kalerkantho


ভুলে যেতে চাই

আমার কারণেই পৃথিবী ছাড়ল রুপা!

জীবন চলার পথে ঘটে কত ঘটনা, কত স্মৃতি। সব স্মৃতি আনন্দের হয় না। এমন অনেক স্মৃতিই থাকে যা আমরা ভুলে যেতে চাইলেও পারি না। তেমনই এক স্মৃতির কথা বললেন অভিনেত্রী মাহিয়া মাহি

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



আমার কারণেই পৃথিবী ছাড়ল রুপা!

আমি তখন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। রুপালি নামে এক মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় স্কুলে। অল্প দিনেই আমার খুব কাছের বান্ধবী হয় সে। আমাকে না নিয়ে একা ক্যান্টিনে গেলে কিংবা অন্য কারও সঙ্গে মিশলে রাগ লাগত। অভিমানে দুই-তিন দিন কথা পর্যন্ত বলতাম না। রুপালিকে সংক্ষেপে রুপা ডাকতাম। আমাদের এত মিল হয়ে গেল, ও আমার সঙ্গে এক ক্লাসে পড়ার জন্য ফাইভে এক বছর ড্রপ দিলো। বছর দুই বেশ আনন্দ-ফূর্তিতে কেটে গেল। উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস সিক্সে ভর্তি হলাম আমরা। ঝামেলা বাঁধল ক্লাস সিক্সের ফাইনাল পরীক্ষার আগে। একদিন চোখে পড়ল আরেক বান্ধবীকে নিয়ে চুটিয়ে আড্ডায় মগ্ন রুপা, ক্যান্টিনে খাওয়া-দাওয়া করছে। রাগে-ক্ষোভে আমার মুখ লাল হয়ে গেল। রুপা আমাকে দেখে দৌড়ে এলো। পাত্তা না দিয়ে বাড়ি চলে এলাম। এরপর রুপা আমার আম্মুর মোবাইলে টানা দুইদিন ফোন দিলো, আমি ধরি না। আম্মুকেও ধরতে মানা করে দিয়েছি। একের পর ম্যাসেজ করলেও কোনো উত্তর দেইনি। পরীক্ষা চলে এলো। ভাবলাম পরীক্ষার দিন সব মিটমাট করে নেব। কিন্তু হায়! পরীক্ষা শুরু হয়ে যাচ্ছে অথচ রুপা নেই। এরমধ্যে এক বান্ধবী খবর আনলো রুপা নাকি মারা গেছে! আমি কানে নিলাম না। ভাবলাম, আমাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য ঐ মেয়েকে দিয়ে মিথ্যে খবর পাঠিয়েছে রুপা। কিন্তু না, ক্লাসের অন্যদের কাছ থেকেও রুপার মৃত্যুর খবর আসতে লাগল। কোনো রকমে পাশ নাম্বার পাওয়ার মতো প্রশ্নের উত্তর লিখে বেরিয়ে গেলাম রুপাদের বাড়ির দিকে। উত্তরায় ওদের বাড়ির সামনে গিয়ে দেখি শত শত মানুষ। এবার বুকটা কেঁপে উঠলো। দৌড়ে গিয়ে দেখি ওর রুমে নিথর দেহে পড়ে আছে। ওর মা জানাল, সেদিন সকালেই সে আত্মহত্যা করেছে। তখনি মনে পড়ল, আগের দিন এক ম্যাসেজে লিখেছিল, ‘মাহি, তুই যদি আমার সঙ্গে আজ কথা না বলিস তাহলে আমি আত্মহত্যা করব।’ হায় হায়! নিজের কাছে খুব অপরাধী মনে হলো। আমার কারণেই পৃথিবী ছাড়ল রুপা! ভয়ে ভয়ে আন্টিকে সব খুলে বললাম। ভাবলাম, হয়তো তাঁরা আমাকে কঠিন শাস্তি দেবে। কিন্তু না উল্টো আমাকে মাফ করে দিল। আজও একটি দিনের জন্যও রুপার কথা ভুলতে পারিনি। সবসময় অপরাধবোধে ভুগি। এই একটি ভুলই হয়তো আমাকে সারাজীবন বয়ে নিয়ে বেড়াতে হবে। যা শোধরানোর কোনো উপায় নেই। এখনো উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে থাকেন রুপার মা-বাবা, নিয়মিত যোগাযোগ রাখি তাঁদের সঙ্গে। স্থানীয়দের অনেকেই জানেন এই ঘটনার কথা।



মন্তব্য