kalerkantho


তাঁদের অন্তরে কিসের জ্বালা

চলচ্চিত্রাঙ্গণে ঈদের আমেজ নিয়ে এলো মালেক আফসারীর ‘অন্তর জ্বালা’। আগামীকাল রেকর্ডসংখ্যক ১৭৫ হলে মুক্তি পাবে ছবিটি। নায়ক-প্রযোজক জায়েদ খান ও নায়িকা পরীমণিও আছেন ঈদের আমেজে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন মীর রাকিব হাসান

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



তাঁদের অন্তরে কিসের জ্বালা

পরিচালক মালেক আফসারির পেছনে চার বছর ঘুরেছেন জায়েদ। সুযোগ মিলছিল না। চার বছর পর রাজি হলেন আফসারী। তবে শর্ত ছিল, প্রথম ও প্রধান শর্ত প্রচুর খাটতে হবে। হাতে থাকা ছবিগুলো ছেড়ে দিতে হবে, চার মাস অন্য কোনো ছবির শুটিং রাখা যাবে না। দাড়ি চুল কাটা যাবে না। ‘তখন হাতে তিনটা ছবি ছিল, ছেড়ে দিলাম। ওনার সঙ্গে কাজ করার লোভ সামলাতে পারলাম না। দাড়ি-চুল কাটা বন্ধ করে দিলাম। তিনমাস পর যখন শুটিংয়ে যাব, দেখি দাড়ি-চুল বড় হয়নি। আরো একমাস দেরি করলেন পরিচালক’—বললেন জায়েদ।

শুটিং শুরু করতে অবশ্য আরো বিলম্ব হলো। পরিচালক নায়ককে জানালেন গায়ের রং কালো করতে হবে, ফর্সা নায়কোচিত চেহারা চলবে না। সারা গায়ে তেল মেখে বাড়ির ছাদে বসে থাকতেন জায়েদ। যতদিন না গায়ের রং কালো হলো শুটিংয়ে যাননি পরিচালক।

শুটিং শুরু হওয়ার পরে ঘটল আরেক ঘটনা। শোনা যাক নায়কের মুখেই, ‘একটা দৃশ্যের জন্য আমাকে দুদিন না খাইয়ে রাখা হয়েছে। দৃশ্যটাই ছিল না খাওয়ার। পরিচালক বললেন, পানি খেয়েই থাকতে হবে, বেশি খারাপ লাগলে স্যালাইন খাওয়া যেতে পারে। গরমের দিন। প্রচণ্ড তৃষ্ণা লাগত, টিকে থাকতে না পেরে লুকিয়ে ডাবের পানি খেয়েছি। নখও কাটতে দেয়নি। কত বড় নখ হয়েছিল! কাদার মধ্যে হাত দিয়ে মাখতে বলতেন, যেন নখ কালো দেখায়। এমন কত কাণ্ডই না করতে হয়েছে!’

পরীর কণ্ঠেও জায়েদের প্রশংসা, ‘আমার প্রথম ছবির নায়ক জায়েদ। ওর সঙ্গে আমার বোঝাপড়া বেশ ভাল। চারটি ছবি করেছি একসঙ্গে। এই ছবিতে সম্পূর্ণ নতুন এক জায়েদকে পাবে দর্শক। অস্বীকার করার কিছু নেই, পুরো গল্পই জায়েদের ওপর। ছবিটা যখন প্রথম দেখি তখন রাত দুইটা, ফোন দিয়ে ওকে বলি, তুই আর সিনেমা করিস না। এই সিনেমার জন্যই দর্শক তোকে সারাজীবন মনে রাখবে।’

ছবির নামকরণ করেছেন পরী। ‘কাহিনী পড়ার পর এ নামটা মাথায় এসেছিল’—বললেন পরীমণি।

পুরো সিনেমার শুটিং হয়েছে পিরোজপুরে। জায়েদ খানের জন্ম এবং পরীমণির বেড়ে ওঠাও সেখানে। বায়ান্ন দিন সেখানে শুটিংয়ের সময় নায়কের অনেক কষ্টের কথা জানলাম, নায়িকার কোন স্ট্রাগল নেই? ‘প্রথম যখন শুটিংস্পটে গেলাম তখন রাত, আফসারী ভাই বললেন কী খাবে? ভালো-মন্দ কথা হওয়ার পর তিনি চলে গেলেন। পরদিন কলটাইম কখন কিছুই বলে গেলেন না! ইউনিটের একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, সেও বলতে পারল না। এভাবে ঘুরে ফিরে চারদিন কেটে গেল। তারপর বুঝলাম আমাকে পরিবেশটা বোঝার এবং গল্পে ঢোকার সময় দিয়েছেন পরিচালক’, বললেন পরী।

প্রয়াত নায়ক মান্নার এক অন্ধ ভক্তের কাহিনী ‘অন্তর জ্বালা’। জায়েদ বলেন, ‘মান্না ভাই চলে যাওয়ার এতদিন পরও তাঁকে যেভাবে স্মরণ করা হচ্ছে সবখানে, এটা ভাবলেই গর্ব হয়। আজকাল তো এক নায়ক আরেক নায়ককে সম্মানই দিতে চায় না। এই ছবি দেখে মান্না ভাইকে নতুন করে স্মরণ করবে দর্শক। আসলে এভাবেই তো গ্রেটরা কোন না কোনভাবে আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন।’

১৭৫টি হলে মুক্তি পাবে। অতীতে ঢালিউডের আর কোনো ছবিই এত রেকর্ডসংখ্যক হলে মুক্তি পায়নি। এর মধ্যে ১৭টি হল শুধুমাত্র এ ছবির জন্যই খোলা হয়েছে। এই হল মালিকরা সাধারণত ঈদের সময় ছবি চালান। বছরের বাকি সময়টা হল বন্ধ রাখেন। ‘সবার মাঝে আসলে ঈদের আনন্দ চলে এসেছে। ঈদের ছবি নিয়ে যেমন দর্শকের মধ্যে একটা হৈ চৈ ব্যাপার থাকে, এ ছবিটি ঘিরেও তাই হচ্ছে। হল মালিকরা লাইন ধরেছে সিনেমাটি নেওয়ার জন্য। আমি ছবিটার প্রযোজক। টাকা-পয়সা খরচ করা ছাড়া খুব বেশি তদারকি করতে পারিনি শুটিংয়ের সময়। কারণ অনেকবেশি চরিত্রটার মধ্যে ঢুকে ছিলাম। এখন মুক্তির আগে অবশ্য প্রযোজক হিসেবে কিছু কর্ম সারছি’—বললেন জায়েদ।



মন্তব্য