kalerkantho


তেত্রিশ বছর কাটল

তেত্রিশ বছরের সংগীতজীবনে একক অ্যালবাম ২৮টি। কিছুদিন আগে প্রকাশ করলেন সর্বশেষটি—‘ককটেল’। অ্যালবাম ও অন্যান্য বিষয়ে কথা বলেছেন শুভ্র দেব। লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



তেত্রিশ বছর কাটল

আমেরিকায় কনসার্ট করে দেশে ফিরলেন ৬ অক্টোবর। গেল ঈদে টিভিতে গেয়েছেন সাতটি অনুষ্ঠানে।

অভিনয় করলেন নাটক ‘অন্য প্রাণের সুর’-এ। নাটকটির গল্প গান-বাজনা নিয়েই। সে কারণেই অভিনয়ের প্রস্তাব ফেরাননি জনপ্রিয় এই গায়ক। কিন্তু ভক্তদের যে অভিযোগ, নতুন গান নেই শুভ্রদেবের! “কিছুদিন আগেই তো ‘ককটেল’ নিয়ে এলাম। এটা আমার ২৮তম একক অ্যালবাম। সব গানের কথা, সুর আমার; সংগীত পরিচালনায় জে কে মজলিস”—বললেন শুভ্রদেব।

নামটা ‘ককটেল’ কেন? ‘কারণ গানগুলোর একটা আরেকটা থেকে আলাদা। সুর, কথা— সব কিছুর মধ্যেই থাকবে আলাদা বৈশিষ্ট্য। ’

২০১৪ সালে প্রকাশ করেছিলেন আগের অ্যালবাম ‘জলছবি’।

প্রায় তিন বছর সময় নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগের অ্যালবামগুলোও কিন্তু এভাবেই করেছি, সময় নিয়ে। আমি আসলে মানসম্পন্ন কাজ করতে চাই, ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই। ’

শিগগিরই অ্যালবামের গানের ভিডিও নির্মাণ করবেন। ভাবছেন দেশে বাইরের কোনো নির্মাতাকে দিয়ে ভিডিও নির্মাণ করাবেন।

গানে তেত্রিশ বছর হয়ে গেল। শুরুর দিককার কথা মনে পড়ে? “পড়ে না আবার! নতুন কুঁড়িতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আমার জন্য পথচলাটা অনেক সহজ হয়েছে। অডিশন ছাড়াই বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত শিল্পী হয়ে গিয়েছিলাম। এরপর ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’, ‘শুভেচ্ছা’য় গাওয়ার সুযোগ হলো। সত্যি বলতে, আমি বাধার সম্মুখীন হইনি। তবে জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। প্রথম অ্যালবাম হিট হওয়ার পর খুব ভেবেচিন্তে সামনে পা রেখেছি। সব সময় ভাবতাম, কিভাবে নিজেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারব! সেটা হলে তো দেশেরই সম্মান। ”

এই লম্বা সময়ের বিশেষ কোনো স্মৃতি মনে পড়ে? “১৯৯৮ সালের কথা। আমি তখন মিনি বিশ্বকাপের থিম সং গেয়েছিলাম ঢাকা স্টেডিয়ামে। তখনকার আইসিসি প্রেসিডেন্ট প্রয়াত জগমোহন ডালমিয়া আমার গান শুনে অনেক প্রশংসা করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘উই নিড পিপল লাইক ইউ ইন দিজ ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড। ’ আরেকটা ঘটনা ১৯৯৯ সালের, শচীন টেন্ডুলকার বাংলাদেশে খেলতে এসেছিলেন। তখন তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল। তাঁকে হারমোনিয়াম বাজিয়ে প্রয়াত কিশোর কুমারের একটি গান শুনিয়েছিলাম। শুনে তিনি বলেছিলেন, ‘তুমি মুম্বাই এসে গান করো না কেন?’ আমি তো শচীনের বড় ভক্ত, তাঁর কাছ থেকে প্রশংসা শোনার পর খুব ভালো লেগেছিল। ”

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নিজের টার্নিং পয়েন্ট বলে মনে করেন প্রথম অ্যালবাম ‘হ্যামেলিনের বাঁশিওয়ালা’কে। এরপর পেপসির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়েও সাড়া ফেলেছিলেন। ১৯৯৮ সালে আইসিসি মিনি বিশ্বকাপের থিম সং গেয়েও জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন, এটাকেও বিশেষ অর্জন মানেন শুভ্রদেব।

পারিবারিক জীবনেও সফল। স্ত্রী টুম্পা দেব আর একমাত্র ছেলে শ্রেয়ান দেবকে নিয়ে সুখের সংসার। ছেলে ক্লাস থ্রিতে পড়ে। ‘আমার মা-বাবা দুজনই মারা গেছেন। ২০১৩-তে মা আর গত বছর মারা গেলেন বাবা। এক যুগ ধরে তাঁরা আমেরিকায়ই থাকতেন। আমার চার বোন। দুই বোন থাকেন আমেরিকায়, একজন দুবাইতে, আরেকজন কানাডায়’—বললেন শুভ্র।

ছেলেও কি গানে আসবে? ‘না। ও খেলাধুলা করে, ক্রিকেট তার পছন্দ। ওকে ক্রিকেট ক্লাবগুলোতে নিয়ে যাই। আমিও তো ক্রিকেটার হতে চাইতাম। বাবার কথামতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োকেমিস্ট্রিতে ভর্তি হই।   পড়াশোনাটাও খুব মনোযোগ দিয়েই করেছি। ’

গান নিয়ে তাঁর অনেক পরিকল্পনা। আপাতত সেসব প্রকাশ করতে চাইছেন না। তবে সংগীতজীবন নিয়ে বায়োগ্রাফি লেখার ইচ্ছা  আছে তাঁর।


মন্তব্য