kalerkantho

দেব বদল

যারা ভেবেছিল দেবকে কেবল ‘পাগলু’র মতো ছবিতেই দেখা যাবে, তাদের জন্য চমক ছিল ‘চাঁদের পাহাড়’। এরপর ‘চ্যাম্প’, ‘ককপিট’-এর মতো অন্য ধারার ছবি অভিনয়ের সঙ্গে প্রযোজনা করেছেন নিজেই। দেব বদলের গল্প জানাচ্ছেন লতিফুল হক

২ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



দেব বদল

২০১৩ সালে ‘চাঁদের পাহাড়’ মুক্তির পর চমকে গিয়েছিল সবাই। বাণিজ্যিক ছবির জনপ্রিয় তারকা দেব যে বিভূতিভূষণের ‘শংকর’ হতে পারবেন, সেটা পর্দায় দেখার আগে বিশ্বাস করা মুশকিল ছিল।

কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ছবিটি ব্যাপক ব্যবসাসফলও হয়েছিল। এর পরও দেবের নতুন পরিচয়কে সবাই বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেই মনে করেছিল। কিন্তু ব্যাপারটা যে তেমন নয়, সেটা বোঝা গেল বছর কয়েক বাদেই। আশ্চর্যভাবে এই সময়ে প্রচলিত বাণিজ্যিক ছবির সঙ্গে সমানতালে অন্য ধরনের ছবিও করেছেন। এই কয়েক বছরে অভিনেতা কাজ করেছেন অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরী [বুনোহাঁস], অপর্ণা সেন [আরশিনগর], সৃজিত মুখার্জির [জুলফিকার] মতো পরিচালকদের সঙ্গে। শুধু তাই নয়, পশ্চিম বাংলায় বাংলা ছবির ব্যবসা যখন পড়তির দিকে তখন সাহস করে নিজেই এসেছেন প্রযোজনায়। পর পর ‘চ্যাম্প’, ‘ককপিট’-এর মতো এমন দুটি ছবি প্রযোজনা করেছেন, যেগুলোর জন্য তিনি আজকের ‘দেব’ হয়ে ওঠেননি। কিন্তু কেন এই বদল? “এই সময়ে প্রযোজনা করাকে আমি কিন্তু ঝুঁকি বলি না। এটা দর্শকের ওপর বিনিয়োগ। অনলাইনের যুগে সবাই ভালো সিনেমা দেখে। তাদের বোকা বানানো যাবে না। এখন কিন্তু আর ‘পাগলু’ চলবে না। আমি তো কারো সঙ্গে পাল্লা দিতে আসিনি। কনটেন্টওয়ালা ছবি করতে চেয়েছি”, বলেন দেব। নাচ, গান আর অ্যাকশন-কমেডির জন্য যে দেব বিখ্যাত, তাঁর এখনকার ছবিতে নেই এসবের কিছুই। এটাকেও অভিনেতা দেখছেন যুগের চাহিদা হিসেবেই, ‘আগে যেগুলো করছিলাম, ভালো লাগছিল না। নতুন কনটেন্ট নেই। লার্জার দ্যান লাইফ চরিত্র নেই। হিন্দিতেও যে কটা ছবি চলেছে, সব কটা কনটেন্টনির্ভর। বোকা বাক্সের সামনে থেকে দর্শকদের তুলে এনে হলে ঢোকাতে চাইলে ভালো ছবি দিতে হবে। ’ ‘কনটেন্টওয়ালা’ ছবির দিকে মন দিলেও ‘পাগলু’ টাইপের ছবিও যে আর করবেন না তা কিন্তু নয়। অভিনেতা বলেছেন, মাঝেমধ্যে দম নেওয়ার জন্য রিমেক, কমেডি টাইপের ছবিও করবেন।   এবার পুজোয় মুক্তি পাওয়া সাত ছবির মধ্যে ছিল দেবের ‘ককপিট’ও। সব পরিসংখ্যানেই দেখা যায়, দেবের ছবিটা ব্যবসার দিক থেকে আছে তিন নম্বরে, যা অভিনেতার জন্য সাফল্যই। আগের ‘চ্যাম্প’-এর পর যদিও সেটাকে সুপার ফ্লপ আখ্যা দিয়ে নানা খবর রটেছিল। যে কারণে এবার হল পেতেও সমস্যা হয়েছে অভিনেতার। “একটা সংবাদপত্রে চ্যাম্পের বক্স অফিস হিসাব দেখেছিলাম, সেটা কিন্তু ঠিক নয়। রোজার ঈদের সময় কি ‘টিউবলাইট’, কি ‘বস ২’—কোনো ছবিই কিন্তু ব্যাপক ব্যবসাসফল হয়নি। সেই প্রেক্ষাপটে আমার ছবির ব্যবসা নিয়ে আমি খুশি ছিলাম। আর সেই সাফল্য থেকেই তো পরের ছবি করলাম। ‘চ্যাম্প’ ব্যবসা না করলে ‘ককপিট’ হতো না”, বলেন দেব। শুধু এসব নয়, সমস্যা আছে হল পাওয়া নিয়েও। এবার পূজাতেই খুব কমসংখ্যক প্রেক্ষাগৃহে নিজের ছবি দেখাতে পেরেছেন দেব। আক্ষেপ আছে তা নিয়েও। বড় প্রযোজনা সংস্থার দুই ছবির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, নানা গুজবের সঙ্গে যুদ্ধ না করলে তাঁর ছবি আরো ব্যবসা করত বলে মনে করেন দেব। গুজবের একটা বড় অংশ তৈরি হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাঁর সঙ্গে আরেক তারকা জিতের তুলনা করে নানা ধরনের কুত্সা ছড়িয়েছে কেউ কেউ। যা হেসেই উড়িয়ে দিলেন অভিনেতা, ‘দুনিয়া জিততে হলে পজিটিভ-নেগেটিভ দুটিকেই জিততে হবে। অনেস্টলি বলছি, এগুলো আমাকে প্রভাবিত করে না। আমার সঙ্গে জিতের কোনো প্রতিযোগিতাই নেই। আমি যে কাজ করি তার ধারেকাছে জিেক দেখতে পাচ্ছি না। আবার ও যে ধরনের কাজ করে তার ধারেকাছে আমাকে দেখতে পাচ্ছে না। অন্যের কথা শুনে তো আমি আমার জীবন চালাব না। ’ দেবের মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ছবির তালিকা দেখলে বদলে যাওয়া দেবের চেহারা আরো স্পষ্ট হবে। প্রথমেই আছে কৌশিক গাঙ্গুলীর ‘ধূমকেতু’। প্রযোজকের সঙ্গে ঝামেলায় যে ছবির কাজ শেষ হওয়ার পরও আটকে আছে। এ ছাড়া আছে অনিকেত চট্টোপাধ্যায় ও কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের ‘কবীর’ এবং ‘বিনয়-বাদল-দীনেশ’।


মন্তব্য