kalerkantho


ময়মুনা কুণ্ঠে?

২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ময়মুনা কুণ্ঠে?

হঠাত্ করেই ঘোষণা, সাজেদুল আউয়ালের ‘ছিটকিনি’ মুক্তি পাবে আগামীকাল। এটিই রুনা খানের প্রথম ছবি।

পরের মাসেই আসবে রুনার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ছবি। লিখেছেন খায়রুল বাসার নির্ঝর, ছবি তুলেছেন শুভ্র কান্তি দাশ

এক

নিকটবর্তী রেলস্টেশন পেরিয়ে যে ট্রেনটা হেলেদুলে হুইসেল বাজিয়ে আসে-যায়, ওটা যেন রোজ অনেকবার ময়মুনার জীবনকে বিভক্ত করে! এক ভাগে ময়মুনা মা, স্বপ্ন দেখে, স্বপ্নে বাঁধে ঘর। আর ময়মুনা যখন রেললাইন পার হয়ে অন্য ভাগে পা রাখে, তখন স্বপ্ন নয়, দেখে পাথর। ময়মুনা শক্ত হাতে ভারী পাথর সরায়। ঢাকা থেকে বণিক যায় পাথরের খোঁজে। ওয়াগনভর্তি পাথর রোজ স্টেশন ত্যাগ করে। ময়মুনা পড়ে থাকে একইভাবে।

দুই

প্রচণ্ড সাহসী-সংগ্রামী স্বভাবের ময়মুনাকে ইদানীং ভয়ে পেয়েছে। ভয় তাকে প্রতিদিন কয়েকবার দেখা দেয়।

আশি টাকার পুরনো ছেঁড়া তোয়ালে মাথায় বেঁধে কাজে নামার আগে আসে ভয়ের বার্তাবাহক! তলবের সংবাদ কানে যায়, ‘ময়মুনা কুণ্ঠে?’ এ ডাক থেকে মুক্তি পেতে চায় সে। পারে না, কারণ রেললাইন পার হয়ে আরো কিছুদূর হাঁটলে বাস্তবতা আটকে দেয়—‘না, থাউক!’

‘ছিটকিনি’র এইটুকু গল্প বলে রুনা থামেন। গল্প মাঝপথে পৌঁছে চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। পঞ্চগড় থেকে, টাঙ্গাইলের নাগরপুর থেকে, স্মৃতি থেকে তিনি ফিরে আসেন শহর ঢাকায়। তাঁর ধানমণ্ডির ফ্ল্যাটে। ময়মুনা থেকে ফেরেন রুনা খানে। ২০১৫ সাল থেকে এ চরিত্রটি তাঁর সঙ্গেই আছে। ওয়াগন ভরে পাথর আনতে পঞ্চগড় রেলস্টেশনে যাওয়ার বহু পরে নির্মাতা সাজেদুল আউয়াল যখন ভেবেছিলেন ‘ছিটকিনি’ করবেন এবং রুনা সেই ময়মুনা হতে সম্মত হয়েছিলেন, তখন থেকে রুনা ওই প্রান্তিক জীবনে বারবার ঢুকে পড়েছেন।

চরিত্রটি বেদনার। গভীর বাস্তবতার। কিন্তু কোনোভাবেই রুনার অভিজ্ঞতার বাইরে নয়। তিনি ময়মুনাকে দেখেছেন, চেনেন তাকে। কিভাবে? ‘বড় হতে হতে। ’ রুনার শৈশব-কৈশোরজুড়ে ময়মুনার মতো আরো অসংখ্যজন ছিল, আছে। কেউ হয়তো ক্লাসের সবচেয়ে কাছের বান্ধবী, যার বাবা একজন দপ্তরি। কেউ হয়তো প্রতিবেশী ভ্যানওয়ালার স্ত্রী, সকালবেলা এসেছেন দুই পট চাল কর্জ নিতে। স্কুলফেরত রুনা পথিমধ্যে যে মহিলাদের দেখতেন দল বেঁধে মাঠে কাজ করতে, তারা হতেই পারে একেকজন ময়মুনা! আরো স্পষ্ট করছেন রুনা, ‘আমি এসব সাধারণ মানুষের জীবন দেখতে দেখতেই বড় হয়েছি। বাবা সরকারি চাকরি করতেন। মফস্বলে ছিলাম, টাঙ্গাইলের সখীপুরে। বাসার সামনে হাসপাতাল। দুই-তিন বছর ধরে কনস্ট্রাকশনের কাজ চলত। মাটি কাটা হচ্ছে, ইট ভাঙা হচ্ছে। আমরা বাচ্চারা বিকেলে হাসপাতালের মাঠে খেলতে যেতাম। ওখানে যারা কাজ করত খুব আদর করত আমাদের। মানে প্রান্তিক যারা, তারা আমার চেনা। বরং উচ্চবিত্তরা অচেনা। আমি তাদের দেখতে দেখতে বড় হইনি। ’

‘ছিটকিনি’ হলের দোরে গাঁথতে রুনা খানকে অপেক্ষা করতে হয়েছে দুই বছরেরও বেশি সময়। অপেক্ষাটাও শেষ হয়েছে হুট করে এবং অপ্রত্যাশিতভাবে। মাত্র কিছুদিন আগে সাজেদুল আউয়াল একদিন হুট করে ফোনে জানালেন সুখবরটা। যারপরনাই আনন্দিত হয়েছেন, কিন্তু পরক্ষণে আবার মনটা একটু খারাপও হয়েছে। জমিয়ে প্রচারণাটা করা গেল না। মন খারাপের যুক্তি দিলেন, ‘আসলে সব ছবিরই শেষ কথা হচ্ছে দর্শক। আমি মনে করি, প্রচারণাটা ঠিকমতো হলে ভালো হয়। দর্শক জানতে পারে। দেখতে পারে। ’ পাশাপাশি তিনি এ আস্থাও ধারণ করেন, ‘সিনেমাপ্রেমীরা ভালো গল্পের ছবি ঠিকই খুঁজে নেবে। ’

‘ছিটকিনি’ এমন একসময়ে মুক্তি পাচ্ছে, যখন ঘাড়ের কাছে রুনার আরো দুটি ছবি। পরের সপ্তাহেই হলে আসবে তৌকীর আহমেদের ‘হালদা’। ২৯ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে বদরুল আনাম সৌদের ‘গহীন বালুচর’। পর্দা কাঁপানোর এই সুযোগ রুনা কতখানি কাজে লাগাতে পারেন, সে প্রসঙ্গ নিয়ে তাঁর হাজির হওয়ার আরো একটা সম্ভাবনা তাই রয়েই গেল।


মন্তব্য