kalerkantho


নায়ক যখন গায়ক

তাঁরা যেমন পর্দা কাঁপিয়ে অভিনয় করেন, তেমনি গানও করেন। এই তালিকায় রয়েছেন আলমগীর, জাফর ইকবাল, রুবেল, সালমান শাহ, শাকিব খান, আরিফিন শুভরা। তাঁদের প্লেব্যাক নিয়ে লিখেছেন সুদীপ কুমার দীপ

১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



নায়ক যখন গায়ক

আলমগীর

অভিনয়ে আসার আগে থেকেই গানের প্রতি আগ্রহ ছিল। পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গাইতেন।

তবে প্লেব্যাকের মাধ্যমেই কণ্ঠশিল্পী হিসেবে প্রথম আত্মপ্রকাশ করেন আলমগীর। ‘আগুনের আলো’ ছবিতে প্রথম প্লেব্যাক করেন এই অভিনেতা। এরপর ‘কার পাপে’, ‘ঝুমকা’সহ বেশ কয়েকটি ছবিতেও গেয়েছেন। এমনকি নিজের পরিচালনায় ‘নিষ্পাপ’-এও গেয়েছিলেন।

জাফর ইকবাল

১৯৬৬ সালে ‘রোলিং স্টোন’ নামের একটি ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই ব্যান্ডের হয়ে গাইতে গিয়ে পরিচয় ঘটে খান আতাউর রহমানের সঙ্গে। সুযোগ পান নায়ক হওয়ার। নায়ক হওয়ার পর জাফর ইকবাল প্রথম প্লেব্যাক করেন ‘পিচঢালা পথ’ ছবিতে। তাঁর সঙ্গে ডুয়েট গানটি গেয়েছিলেন রুনা লায়লা। এটি সুর করেন আলাউদ্দিন আলী। জাফর ইকবালের জনপ্রিয় গান ‘বদনাম’ ছবির ‘হয় যদি বদনাম হোক আরো’। গানটির সুরকার জাফর ইকবালের বড় ভাই আনোয়ার পারভেজ। শুরুতে তাঁর পছন্দে জাফর ইকবাল ছিলেন না। চেয়েছিলেন আব্দুল জব্বারকে দিয়ে গাওয়াবেন। কিন্তু গান তৈরির পর জাফর ইকবালকে দিয়ে রাফ ভয়েস দেওয়ার সময় সিদ্ধান্ত বদল করেন। প্রযোজক-পরিচালককে রাজি করিয়ে ফাইনাল ভয়েস নেন জাফর ইকবালের। এই ছবির পর জাফর ইকবাল ‘ফকির মজনু শাহ’সহ আরো কয়েকটি ছবিতে প্লেব্যাক করেন।

রুবেল

অভিনয় ক্যারিয়ারের শেষ দিকে এসে গায়কের খাতায় নাম লিখিয়েছেন রুবেল। তবে একটি-দুটি নয়, অনেক ছবিতেই গান গেয়েছেন তিনি। তাঁর পরিচালনায় প্রথম ছবি ‘মায়ের জন্য যুদ্ধ’তে প্রথম কণ্ঠ দেন। এরপর ‘অন্ধকারে চিতা’, ‘বাঘে বাঘে লড়াই’, ‘খুনের পরিণাম’ ছবিতে গেয়েছেন এই ‘লড়াকু’ তারকা। বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, প্রত্যেক অভিনেতাই চেষ্টা করলে গাইতে পারেন। কারণ অভিনয়টাও গানের একটা অংশ। কোনো সময় চিত্কার করে কাঁদতে হয়, কখনো আবার হাসির রোল পড়ে যায়। গানের স্কেল ওঠানামার মতো। ’

সালমান শাহ
ভালো গিটার বাজাতেন, গাইতেনও। বিটিভির ছোটদের অনুষ্ঠানেও গেয়েছেন, খালি গলায় গেয়েছেন বিটিভির নাটক ‘ইতিকথা’য়। ১৯৯৪ সালের কথা, চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়ে চলেছেন। ছবিতে তাঁকে কতভাবে ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে ভাবতে লাগলেন প্রযোজক-পরিচালক। ‘প্রেম যুদ্ধ’ ছবির সেটে পরিচালক জীবন রহমান দেখলেন, গুনগুন করে গাইছেন সালমান। তখনই সালমানের কাছে গিয়ে বললেন, ‘তুমি তো দারুণ গাও!’ সালমানও মজা করে বললেন, ‘তাহলে আমাকে দিয়ে তোমার ছবিতে প্লেব্যাক করাও। ’ এ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। তখনই আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকে ফোন করলেন জীবন। সালমান শাহকে দিয়ে গাওয়ানো যায় এমন একটা গান তৈরি করার কথা বললেন। শ্রুতি স্টুডিওতে মাত্র দুই ঘণ্টায় পেশাদার শিল্পীর মতো শেষ করলেন ‘তুমি আমার জীবনের এক স্বপ্ন যেন’ শিরোনামের গানটির রেকর্ডিং। সালমানের সঙ্গে গেয়েছেন কনকচাঁপা। অবাক হয়ে গেলেন পরিচালক। বলেন, ‘সালমান শুধু অভিনয়ে নয়, গায়ক হিসেবেও ছিলেন দারুণ। আমার পরের ছবিতেও তাঁর একটি গান রেখেছিলাম। কিন্তু সেটা আর গাওয়ানো হলো না। তার আগেই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। ’ অবশ্য সালমানের গাওয়া আরেকটি গান ‘রজনীগন্ধা আমার’ পাওয়া যায় ইউটিউবে, গানটি রেকর্ড করা হয়েছিল নির্মাণাধীন আরেকটি ছবির জন্য।

শাকিব খান

প্লেব্যাকে নাম লিখিয়েছেন শাকিব খানও। মালেক আফসারীর ‘মনের জ্বালা’ ছবিতে প্রথম প্লেব্যাক করেন। আলী আকরাম শুভর সংগীত পরিচালনায় কবির বকুলের লেখা ‘আমি চোখ তুলে তাকালেই’ গাইতে খুব বেশি সময় নেননি তিনিও। শুভ বলেন, ‘শাকিবের সুরের সেন্সটা খুব ভালো। আমি কী চাইছি সেটা সহজেই বুঝতে পেরেছিল। গানটির মুখেই তিন রকমের সুর ব্যবহার করেছিলাম। সবগুলো চড়া নোটের। আমি বুঝিয়ে বললেই সে ধরতে পারে। ঠিক যেভাবে চেয়েছি, সেভাবেই গানটি গেয়েছে। ’ পরে ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী ২’-তেও প্লেব্যাক করেন। এই গানটিও লিখেছিলেন কবির বকুল। সংগীতায়োজনে শওকত আলী ইমন।

আরিফিন শুভ

গাইতে ভীষণ পছন্দ করেন এই অভিনেতা। বন্ধুমহলে গায়ক হিসেবে তাঁর বেশ সুনাম। তাই বলে প্লেব্যাক করবেন ভাবেননি কখনো। ইফতেখার চৌধুরীর ‘অগ্নি’ ছবিতে প্রথম প্লেব্যাক করেন আরিফিন শুভ। ‘ডুবে যাই তোমার ভাবনায়’ শিরোনামের গানটিতে তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছিলেন কণা। এরপর অনন্য মামুনের ‘অস্তিত্ব’ ছবির জন্যও একটি গান করেন। ‘আমি বাংলার হিরো’ শিরোনামের গানটির সংগীত পরিচালনায় ছিলেন প্রীতম হাসান।
প্রীতম বলেন, ‘শুভ ভাইয়ের কণ্ঠ জাত শিল্পীদের মতো। আমি রেকর্ডিংয়ের সপ্তাহখানেক আগে তাঁকে মিউজিক ট্র্যাক পাঠাই। তিনি সেটি শুনে দারুণভাবে গেয়েছিলেন। ছবি মুক্তির কিছুদিন আগে গানটি মুক্তি পেয়েছিল। বেশ সাড়া পেয়েছিলাম গানটির জন্য। ’


মন্তব্য