kalerkantho


অক্ষয় রহস্য

শাহরুখ খান, সালমান খান, কঙ্গনা রানাওয়াত, রণবির কাপুররা ফ্লপ হলেও একের পর এক হিট উপহার দিয়ে যাচ্ছেন অক্ষয় কুমার। তাঁর সাফল্যের রহস্য খুঁজেছেন লতিফুল হক

১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



অক্ষয় রহস্য

সময়টা ২০১৩। ‘থ্যাংক ইউ’, ‘দেশি বয়েজ’, ‘রাউডি রাঠোর’, ‘খিলাড়ি ৭৮৬’-র মতো কমেডি বা অ্যাকশন-কমেডি করতে করতে ক্লান্ত অক্ষয় কুমার, সঙ্গে দর্শকও।

এই সময় মুক্তি পায় ‘স্পেশাল ২৬’। মুক্তির আগে তেমন প্রচার ছিল না, প্রত্যাশাও না। কিছু মানুষ দেখতে গিয়েছিল নীরজ পাণ্ডের ছবি বলে, যিনি আগে ‘আ ওয়েনেসডে’ বানিয়েছেন। কিন্তু দেখতে গিয়ে অবাক। এ কোন অক্ষয়! কমেডি ছবির একঘেয়ে অভিনয় নয়, টান টান থ্রিলার একাই এগিয়ে নিয়ে গেছেন নতুন অক্ষয়। ফল, ছবি সুপারহিট। সেই সঙ্গে হিট অক্ষয়-নীরজ জুটি। একই সঙ্গে শুরু নতুন ইতিহাসও। বলা যায়, অভিনয় ক্যারিয়ারের নতুন ধাপ শুরু হয় অভিনেতার। তার পর থেকে এই চার বছরে বেশ কয়েকটি ছবি করেছেন অক্ষয়-নীরজ। সবই সুপারহিট। ‘স্পেশাল ২৬’-এর পর নীরজ তাঁর পরের ছবি ‘বেবি’তেও মূল চরিত্রে রাখেন অক্ষয়কে। নিজের পরিচালিত ছাড়া প্রযোজিত, চিত্রনাট্য করা ছবিগুলোতে অক্ষয়কে নেন নীরজ [রুস্তম, নাম শাবানা, টয়লেট : এক প্রেমকথা]। সবই দারুণ ব্যবসা করেছে। এমনকি ২০১৭ সালে যে বছর সালমান, শাহরুখ, আলিয়া, কঙ্গনা—সবাই ফ্লপ, তখনো অক্ষয়ের ‘টয়লেট : এক প্রেমকথা’ ১০০ কোটি রুপির বেশি ব্যবসা করেছে। ছবি মুক্তির আগে সবাই ভেবেছিল, এমন একটি বিষয় নিয়ে সচেতনতামূলক ছবি দেখতে গিয়ে মানুষ বিরক্ত হবে। কিন্তু হয়েছে উল্টো। “ওর সঙ্গে আমার বোঝাপড়াটা দারুণ। আমার ছবিগুলোতে দেখবেন প্রায় একই অভিনেতারা ঘুরেফিরে কাজ করে। এটা আমার কাজের ধরন। অক্ষয়ের সঙ্গে ‘স্পেশাল ২৬’ ক্লিক করার পরই বুঝে যাই আমাদের জুটি জমবে”—বলেন নীরজ। অক্ষয় নিজে নীরজের এতটা ফ্যান যে জোর করে হলেও তাঁর ছবিতে চরিত্র ‘ছিনতাই’ করতে চান। গেল চার বছরের মধ্যে শুধু নীরজের ‘এমএস ধোনি : দি আনটোল্ড স্টোরি’তেই ছিলেন না অক্ষয়। যা নিয়ে নানা সময়ে নিজের গোসসা প্রকাশ করেছেন অক্ষয়। উত্তরে নীরজ হেসে বলেছেন, ‘কোনো উপায় ছিল না। ধোনির চরিত্রে অক্ষয়কে নিলে খুবই হাস্যকর হতো। ’ অক্ষয়-নীরজ জুটির পরের ছবি ‘ক্র্যাক’ মুক্তি পাবে সামনেই।
অক্ষয় কুমারের সাফল্যের আরেক কারণ চিত্রনাট্য বাছাই। শাহরুখ যখন দুর্বল চিত্রনাট্যের ছবি করছেন, সালমান নির্ভর করছেন রিমেকে, অক্ষয় তখন বেছে নিয়েছেন মৌলিক চিত্রনাট্য। ‘এয়ারলিফট’ থেকে ‘জলি এলএলবি ২’ এ জন্যই দর্শক পছন্দ করেছে। আর ‘রুস্তম’ তো শুধু হিটই হয়নি, এই ছবির জন্য প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।
অক্ষয় সাফল্যের আরেকটি বড় কারণ বাজেট। তাঁর অভিনীত সব ছবিই কম বাজেটে তৈরি। হালের হিট ‘টয়লেট’ তৈরি হয়েছে মাত্র ১৮ কোটি রুপিতে। কম বাজেটে তৈরি ছবিগুলো ভারত আর বিদেশে প্রচুর হলে মুক্তি পায়। টাকা ফেরত আসে সহজেই।
বড়দিন, দিওয়ালির মতো দিনগুলোতে যখন ছবি মুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা চলে, শাহরুখ-হূতিকরা লড়াইতে নামেন, অক্ষয় তখন নিশ্চয় মুচকি হাসেন। কারণ এসব সময়ে কখনোই ছবি মুক্তি দেন না তিনি। অক্ষয় বেছে নেন স্বাধীনতা দিবস বা সাধারণ কোনো দিন। বলিউডের বাণিজ্য বিশ্লেষক রাকেশ মেহতার মতে, ‘অক্ষয় ছবি করেছে দেশপ্রেম, সমাজসচেতনতার মতো বিয়য়, যা মানুষকে আকর্ষণ করেছে। তা ছাড়া যে সপ্তাহে একাধিক ছবি থাকে না, সেই সপ্তাহেও সে ছবি মুক্তির জন্য বেছে নেয়। ’ তবে মেহতার মতে, এগুলোর সবই অগুরুত্বপূর্ণ কারণ। মূলত কম বাজেটে মৌলিক চিত্রনাট্য, যেগুলো ভীষণভাবে ‘ভারতীয়’, সেসব ছবি করার কারণেই অক্ষয়ের এই উত্থান। অন্যদের মতো এই কয়েক বছরে ‘সিং ইজ ব্লিং’ বা ‘হাউসফুল ৩’ ছাড়া বলিউডের প্রচলিত মসলা ছবি কিন্তু খুব বেশি করেননি অক্ষয়।
অন্য তারকাদের ছবির জন্য যখন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, তখন অক্ষয়ের ছবি পাওয়া যায় সহজেই। নিয়মিত পর্দায় উপস্থিতিও অভিনেতার সাফল্যের বড় কারণ বলে মনে করেন এই সমালোচক। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শেষ ১০ বছরে ৩৭টি ছবি মুক্তি পেয়েছে অভিনেতার!
বিনয়ী অক্ষয় অবশ্য এত সব বিশ্লেষণে যেতে চান না। সাফল্যের কৃতিত্ব দিতে চান পরিচালকদের। তবে তিনি যে ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটাচ্ছেন, সেটা মেনে নেন একবাক্যে। এ জন্য কৃতিত্ব দিতে চান ভাগ্যকেই, ‘আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি। ভালো-মন্দ সব ধরনের ছবিই করেছি। দিনের পর দিন ব্যর্থ হয়েছি। হাল ছাড়িনি। এখন সাফল্য পাচ্ছি, এটা নেহাতই ভাগ্যগুণে। অবশ্যই আমি পরিশ্রম করেছি, কিন্তু ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই হয়েছে কপালগুণে। ’
সামনে অভিনেতার মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ছবির লম্বা তালিকা, যেখানে আছে ১৯৪৮ সালে অলিম্পিকে ভারতের প্রথম মেডেল জয়ের গল্প নিয়ে ছবি ‘গোল্ড’, গ্রামের মেয়েদের স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতায় কাজ করা তামিলনাড়ুর যুবক অরুণচলম মুরুগানান্থামের বায়োপিক ‘প্যাডম্যান’।


মন্তব্য