kalerkantho


লালনের অন্য রকম প্রতিবাদ

‘পাগল’-এর চার বছর পর আজ নতুন অ্যালবাম নিয়ে এলো ‘লালন’। তা-ও একটি নয়, দু-দুটি অ্যালবাম। লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



লালনের অন্য রকম প্রতিবাদ

‘গান’ অ্যাপে আজ একসঙ্গে দুটি অ্যালবাম প্রকাশ করবে ব্যান্ড ‘লালন’—‘সাদাকালো’ ও ‘বাউল অব বেঙ্গল’। সংখ্যার দিক দিয়ে এ দুটি দলের চতুর্থ ও পঞ্চম অ্যালবাম। ‘সাদাকালো’র সব গান মৌলিক। কথা, সুর ও সংগীত দলের সদস্যদের। বিখ্যাত পাঁচ সাধকের গান নিয়ে ‘বাউল অব বেঙ্গল’—ফকির লালন সাঁই, রাধরমণ, পাঞ্জু সাঁই, শাহ আব্দুল করিম ও বিজয় সরকার। ‘বাউল অব বেঙ্গল’-এ আছে ৯টি গান, ‘সাদাকালো’তে আটটি।

‘সাদাকালো’ নিয়ে ব্যান্ডের ড্রামার তিতি বলেন, ‘ঢাকার নাগরিক জীবনের গান। আমাদের অনেকেরই এই শহরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা। তারা যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গান করতে চায়, ভাবতে চায়। তবে আরবান ও রুরাল—দুটি ক্যারেক্টারই থাকবে।’

ভোকালিস্ট নিগার সুলতানা সুমী বলেন, “আমরা শহরে থাকি, গাড়িতে চড়ি। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুমে থাকি। শহুরে কত সুবিধা ভোগ করছি। শহরের এসব মানুষের জন্যই ‘সাদাকালো’ অ্যালবাম।”

শুরু থেকেই নিজেদের জন্য কিছু নীতিমালা সেট করেছেন সদস্যরা; যেমন—স্পন্সর নিয়ে অ্যালবাম করবেন না, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ফরমায়েশি কাজ করবেন না, ব্যান্ডের বাইরে আলাদাভাবে গান করবেন না ভোকাল সুমী। ‘ইচ্ছা করলেই যেকোনো বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অ্যালবাম প্রকাশ করতে পারতাম, কিন্তু তা করছি না। নিজেদের রোজগারের টাকা থেকে বাঁচিয়ে অ্যালবাম তৈরি করেছি’—বললেন গিটারিস্ট রাফি ইসলাম।

অ্যালবাম দুটি অ্যাপে প্রকাশ করেছেন কেন? তিতি বলেন, ‘আমরা গান করি, সাদামাটা জীবন। জটিলতা পছন্দ করি না। রয়ালটির নামে যে প্রহসন হচ্ছে, তার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদের পেছনে ঘুরতে পারব না। আমরা তো দেখছি, শিল্পীদের ঠকিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান কিভাবে অর্থের মালিক হচ্ছে। তাই শুরুতে অ্যালবামের গান অ্যাপে দেব। যেকোনো মুঠোফোনে অ্যাপটি বিনা মূল্যে ডাউনলোড করে যে কেউ শুনতে পারবেন। তিন মাস পর এমপিথ্রি ফরম্যাটে ইন্টারনেটে দেব। যে কেউ ফ্রি শুনতে পারবেন। এটা চলমান নানা জটিলতার বিরুদ্ধে আমাদের ক্ষোভ প্রকাশ, আমাদের প্রতিবাদ।’

তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে অ্যালবাম দুটি প্রকাশের খবর শোনা গেছে। অবশেষে আজ প্রকাশ পাচ্ছে। এত দেরি হলো কেন? ‘গান রেকর্ড শুরু করেছি বেশিদিন হয়নি, মাত্র আট মাস আগে। কিন্তু গানগুলো কালেকশন করা, লেখা, সুর ও সংগীত করতেই চার বছর লেগে গেছে। অনেক গানেরই কয়েকটা ভার্সন করেছি। মিউজিক করা হয়েছে বেশ কয়েকবার। একবার মনে হয়েছে, এই শব্দটা যোগ করা যায় বা এই শব্দটা বাদ দেওয়া যায়। এভাবে অনেক এক্সপেরিমেন্ট করেছি। ১২টা গান থেকে বাছাই করে আটটা রেখেছি’—বললেন তিতি।

সুমী যোগ করলেন, ‘আমরা সব সময়ই বাণিজ্যের চেয়ে শিল্পটাকে প্রাধান্য দিই। এ কারণে একটু বেশিই সময় লাগে। কেউ যদি বলে তিন মাসে অ্যালবাম দিতে হবে, সেটাও পারব। আমাদের তো পাঁচটা অ্যালবাম হলো। অনেক ব্যান্ডের কিন্তু এত অ্যালবামও নেই!’

ব্যান্ডের ভাঙাগড়ার খবর শোনা যাচ্ছে কদিন পরপরই। ‘লালন’-এর ভেতরকার পরিবেশ কেমন? তিতি বলেন, ‘ভাঙাগড়া একেবারে খারাপ, এমন কিছু বলব না। আমাদের পাঁচজনের টিম, আমরা নিজেরাই ম্যানেজ করি। নিজেরা নিজেরা চালাই। এভাবে পাঁচজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব হওয়া খুবই স্বাভাবিক। এই দ্বন্দ্বের পরও যে বন্ধুত্ব, সেটাই হলো আসল।’

দলে সবচেয়ে সিনিয়র তিতি। তিনিই ব্যান্ডের প্ল্যানিংগুলো ঠিক করে দেন। অন্যরা সেটা এক্সিকিউট করেন। ‘আমি যেমন বয়সে     সিনিয়র, মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে অভিজ্ঞতাটাও বেশি। সে কারণে ওরা সুন্দরভাবে মেনে নেয়। ওরা যে দক্ষতার সঙ্গে বাজায় এবং গায়, সেটা নিয়েও আমার কোনো কমপ্লেইন করার উপায় নেই। এভাবেই আমরা সামনে এগোচ্ছি।’

 

‘লালন’-এর বর্তমান লাইনআপ

আশফাক আহমেদ তূর্য [বেইস গিটার], রাফি ইসলাম ও জুলকার নাইন রাতুল [গিটার], থিন হান মং তিতি [ড্রামস], নিগার সুলতানা সুমী [ভোকাল]



মন্তব্য