিনে বা অন্য কোনো উপলক্ষে তাঁকে গানটি গেয়ে শোনাব। কিন্তু সেই ইচ্ছেটা অপূর্ণই থেকে গেল।’

রুপালি পর্দা

বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়িকা সুচিত্রা সেনকে নিয়ে করা গানটির মুখ—‘রুপালি পর্দা দুলে উঠে সামান্য হাসিতে আজও যার/তাঁর বিপরীতে চোখ দুটি খোলা সে তো উত্তম কুমার/দুই বাংলার কোটি বাঙালি মনে, তুমি শুভ্র তুমি স্নিগ্ধ সফেন, নায়িকার কখনো বাড়ে না বয়স জেনেছি সুচিত্রা সেন।’ লিখেছেন সেজুল হোসেন।  সুমন কল্যাণ বলেন,“সুচিত্রা সেন আমার প্রিয় নায়িকা। প্রয়াণের পর তাঁকে নিয়ে একটা গান করতে চেয়েছি। গীতিকার সেজুল হোসেনও সুচিত্রার ভক্ত। দুজন মিলেই গান করি। আমার ‘গানের ক্রীতদাস’ অ্যালবামে প্রকাশ পায় গানটি।”

পুরনো গান

ছোটবেলায়ই মান্না দের গানের সঙ্গে পরিচয় সুমনের। তাঁর প্রিয় শিল্পীর তালিকায় সবার ওপরে মান্না দের নাম। মান্না দের মৃত্যুতে খুব কষ্ট পেয়েছিলেন সুমন। সিদ্ধান্ত নেন তাঁকে নিয়ে একটা গান করবেন। কয়েকজনের সঙ্গে ভাবনাটা শেয়ার করেন। বলেন, ‘মান্না দেকে নিয়ে গানটি লেখার জন্য কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। কিন্তু কারো কথাই পছন্দ হচ্ছিল না। পরে নিজেই লিখে ফেলি ‘পুরনো গান এ কথা আমি মানি না/পুরনো হয় সময়, পুরনো হয় মানুষ, গান কখনো পুরনো হয় না/হূদয়ে লেখা গান, ছোঁয় মনের আসমান। সে গানে লেখা রবে তোমার প্রিয় মুখ।’ গানটিতে মান্না দের বিখ্যাত কিছু গানের কথা তুলে ধরেন সুমন।

একাত্তরের জননী

ছোটবেলা থেকেই রমা চৌধুরীকে চিনতেন সুমন। ডাকতেন কাকিমা বলে। কিন্তু তিনি যে একজন বীরাঙ্গনা জানতেন না। বলেন, ‘আমার মায়ের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল রমা কাকিমার। প্রায়ই বাসায় গল্প করতেন। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে সম্মান জানানোর পর জানতে পারি তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরে তাঁর স্বামী ও দুই সন্তানকে হত্যা করা হয়। এরপর থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত খালি পায়ে হাঁটবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেন। সেটা পালনও করেছেন। এটা জানার পর নিজের দায়বদ্ধতা থেকেই তাঁকে নিয়ে গানটি করি।’ কথা লিখেছেন নবাব আমিন। সুমনের কণ্ঠে গানটি শুনে খুব অবাক হয়েছিলেন রমা।

আরো কিছু কবিতা

নির্মলেন্দু গুণের কবিতা পছন্দ করেন সুমন। ২০১৬ সালে ফেসবুকে বইমেলার একটা ছবি দেখেন সুমন। গীতিকার সেজুল হোসেন নির্মলেন্দু গুণের সঙ্গে সেলফি তুলে পোস্ট করেছেন। ক্যাপশন—‘ঘরে ফেরা রাতে খুব ভাবনাতে নির্মলেন্দু গুণ।’ ক্যাপশনটি ভালো লেগে যায় সুমনের। এই লাইনটিই গানটি করতে উদ্ধুদ্ধ করে তাঁকে। বলেন, ‘সেজুলকে বলতেই আধাঘণ্টার মধ্যে গানটি লিখে পাঠিয়ে দেয়। গানটি শুনে খুব প্রশংসা করেছিলেন কবি (নির্মলেন্দু গুণ)। সেই বছরই আমার তৃতীয় একক ‘সুইসাইড নোট’-এ প্রকাশ পায় গানটি।’
 



মন্তব্য