kalerkantho


যে গাইতে জানে সে নাচতে জানে

মিউজিক ভিডিওর কারণে গানের সঙ্গে শিল্পীদের পারফরম করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বেশি বিটের কিংবা রিদমিক গান হলে তো কথাই নেই! ভিডিওগুলো শ্রোতার কাছে আকর্ষণীয় করার জন্য রীতিমতো নাচিয়ে হয়ে বসছেন শিল্পীরা। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন

২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



যে গাইতে জানে সে নাচতে জানে

‘পাগলী সুরাইয়া’র ভিডিওতে লিজা

আঁখি আলমগীর

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গানের সঙ্গে আঁখির নাচ নিয়মিতই দেখা যায়। কয়েকটি মিউজিক ভিডিওতে নেচেছেন তিনি।

তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে ‘মালকা বানু’ (জল পড়ে পাতা নড়ে ২) দিয়ে। এতে আঁখির নাচ দোলা দিয়েছে তাঁর ভক্তদের মনে। আঁখির সঙ্গে আরো নেচেছেন নায়ক ফেরদৌস। গানটির কথা ও সুর শওকত আলী ইমনের।   আঁখি বলেন, ‘রিদমিক গান পরিবেশনার সময় শিল্পী-শ্রোতা উভয়েরই নাচতে ইচ্ছা করে। স্টেজে করার জন্যই এই গান ও ভিডিও। শুটিংয়ের সময় সবাই মজা করে বলছিল, আপনি তো নায়িকাদের চেয়েও ভালো নাচেন! কাজটা এনজয় করেছি বলেই হয়তো পারফরম্যান্সটা ভালো হয়েছে। ’

মিলা

ক্যারিয়ারের শুরুতে ‘যাত্রাবালা’র ভিডিওতে নেচে নজর কাড়েন চট্টগ্রামের এই মেয়ে। ‘বাবুরাম সাপুড়ে’, ‘ডিস্কো বান্দর’, ‘দোলা’ গানগুলোর ভিডিওতে নেচেও সাফল্য পান।

মূলত এই গানগুলোর কারণেই স্টেজে অন্য সব গায়িকার চেয়ে আলাদা কদর তৈরি হয় মিলার। স্টেজে মিলা মানেই গানের সঙ্গে নাচ। তাঁর সর্বশেষ ড্যান্স নাম্বার ‘নাচো’ ভক্তদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলে। ভিডিওটির একটি দৃশ্যে সাপের সঙ্গে মিলার সাহসী অভিনয় বেশ প্রশংসিত হয়। নিজের পাশাপাশি ভিডিওটির কিছু দৃশ্যে ছোট বোন মিশাকেও যুক্ত করেন মিলা। নির্মাতা ইলাজার ইসলাম। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিওটি প্রকাশ করেন মিলা, যা এরই মধ্যে ৪৫ লাখ ভিউ ছাড়িয়ে গেছে।

কণা

‘রেশমী চুড়ি’র ভিডিওতে কণা
তিন-চারটি গানের সঙ্গে নেচেছেন কণা। তবে ‘রেশমী চুড়ি’র কথা বলতে হয় আলাদা করে। গানটির ভিডিওতে কণার নাচ আকৃষ্ট করেছে দর্শক-শ্রোতাদের। ইউটিউবে এরই মধ্যে এক কোটি ১৫ লাখ ভিউয়ার পেয়েছে ভিডিওটি। রাজধানীর কোক স্টুডিওতে দুই দিন ধরে ভিডিওটির শুটিং করেন ভারতীয় নির্মাতা শিবরাম শর্মা। প্রিয় চট্টোপাধ্যায়ের কথায় সুর-সংগীত করেন আকাশ সেন। কণা বলেন, ‘স্টেজে শ্রোতাদের আনন্দ দেওয়ার জন্য রিদমিক গান করতে হয়। এসব গানের সঙ্গে নাচটাও সবাই এনজয় করে। ছোটবেলা থেকেই নাচার অভ্যাস আছে। তাই ভিডিওতে নাচতে গিয়ে অসুবিধা হয়নি। এমনকি প্র্যাকটিসও করিনি। আমি কিন্তু নায়িকাদের মতো নাচতে পারি। ’ ‘রেশমী চুড়ি’র পর খুদে শিশুদের কাছেও প্রিয় হয়ে ওঠেন কণা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শিশুদের কাছ থেকে এই গান ও নাচের জন্য অনুরোধ পান।

সালমা

‘সূর্য গেলে চন্দ্র আসে/অন্ধকারে মুচকি হাসে/মনের মরা গাছে, সুজন থাকলে কাছে, ফোটে পিরিতেরই ফুল/হায়রে পরানের বন্ধু আমার কই/হায়রে আছে রে আছে রে নিশ্চয়ই’—সালমার গাওয়া ‘পরানের বন্ধু আমার কই’ গানের মুখ। আগে কোনো ভিডিওতে এভাবে নাচেননি এই গায়িকা। খুব আয়োজন করেই ভিডিওটি নির্মাণ করেন জিয়াউদ্দিন আলম। সালমা বলেন, ‘আমি গানের মানুষ। সেটাই আমার প্রধান কাজ। শ্রোতাদের আনন্দ দেওয়ার জন্যই এ ভিডিওতে নাচার চেষ্টা করেছি। প্রকাশের পর সবার কমেন্ট শুনে মজা লেগেছে। সব মিলিয়ে মিউজিক ভিডিওতে নাচের অভিজ্ঞতটা দারুণ। ’

লিজা

স্টেজে উঠলে লিজা সবচেয়ে বেশি অনুরোধ পান ‘পাগলী সুরাইয়া’র জন্য। ভিডিটির গল্পে দেখা যায়, একজন গানটির সঙ্গে নাচতে এসে ব্যর্থ হন। এরপর গায়িকা নিজেই নাচতে শুরু করেন। আরফিন রুমির সুর-সংগীত করা এ গানটির ভিডিও পরিচালনা করেন তানিম রহমান অংশু। লিজা বলেন, “গান করলেও নাচের প্রতি ভালোবাসা আছে। এই ভিডিওটি করার সময় মনে হলো নিজেই যদি নাচি তাহলে শ্রোতারা আনন্দ পাবে। অনেক দিন ধরে নাচটি প্র্যাকটিস করে তারপর শুটিংয়ে যাই। এখন কোনো অনুষ্ঠানে গেলে গানটি না গেয়ে আসতে পারি না। ভিডিওটির কারণে অনেকেই এখন আমাকে ‘পাগলী সুরাইয়া’ বলে ডাকে!”

পড়শী

ছোটবেলা থেকেই নাচের অভ্যাস। টিভি অনুষ্ঠানেও একাধিকবার নচেছেন এই গায়িকা। তাঁর নাচ আলাদাভাবে চোখে পড়েছে ইমরানের সঙ্গে গাওয়া ‘জয় হবেই হবে’ গানটির ভিডিওতে। এতে ক্লাসিক্যাল একটি নাচ পরিবেশন করেন তিনি। ‘বড় একা’ গানটিতেও পড়শীর নাচ চোখে পড়েছে। আরো দু-একটি গানেও টুকটাক নেচেছেন। পড়শী বলেন, ‘মিউজিক ভিডিওতে নাচতে গিয়ে ভালোই লাগে। গায়িকাকে নাচতে দেখে শ্রোতারাও আনন্দ পায়। ’

নদী

‘সেরাকণ্ঠ’ খ্যাত নদী দর্শক-শ্রোতাদের চমকে দেন ‘দেশী গার্ল’-এর ভিডিও দিয়ে। বলা যায়, এই ভিডিও দিয়েই নিজেকে নতুন করে চিনিয়েছেন তিনি। ওয়েস্টার্ন ধাঁচের এই গানের ভিডিওতে নদীর উপস্থিতি ছিল খুব আকর্ষণীয়। বিভিন্ন দৃশ্যে অভিনয়ের পাশাপাশি নেচেছেনও তিনি। সৌমিক কুণ্ডুর কথায় গানটির সুর-সংগীত করেন শওকত আলী ইমন। ভিডিওটি পরিচালনা করেন গাজী শুভ্র। নদী বলেন, ‘এটা একটা পার্টি সং। স্টেজের জন্যও মানানসই। সবাই বলল, ভিডিওটিতে আমি নিজেই যদি নাচি তাহলে ভালো হবে। ভিডিওটিতে অংশ নেওয়া, নাচ করা—সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতাটা  ছিল দারুণ। ’

বেলী

‘হায়রে হায়রে’র ভিডিওতে নাচের দৃশ্যে বেলী
ভিডিওতে নাচের ক্ষেত্রে সর্বশেষ সংযোজন পাওয়ার ভয়েস খ্যাত বেলীর ‘হায়রে হায়রে’। ধ্রুব মিউজিক স্টেশন থেকে প্রকাশিত এই গানের ভিডিওতে বেলীর নাচে মুগ্ধ তাঁর ভক্তরা! কবির বকুলের কথায় গানটির সুর-সংগীত করেন শওকত আলী ইমন। ভিডিও নির্মাতা তানজিল আলম। বেলী বলেন, ‘গানটি তৈরির পর ভিডিওর জন্য তানজিল ভাইয়ের সঙ্গে বসি। তিনি বলেন, গানটিতে নাচতে হলে আমাকে অন্তত এক মাস প্র্যাকটিস করতে হবে। তা-ই করেছি। তার পরও শুটিংয়ে গিয়ে বারবার গুলিয়ে ফেলছিলাম। শেষ পর্যন্ত এত ভালো নাচতে পারব নিজেও ভাবিনি। অনেকে তো বলছে, আমার ছবিতে অভিনয় করা উচিত। সবার প্রশংসা শুনে ভালো লাগছে। ’


মন্তব্য