kalerkantho


পুরনো কথা নতুন সুরে

বলিউডে চলছে জনপ্রিয় পুরনো গানের কথা নিয়ে নতুন গান তৈরির হিড়িক। এসব গান শ্রোতারা গ্রহণও করছে বেশ। এমন কয়েকটি গান নিয়ে আয়োজন। লিখেছেন সজল সরকার

২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



পুরনো কথা নতুন সুরে

রাত বাকি বাত বাকি

১৯৮২ সালে মুক্তি পাওয়া অমিতাভ বচ্চন, পারভীন ববি ও শশী কাপুর অভিনীত ‘নমক হালাল’ ছবির গান ‘রাত বাকি বাত বাকি’। বাপ্পী লাহিড়ী ও আশা ভোঁসলের গাওয়া সাড়া-জাগানো এ গানটি আবারও ফিরে এসেছে ‘ইত্তেফাক’ ছবিতে।

বাপ্পী লাহিড়ীর করা গানটিকে সংযোজন-বিয়োজন করে সংগীতায়োজন করেছেন তানিশক বাগচী। মূল গানটি থেকে কয়েকটি লাইন নিয়ে আগে-পিছে অন্য কথা দিয়ে সাজানো হয়েছে গানটির মুখ। গ্রুটের সাহায্য নিয়ে এটি লিখেছেন তানিশক বাগচী। কণ্ঠ দিয়েছেন নিকিতা গান্ধী ও জুবিন নাটিয়াল। ‘ইত্তেফাক’-এ আরেক জনপ্রিয় ছবি ‘বোম্বে’র ‘তুহি রে’ গানটিও অন্য রকম সুরে গাওয়া হয়েছে।

লায়লা মে লায়লা

এ বছরের শুরুতে শাহরুখ খানের ‘রইস’ সব দিক থেকেই নাম করেছিল। তবে সানি লিওনের আইটেম গান ‘লায়লা মে লায়লা’ ছিল সুপারহিট। গানটির জন্ম ১৯৮০ সালে। বলিউডের অ্যাকশন ছবি ‘কুরবানি’তে পার্টি গান হিসাবেই এটি ব্যবহার করা হয়েছিল, যাতে ফিরোজ খান, বিনোদ খান্না, জিনাত আমান ও আমজাদ খান অভিনয় করেছিলেন।

প্লেব্যাক করেছিলেন অমিত কুমার ও কাঞ্চন। ৩৭ বছর পর সেই গানটির কিছু কথা নিয়ে নতুন সংগীতায়োজনে ব্যবহার করা হয় ‘রইস’-এ। যার সঙ্গে যুক্ত হয় সানি লিওনের নজরকাড়া নাচ। এবার গানটিতে কণ্ঠ দেন পাবনী পাণ্ডে। গানটির সঙ্গে এ যুগের সানি লিওন পর্দা কাঁপালেও সে যুগের জিনাত আমানও কিন্তু কম যাননি।

ওহ সুবাহ হামি সে আয়েগি

গত এপ্রিলে মুক্তি পাওয়া বিদ্যা বালানের ‘বেগমজান’ ছবিটি ভিন্নধর্মী হিসেবে বেশ নাম কামিয়েছে। ছবির শেষাংশে ব্যবহূত ‘ওহ সুবাহ হামি সে আয়েগি’ গানটি অনেক দর্শকের হূদয় ছুঁয়েছে তাতে সন্দেহ নেই। তবে এই গানের সৃষ্টি সেই ১৯৫৮ সালে ‘ফির সুবাহ হোগি’ ছবির মাধ্যমে। তখনকার সেরা কণ্ঠ জুটি মুকেশ ও আশা ভোঁসলে কণ্ঠ দিয়েছিলেন গানটিতে। অরিজিনাল গানটির কথা অবশ্য একটু ভিন্ন ছিল ‘ওহ সুবাহ কাভি তো আয়েগি’। ‘বেগমজান’ ছবিতে এখনকার জনপ্রিয় দুই শিল্পী অরিজিত্ সিং ও শ্রেয়া ঘোষালের কণ্ঠে ‘ওহ সুবাহ হামি সে আয়েগি’র কথাই বারবার ফিরে আসে।

চলত মুসাফির মো লিয়ে রে

রাজ কুমার ও ওয়াহিদা রেহমান অভিনীত ‘তিসরি কসম’ মুক্তি পায় ১৯৬৬ সালে। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবিটিতে প্লেব্যাক করেছিলেন লতা মুঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে ও মান্না দের মতো নামি শিল্পীরা। তখনকার মান্না দের গাওয়া ‘চলত মুসাফির মো লিয়ে রে’র অনুকরণে এখন দুটি উল্লেখযোগ্য ছবির গান সবার প্রিয়। এগুলোর একটি সালমান খান অভিনীত ‘দাবাং ২’-এর ‘থানা মে বইঠে অন ডিউটি’। গানটির কথা অন্য রকম হলেও সুরটি হুবহু রাখা হয়েছে। অন্যটি হলো ‘বদ্রিনাথ কি দুলহানিয়া’ ছবির পার্টি গান ‘বদ্রি কি দুলহানিয়া’।

সারা জামানা হাসিনো কা দিওয়ানা

১৯৮১ সালে মুক্তি পায় ‘ইয়ারানা’। অমিতাভ বচ্চন, আমজাদ খান ও নিতু সিং অভিনীত ছবিটির তিনটি গানেই কণ্ঠ দেন কিশোর কুমার। এর মধ্যে ‘সারা জামানা হাসিনো কা দিওয়ানা’ বেশ জনপ্রিয়তা পায়। তিন যুগ আগের সেই গানটি আবার নতুন সংস্করণে এসেছে হূতিক রোশান অভিনীত ‘কাবিলা’য়। এবার গানটিতে কণ্ঠ দেন পায়েল দেব ও রাফতার। কথায় তেমন পরিবর্তন না এলেও গানটির মিউজিকে আনা হয় নতুনত্ব। র্যাপার হিসেবে পরিচিত রাফতার আধুনিক সংমিশ্রণ দিয়েছেন সুরে। ‘কাবিলা’য় ব্যবহূত আরেকটি গান—‘কিসি সে পেয়ার হো যায়ে’ ‘জুলি’ ছবিতে কিশোর কুমারের গাওয়া গানটির আধুনিক সংস্করণ।

পুরনো গানের কথা ধার করে নতুন গান তৈরি ছাড়াও জনপ্রিয় গানগুলোও হুবহু জায়গা করে নিচ্ছে নতুন ছবিতে। ‘মোহরা’ ছবির ‘তু চিজ বড়ি হে মাস্ত মাস্ত’র সঙ্গে নতুন কথা যোগ করে ব্যবহূত হয়েছে ‘মেশিন’ ছবিতে। অরিজিনাল গানটিতে উদিত নারায়ণের সহশিল্পী কবিতা কৃষ্ণমতি থাকলেও পরেরটিতে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন নেহা কাক্কর। ‘মি. ইন্ডিয়া’ ছবিতে শ্রীদেবী অভিনীত ‘হাওয়া হাওয়াই’ ব্যবহূত হয়েছে বিদ্যা বালানের ‘তুমহারি সুলু’তে। অরিজিনাল গানটিতে কবিতা কৃষ্ণমতি একা কণ্ঠ দিলেও এবার গেয়েছেন শাশা তিরুপাতিকে সঙ্গে নিয়ে। নতুন গানে পুরনোর প্রভাব সম্পর্কে অবশ্য শিল্পীরা ইতিবাচক মন্তব্যই করেছেন। বাপ্পী লাহিড়ী বলেছেন, ‘আমার পুরনো গানগুলোর আবেদন আছে ভাবতেই ভালো লাগে। ’ ‘লায়লা মে লায়লা’র নায়িকা জিনাত আমান বলেন, ‘ওই সব গানের জনপ্রিয়তা আবার নতুন করে ফিরে পাচ্ছে। এখনকার শিল্পীরা তো আরো মেধাবী, নিশ্চয় তাঁরা ভালো করবেন। তাঁদের জন্য শুভ কামনা!’


মন্তব্য