kalerkantho


আবার ইত্তেফাক

ষাটের দশকের শেষে যশ চোপড়ার ‘ইত্তেফাক’ চমকে দিয়েছিল বলিউড ছবির নিয়মিত দর্শকদের। এর প্রায় ছয় দশক পর ফের পর্দায় আসছে ছবিটি। লিখেছেন খালিদ জামিল

২ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



আবার ইত্তেফাক

দুটি খুনের ঘটনা, দুজন সন্দেহভাজন। একের পর এক রহস্যের জটলা।

এক বেপরোয়া পুলিশ অফিসার চায় সত্যটা জানতে। ‘ইত্তেফাক’-এর ট্রেলারে এভাবেই সিনেমাটির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এরই মধ্যে আড়াই মিনিটের ট্রেলার সাড়া ফেলেছে বেশ। ইউটিউবে দেখা হয়েছে দেড় কোটিবারেরও বেশি! পুরো ট্রেলারে রয়েছে সোনাক্ষী সিনহার সরব উপস্থিতি। ‘আকিরা’ আর ‘ফোর্স ২’-এর মতো দুটি অ্যাকশন ছবিতে কাজ করলেও পুরোপুরি থ্রিলারে এই প্রথম। তাঁর মতো রোমান্টিক ছবির অভিনেত্রীকে এই ছবিতে দেখে শুরুতে অবাক হয়েছিল অনেকেই। কিন্তু সোনাক্ষী যেন অপেক্ষা করছিলেন এমন কিছুরই। ‘ছবিতে একটা চরিত্রকে দুই দিক থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ব্যাপারটা আমার কাছে বেশ আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। কেবল সাদা আর কালো না, চরিত্রের মধ্যে একটা ধূসর জায়গাও আছে। যেকোনো অভিনেত্রীই এই চ্যালেঞ্জটা নিতে মুখিয়ে থাকবেন’, বলেন সোনাক্ষী। থ্রিলার, তাই ছবির গল্প বলতে মানা। রহস্য আরো জমিয়ে দিতে ছবির পাত্র-পাত্রীরাও আশ্রয় নিচ্ছেন নানা কৌশলের। ছবির প্রচারণার জন্য পরিচালক কিংবা কোনো অভিনেতা মিডিয়ায় কোনো কথাই বলেননি। কোনো রিয়ালিটি শোতে যাননি, সাক্ষাত্কার দেননি। এটা হয়েছে মূলত ছবির প্রযোজক করণ জোহর আর শাহরুখ খানের ইচ্ছাতেই। করণ বলেন, ‘মুক্তির আগে এটা নিয়ে কম আলোচনা হোক, যাতে দর্শক রহস্যের ভারটা হল পর্যন্ত বয়ে নিতে পারে। ’ ছবিতে আছেন সিদ্ধার্থ মালহোত্রাও। তবে আরেকজনের কথা না বললে আলোচনা অসম্পূর্ণই থেকে যাবে। তিনি অক্ষয় খান্না। এই ছবিতে তাঁর লুক নিয়ে এর মধ্যেই নানা কথা হচ্ছে। তাঁর করা পুলিশ অফিসার ‘দেব’ বছরের অন্যতম সেরা চরিত্র হবে, এমনটাও বলছে কেউ কেউ।

এই ছবি নিয়ে সোনাক্ষী খুব বেশি উত্তেজিত, কারণ তিনি নিজের ব্যর্থতা ঘোচাতে চান ‘ইত্তেফাক’ দিয়েই। পর পর ছবি ফ্লপের পর বলা যায় অভিনেত্রী দাঁড়িয়ে আছেন খাদের কিনারে। এই ‘ইত্তেফাক’ দিয়েই সাফল্যের রাস্তায় ফিরতে চান।
সোনাক্ষী মুখে অবশ্য বলছেন থ্রিলার বলেই এত আগ্রহী তিনি, ‘ভূতুড়ে বা ফ্যান্টাসি নিয়ে তেমন আগ্রহ নেই আমার। তবে থ্রিলারের ব্যাপারটাই আলাদা। পরিচালক আর গল্প যদি ভালো হয় তবে থ্রিলার মানুষ পছন্দ করবেই। এ ছবিতে সিদ্ধার্থও দারুণ করেছে। ও প্রতিটি দৃশ্যই পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করে নিতে পছন্দ করে। নিজের চরিত্রের পাশাপাশি জেনে নেয়, অন্যরা কে কী করবে। পুরো ছবিতে বিরতিহীনভাবে রয়েছে টানটান উত্তেজনাময় গল্প। চিরাচরিত ভারতীয় সিনেমার রীতি ভেঙে রাখা হয়নি কোনো গান। ’
করণ জোহরের ধর্ম প্রডাকশনস আর শাহরুখ খানের রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্টের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে এবারের ‘ইত্তেফাক’। ভারতীয় সিনেমা সম্পর্কে যারা মোটামুটি ধারণা রাখে, তাদের কাছে ‘ইত্তেফাক’ নামটা অনেক পরিচিতই মনে হবে। যশ চোপড়া ঠিক একই গল্প নিয়েই একই নামে ১৯৬৯ সালে একটি ছবি বানিয়েছিলেন। সেখানে রাজেশ খান্নার বিপরীতে অভিনয় করেন নন্দা। ছবিটি দুটি ক্যাটাগরিতে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছিল। সেই সময়ও ছবিতে কোনো গান রাখেননি যশ চোপড়া, যা ছিল ষাটের দশকের ভারতীয় ছবির জন্য বেশ অবাক করা বিষয়। মূল ‘ইত্তেফাক’ তৈরি হয়েছিল মার্কিন পরিচালক জর্জ ইংলান্ডের ১৯৬৪ সালের চলচ্চিত্র ‘সাইনপোস্ট টু মার্ডার’ অবলম্বনে। বেশির ভাগ থ্রিলার বা রহস্য ছবিতে প্রচুর ফ্ল্যাশব্যাক দৃশ্য থাকে। কিন্তু ষাটের দশকের ‘ইত্তেফাক’ ছবিতে মাত্র একটি ফ্ল্যাশব্যাক ছিল, যা সমালোচকদেরও অবাক করেছিল। নতুনটি কিভাবে তৈরি হয়েছে সেটা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আগামীকাল পর্যন্ত।


মন্তব্য