kalerkantho


বদলে যাওয়া টোভ লো

প্রকাশ পেয়েছে সুইডিশ গায়িকা, গীতিকার টোভ লোর তৃতীয় স্টুডিও অ্যালবাম ‘ব্লু লিপস’। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন আবু সালেহ শফিক

২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বদলে যাওয়া টোভ লো

পুরো নাম এবা টোভ এলসা নিলসন। জন্ম ১৯৮৭ সালে।

তাঁর মা মনস্তত্ত্ববিদ আর বাবা ব্যবসায়ী। তিন বছর বয়স থেকে নিকটজনরা আদর করে তাঁকে টোভ লো ডাকত। স্কুলে থাকতেই সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ জাগে। শুরুতে ছোটগল্প ও কবিতা লিখতে শুরু করেন। বান্ধবীদের নিয়ে একটি দল গড়েন। তারপর ২০০৬ সালে যোগ দেন গানের দল ট্রেমব্লিবিতে। প্রথম ইপি ‘ট্রুথ সেরাম’ প্রকাশ করেন ২০১৪ সালের মার্চে। তখন লোকে বলেছিল, নতুন একজন পপস্টার আসছে। ছয় মাস পর বের করেন প্রথম একক অ্যালবাম ‘কুইন অব দ্য ক্লাউডস’। বিলবোর্ড টু হান্ড্রেডের ১৪ নম্বর জায়গা পায় সেটি। প্রথম সপ্তাহেই বিক্রি হয় ১৯ হাজার কপি! ‘হাঙ্গার গেমস : মকিংজে পার্ট ওয়ান’ ছবির জন্য তৈরি করেছিলেন ‘স্ক্রিম মাই নেম’ শীর্ষক সাউন্ডট্র্যাকটি। ২০১৬ সালে প্রকাশ করেন দ্বিতীয় একক ‘লেডি উড’।   গত সপ্তাহে গায়িকা নিয়ে এসেছেন নিজের তৃতীয় একক ‘ব্লু লিপস’, যেটি এখন খুব আলোচনায়।   ভোগ সাময়িকী তাঁর একটি সাক্ষাত্কার প্রকাশ করে। তার অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো—

একক শিল্পী হওয়ার আগে আপনি কী করতেন?

স্টকহোমের হুল্লোড়ে মেয়ে ছিলাম। ট্রেমব্লিবি নামের একটা নিরীক্ষাধর্মী ব্যান্ডের সদস্য ছিলাম। খুব অদ্ভুত দল ছিল সেটি। অল্টারনেটিভ রক করতাম, বিভিন্ন বারে গাইতাম। সপ্তাহে চার দিন প্র্যাকটিস। দলটি ভেঙে গেলে ভাবলাম, নিজেই কিছু করি।

গান লেখার অভ্যাস তো আগে থেকেই

ছোটবেলায় কিছু ছোটগল্প আর কবিতা লিখেছি। মাথায় যা আসত লিখে ফেলতাম। মিউজিক স্কুলে যাওয়ার পর উপলব্ধি করি, আমি গান লিখতে পারি এবং এটি করতে ভালোবাসি। গাইতেও থাকলাম।  একসময় নিজের গানের প্রেমে পড়ে যাই। তখন আমি তরুণ, একটু বোকাও ছিলাম। ট্রেমব্লিবি ভেঙে যাওয়ার পর পপের দিকে ঝুঁকে পড়ি। মাইস্পেসে দলটির পেজ আছে। আমার ১৮ বছর বয়সের ছবি আছে সেখানে। চুলগুলো তখন কালো ছিল। দেখে হয়তো অনেকেই হাসবে।

একা হয়ে যাওয়ার পর কী করলেন?

কয়েকটি সংগীত উত্সবে যোগ দিই। কেউ কেউ এসে বলল, তোমার গানের কথা তো দারুণ। তখন আমার বয়স ২৩ কি ২৪। অনেক লিখতে থাকলাম। অনেকেই আমার লেখা গান গেয়েছে।  

আপনার একটা পাগলাটে সময় গেছে।

হ্যাঁ, সত্যি সত্যি ভাঙচুর পছন্দ করতাম। নিজেকে মুক্ত মনে হতো। লন্ডন, লস অ্যাঞ্জেলেস, নিউ ইয়র্ক দৌড়ে বেড়িয়েছি। সময়টা পুরোপুরি নিজের ছিল। লিখছিলামও বেশ। একসময় মনে হলো, নিজেই কেন নিজের কথা বলছি না। নিজের গান নিজে গাইলেই তো বেশি ভালো গাওয়া হয়।

আপনি কি সত্যি জানেন গানে কী বলতে চান?

সোজা কথায় ভালোবাসার কথা বলতে চাই। হূদয় ভাঙার বেদনা টের পাবেন আমার গান শুনলে। ‘হ্যাবিটস’ আর ‘লাভ ব্যালাড’ শুনে দেখেন, ঠিক বিশ্বাস হবে। ‘হ্যাবিটস’ প্রথমে কবিতা ছিল। প্রেম ভেঙে যাওয়ার পর লিখেছিলাম। আমাদের খুব মন কালাকালি হয়েছিল। আমি তাকে মন থেকে ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু কিছুতেই পারছিলাম না। বোঝেন কী দুঃসহ সময় ছিল!

মনে হয় সে কারণেই গানটি এত শ্রোতাপ্রিয় হয়েছিল।

আমারও মনে হয়। আমি শ্রোতাদের সত্যিকারের অনুভব দিতে চেয়েছিলাম। মিউজিক ভিডিওটি দেখলে আরো ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।

গানটি যখন হঠাত্ বিখ্যাত করে তুলল, তখন কেমন লেগেছে?

ব্যাপারটি মজার ছিল। লোকে বলত, তুমি কোত্থেকে এমন উড়ে এসে জুড়ে বসলে? আমি ছিলাম পাগলাছাগলা এক মেয়ে। আমাকে কিনা সবাই আইডল ভাবতে শুরু করল! বোকা বনে গিয়েছিলাম। স্টেজে একেবারেই সাবলীল থাকি। হাসি, কাঁদি, মানে আবেগ আমাকে যেমনটা করায় তা-ই করি। কিন্তু সেলিব্রিটি হয়ে কী করতে হয় তা তো জানা নেই।

মানুষ এখনো ভালোবাসার জন্য কাঙাল কেন?

কারণ মানুষ সুখী হতে চায়


মন্তব্য