kalerkantho


আইটেম গানের রানি  

‘মুন্নি বদনাম হুয়ি ডার্লিং তেরে লিয়ে’ দিয়ে প্লেব্যাক শুরু। এরপর আইটেম গানের শিল্পী হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করে নেন বলিউডে। মমতা শর্মার গাওয়া নতুন তিনটি গান এখন আলোচনায়। লিখেছেন সজল সরকার 

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



আইটেম গানের রানি  

২০১০ সালে ‘দাবাং’ ছবিতে ‘মুন্নি বদমান হুয়ি’, দুই বছর পর ‘দাবাং ২’তে ‘ফেবিকল সে’ এবং গত ২২ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাওয়া কলকাতার ‘শ্রেষ্ঠ বাঙালি’র ‘চাপ নিস না’ গানগুলোতে ভিন্ন ভিন্নভাবে হাজির হয়ে দর্শকের মন ভরিয়েছিলেন মালাইকা অরোরা, কারিনা কাপুর ও সানি লিওনি। গানগুলো পৌঁছে যায় শ্রোতার মুখে মুখে। পর্দার পেছনে যাঁর আবেদনময় কণ্ঠ এ গানগুলোকে শান দিয়েছে তিনি মমতা শর্মা।

‘মুন্নি বদমান হুয়ি’ দিয়েই প্লেব্যাকে অভিষেক। এরপর শুধু এগিয়ে যাওয়ার পালা। ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন আইটেম গানের রানি হিসেবে।    

এ বছর বাংলা, হিন্দি ও তেলেগু ভাষার তিনটি ছবিতে শোনা গেছে মমতার কণ্ঠ। কলকাতার ‘শ্রেষ্ঠ বাঙালি’র ‘চাপ নিস না’ বাংলা গানে মমতার চতুর্থ প্লেব্যাক। গানটি এরই মধ্যে বেশ আলোচিতও হয়েছে। হিন্দি ‘জুলি ২’তে ‘মালা সিনহা দেখায়েগি ফিল্মি ডান্স’ গানটিও দর্শকদের মনে রং লাগিয়েছে, পেয়েছে জনপ্রিয়তা। তেলেগু ভাষায় ‘এ ফর অ্যাপেল’ও ইন্টারনেটে চলছে দেদার। অনেকের মতে, চলচ্চিত্রের মন্দা বাজারে মমতার আইটেম গান এখন বড় ভরসা।  

ভারতের মধ্য প্রদেশ রাজ্যের বিরলানগরের গোয়ালিয়র গ্রামে জন্ম মমতার। স্কুলজীবন থেকেই পড়াশোনার চেয়ে মঞ্চে গান গাওয়ার নেশাটা ছিল বেশি। শুরুতে বন্ধুদের নিয়ে একটি ব্যান্ড গড়ে বিয়ের অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন পার্টিতে গান করতেন। ‘মুন্নি বদনাম হুয়ি’র আগে পাড়ি দিতে হয়েছে বহু পথ। ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সংগীত সাধনায় ছিলেন। ভোজপুরি ভাষায় অনেক অ্যালবামে কণ্ঠ দিয়েছেন, বাদ রাখেননি তেলেগু ও বাংলা ভাষার গানও। তবে তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায় সংগীত পরিচালক ললিত পণ্ডিতের সংস্পর্শে এসে। ‘দাবাং’য়ে প্লেব্যাক করান ললিত পণ্ডিত নিজেই। সে আইটেম নাম্বারটি জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এলে ডাক পেতে থাকেন নানা মাধ্যম থেকে।   

বলিউডে প্রবেশের পর থেকে প্রতিবছরই কোনো না কোনো গান সুপারহিট হয়েছে। তাঁর গাওয়া জনপ্রিয় গানের তালিকায় আরো রয়েছে ২০১১ সালে ‘আমলা পাগলা দিওয়ানা’র ‘টিংকু জিয়া’, ২০১২ সালে বাংলা ছবি ‘বিক্রম সিংহ : দ্য লায়ন ইজ ব্যাক’-এর  ‘না চম্পা না চ্যামেলি’, ২০১৩ সালে ‘কৃশ ৩’-এর ‘কৃশ কৃশ’, ২০১৪ সালে ‘লাইফ মে টুইস্ট হে’র ‘বালাম বাম্বাই’, ২০১৫ সালে ‘ওয়েলকাম ব্যাক’-এর ‘টোয়েন্টি টোয়েন্টি’ এবং গত বছর মুক্তি পাওয়া ‘হাউসফুল-৩’-এর ‘টাং উঠাকে’ প্রভৃতি।

নামডাকে বহুদূর পৌঁছে গেলেও এতটুকু অহংকার নেই মমতার। বিভিন্ন সাক্ষাত্কারে নিজের চেয়ে অন্য শিল্পীর গুণগানই করেন বেশি। তাঁর গানে নেচে তারকা বনে যাওয়া অভিনেত্রীদেরও ওপরেই রাখেন সব সময়। এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বলেন, ‘গান গাওয়ার চেয়ে অভিনয় করা অনেক কঠিন। আমরা কণ্ঠশিল্পীরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে গান গাই, সেটা আনন্দের হোক বা দুঃখেরই হোক। কিন্তু অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বিভিন্ন জায়গায়, ভিন্ন পরিবেশে হাজারো মানুষের মাঝে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হয়, যা সত্যিই অনেক চ্যালেঞ্জিং।’  

ছোট্ট এই জীবনে কাজের স্বীকৃতিও কম পাননি মমতা। জাতীয় পর্যায়ের অনেক সম্মানজনক পুরস্কারই রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ‘দাবাং’-এর প্লেব্যাকের জন্য জিতেছেন ‘১৮তম জার্নালিস্ট ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড’। সেরা আইটেম গায়িকা হিসেবে তাঁর ঝুলিতে আরো জমা পড়েছে ‘ফিল্মফেয়ার’, ‘মির্চি মিউজিক’, ‘লায়ন্স গোল্ড’, ‘জি সিনে’সহ বেশ কয়েকটি পুরস্কার।


মন্তব্য