kalerkantho


কাভার থেকে অরিজিনাল

১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



কাভার থেকে অরিজিনাল

ইউটিউবে কাভার সং করে জনপ্রিয়তা পাওয়া গায়িকা জেফার রহমান প্রকাশ করেছেন নিজের প্রথম একক ‘আনকেইজড’। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন
‘এত দিন কাভার সং করেছি।

তাই চিন্তায় ছিলাম আমার কণ্ঠে অরিজিনাল গান মানুষ কিভাবে গ্রহণ করে! অ্যালবামটি প্রকাশ করার পর দেখি সবাই কাভার থেকে অরিজিনাল গানই বেশি পছন্দ করছে। ব্যাপারটি সারপ্রাইজিং’, বলছিলেন জেফার রহমান। গায়িকার প্রথম এই এককের নাম ‘আনকেইজড’। গান রয়েছে ৯টি। সাতটি ইংরেজি, দুটি বাংলা—‘সময়’ এবং ‘কে কবে হেরেছে’। প্রসিউসার নাগিব হক। ভাগাভাগি করে সুর দিয়েছেন জেফার ও নাগিব। ‘জাজ’ এবং নিজের বাবাকে নিয়ে করা ‘সামবডি’র ভিডিও আগেই প্রকাশ করেছিলেন। টাইটেল গানটি একই সঙ্গে রিয়া সেন ও পরমব্রত অভিনীত যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘সেনাপতি’রও টাইটেল। এই প্রথম জেফারের কোনো গান যাচ্ছে চলচ্চিত্রে। এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন নতুন দুটি ভিডিওর। গানগুলোর নাম এক্ষুনি বলতে চান না! অবশ্য অ্যালবামটি নিয়ে অনুভূতির কথা গোপন করেননি, ‘এটা আমার স্বপ্নের অ্যালবাম। দীর্ঘদিন ধরে গানগুলো নিয়ে কাজ করেছি। বাস্তবে আমি যে বিষয়গুলো ভাবি, নিজেকে যেভাবে চিন্তা করি, সেটাই এখানে তুলে আনার চেষ্টা করেছি। আমি চাই সারা পৃথিবীতে আমার কণ্ঠটি ছড়িয়ে যাক। সেই ভাবনা থেকেই ইংরেজি গানের সংখ্যা বেশি। ’

২০০৯ সালে ইউটিউবে প্রথম কাভার করা গান প্রকাশ করেন জেফার। যদি সেটি এখন তাঁর চ্যানেলে নেই। ২০১১ সালে ভিডিও আকারে প্রথম কাভার করেন এ ফাইন ফ্রেনজির (আলিসন সুদল) ‘অলমোস্ট লাভ’। সব মিলিয়ে এখন জেফারের চ্যানেলে কাভার করা গানের সংখ্যা এক ডজন।   সবচেয়ে বেশি রেসপন্স পেয়েছেন মাইকেল জ্যাকসনের ‘ডার্টি ডায়ানা’র জন্য। এখন তো নিজেই গান বানাচ্ছেন। তাহলে কি কাভার আর করবেন না? ‘না। তা কেন হবে। কাভার করেই তো এত দূর এসেছি। মানুষ আমাকে চিনেছে। সময়-সুযোগ বুঝে নিজের পছন্দের ভালো লাগার গানগুলো অবশ্যই কাভার করব। নতুন গানও নিয়মিত প্রকাশ করব’, বলেন জেফার। জেফারের গান প্রকাশের প্রধান মাধ্যম ইউটিউব। এই মাধ্যমে গান প্রকাশের কিছু সুবিধার কথাও বললেন, ‘ইউটিউবে গান ছাড়ার বড় সুবিধা এর কন্ট্রোল নিজের হাতে থাকে। একটি গানের জন্য ভালো ফিডব্যাক পেলে তা সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায়। অনুপ্রেরণাও পাওয়া যায়।   আবার একটি গানের জন্য খারাপ কমেন্ট এলে তখন ভুলটি শুধরে নিজেকে আরো ভালোভাবে তৈরি করা যায়। ’

জেফারের গানের বিশেষত্ব কী? ‘অনেকেই শ্রোতার কথা মাথায় রেখে গান করেন। আমি এর বিপরীতে। আমি মনে করি আমার গানের প্রথম শ্রোতা আমি। নিজে সন্তুষ্ট হতে না পারলে সেই গানটি প্রকাশ করি না। শ্রোতাদের খুশি করতে গিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলার পক্ষে আমি নই। নিজের মতো করে ভালো কিছু সৃষ্টি করতে পারলে শ্রোতার ভালো লাগবে বলেই আমার বিশ্বাস’, বলেন জেফার। তাঁর সংগীতশিল্পী হয়ে ওঠার গল্পটা আর সবার চেয়ে আলাদা। বড় হয়ে শিল্পী হবেন—এই স্বপ্নই ছিল না। এমনকি কারো কাছে হাতেখড়িও নেননি। ‘আমি কখনোই গান শিখিনি। বলতে পারেন এটা মিরাকল। অন্য ছেলে-মেয়েদের মতো আমারও গান শোনার নেশা ছিল। বেশি শোনা হতো ইংরেজি। এভাবে শুনতে শুনতে নিজের অবচেতন মনে কখন যে গানকে হূদয়ে ধারণ করে ফেলি জানি না’, বলেন জেফার। ১৬ বছর বয়সে এসে জেফার আবিষ্কার করেন তিনিও গাইতে জানেন! মজা করেই একটি গান ফোনে রেকর্ড করেন। বন্ধুদের শোনানোর পর সবাই বিস্মিত হয়। উত্সাহ দেয়। এভাবেই ধীরে ধীরে গানের জগতে পা বাড়ান। শুরুটা শখের বসে হলেও গত তিন বছর ধরে জেফার গাইছেন সিরিয়াসলি। শখ থেকে গানই এখন তাঁর পেশা। কথার শেষভাগে জেফার বলেন, ‘আমি খুব লাকি যে সব সময়ই পরিবারের সাপোর্ট পেয়েছি। কিন্তু আমাদের দেশে মা-বাবারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েদের এ পথে আসতে দেন না। মেয়েদের তাঁরা একটি নরমাল রুটিনে, একটি বক্সে আটকে রাখতে চান। ফলে ইচ্ছা এবং মেধা থাকার পরও অনেকে নিজেকে প্রমাণ করতে পারে না। আমি সেই মা-বাবা বা পরিবারদের বলব, ‘দয়া করে আপনাদের মেয়েকে আটকে রাখবেন না। তাকে নিজের মতো করে বেড়ে উঠতে দিন। দেখবেন সেও একদিন বড় কিছু করে দেখাচ্ছে। ’


মন্তব্য