kalerkantho


শখের নির্মাতা নিলয়

অভিনয়ের নিলয় এখন নির্মাতাও। পরিচালক নিলয় আলমগীরের সঙ্গে কথা বললেন খায়রুল বাসার নির্ঝর

১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



শখের নির্মাতা নিলয়

নদীর পাড়ে ভেলা বানানো হচ্ছে। কয়েকটি কলাগাছ জড়ো করে, নির্দিষ্ট মাপে কেটে পাশাপাশি জুড়ে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে।

কঞ্চির আগায় একফালি পাতলা আসমানি রঙের কাপড় ঝুলিয়ে গেঁথে দেওয়া হবে ভেলায়। পালের সৌন্দর্য নিয়ে কাপড় উড়তে থাকবে বাতাসে ভর করে। প্রেমিকা বসবে ভেলার এক প্রান্তে। অন্য প্রান্তে প্রেমিকের হাতে থাকবে বইঠা, আর ঠোঁটে থাকবে গান। নদীর স্রোত তাদের নিয়ে যাবে দূরে, বহুদূরে!

অথচ আকাশ মেঘলা। যেকোনো সময় বৃষ্টি নেমে এই মধুর দৃশ্য বানচাল করে দিতে পারে। ভেলা বানানো শেষ হয়নি এখনো। নীলচে শার্ট, থ্রি কোয়ার্টার আর মাথার ক্যাপ উল্টো করে পরে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে নিলয় আলমগীর। আকাশের অবস্থা দেখে নিলেন।

ভেলা তৈরি পর্যবেক্ষণ করতে করতে হাসিমুখে জানালেন, ‘কয়েক দিন ধরে শুটিং করছি। শেষ করতে পারছি না। আবহাওয়াও খুব একটা ভালো না। ভেলা অলমোস্ট রেডি, আমি একটু দেখি ওদিকে!’

এরপর তিনি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে শট দেবেন না। ক্যামেরার পেছনে দাঁড়িয়ে শট নেবেন। কারণ এখানে তিনি পরিচালক। এ বছরের মাঝামাঝি থেকেই মোটামুটি একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পেরেছেন নিলয়, ‘অভিনয় করতে করতে অনেক সময়ই কিছু গল্প খুব ভালো লেগে যায়। কিছু গল্প মাথায় আসে। মনে হয়, সেগুলো যদি নিজের মতো করে করা যেত!’ নিলয়ের মাথায় অনেক দিন ধরে যে গল্পটি ঘুরছিল, সেটির নাম দিয়েছিলেন ‘উড়াল পাখি’। নিলয়ের বহু নাটকের পরিচালক সালাহউদ্দিন লাভলুকে

গল্পটি শুনিয়েছিলেন। “লাভলু ভাই বললেন, ‘পুবাইলে না, তুই আমার এলাকা কুষ্টিয়া গিয়ে শুটিং কর। ’ আমার হাতে অত সময় ছিল না। বাজেটও কম”—নিলয় বললেন। সঙ্গে প্রথমবার নির্মাণের অভিজ্ঞতাটাও জানিয়ে দিলেন, ‘খুব পরিশ্রমের কাজ!

 

‘উড়াল পাখি’র পর নিলয় আরো কয়েকবার এই ‘পরিশ্রমের কাজ’-এ নেমেছেন। ‘মিস ইউ মা’, ‘থ্রি লুজারস’, ‘মিস্টার ক্রাশ’ তাঁর একেকটি পরিশ্রমের ফসল। সবই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। তালিকা দেওয়া শেষে নিলয় জুড়ে দিলেন একবাক্য বিনয়, ‘আমি ওই অর্থে নির্মাতা না। শখে বানাই। ’ কিন্তু শখের তোলাও যে আশি টাকা! প্রতিটি শর্টফিল্মের শুটিংয়ের দিনগুলো ছাড়াও আগে-পরে আরো কয়েক দিন খরচ হয়। তা ছাড়া তাঁর শর্টফিল্ম মুক্তি দেওয়া হয় ইউটিউবে। ফলে নির্মাণ খরচ বহন করতে হয় নিজেকেই। এগুলোই যা ঝক্কি!

 

নিলয় বলেন, ‘ডিরেকশন এমন একটা ব্যাপার, ভালোবাসা না থাকলে এই কাজ সম্ভব না। যে পরিমাণ প্রস্তুতি নিয়ে শুটিংয়ে নামার কথা, অত সময় দিতে পারি না। এমনও হয়, আরেকজনের নাটকের শুটিং করতে গিয়ে নিজের প্রি-প্রডাকশন সেরে নিচ্ছি! এখন অনেকে বলছে, করছ যখন ভালোভাবেই করো। ’ পরামর্শটা নিলয়ের মনে ধরেছে। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়েই বানাবেন ‘উড়াল পাখি ২’। বরাবরের মতো এটিও দেখা যাবে তাঁর ইউটিউব চ্যানেল ‘নিলয় আলমগীর ফিল্মস’-এ। পরিচালনা নিয়ে ইউটিউব চ্যানেলের বাইরে বড় পরিসরে ভাবনা আপাতত নেই। পরিকল্পনা হচ্ছে, ‘করতে থাকি। দেখি কী হয়!’
 


মন্তব্য