kalerkantho


গোলাম-রানির বন্ধুত্ব

শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবে ঘটেছিল তাই—মহারানি ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল তাঁরই খাস চাকর আবদুল করিমের! এ নিয়ে তৈরি চলচ্চিত্র মুক্তি পাচ্ছে আগামীকাল। স্টিফেন ফ্রিয়ার্সের ছবিটি নিয়ে লিখেছেন হাসনাইন মাহমুদ

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



গোলাম-রানির বন্ধুত্ব

১৮৮৭ সালে ব্রিটিশ রাজদরবারের এক অনুষ্ঠানে কর্মচারীর দায়িত্ব পালন করতে আসেন সুদর্শন এক ভারতীয় যুবক। যা নজরে আসে ৬৮ বছর বয়সী রানি ভিক্টোরিয়ার।

বস্তুত নিজের শাসনামলের সুবর্ণ জয়ন্তীতে ভিক্টোরিয়া নিজেই কয়েকজন ভারতীয় ভৃত্যকে আনার নির্দেশ দেন। যাঁর মধ্যে ছিলেন আবদুল করিম আর মুহাম্মদ বকস। তবে অসাধারণ রসবোধ আর সাবলীলতার জন্য রানির প্রিয় পাত্রে পরিণত হন আগ্রার তরুণ করিম। ক্রমেই তাঁকে নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষদের একজন ভাবতে থাকেন রানি। শিখতে চান করিমের দেশের ভাষা, আদবকেতা। রানির উর্দু শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান আবদুল। রাজদরবারে এক ভারতীয় মুসলমান যুবকের মহারানির সান্নিধ্য, পদপ্রাপ্তি নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়। তাতেও লাভ হয় না। ক্রমেই রাজসিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখতে থাকেন আবদুলও। ফল, রাজসভার অন্যরা মিলে ষড়যন্ত্র শুরু করে তরুণ আবদুলকে নিয়ে। মহারানির ব্যক্তিত্বের কাছে অবশ্য সেসব পাত্তা পায় না। চলচ্চিত্রের প্রধান দুই চরিত্র মহারানি ও আবদুলের চরিত্র করেছেন যথাক্রমে জুডি ডেঞ্চ ও ভারতীয় অভিনেতা আলী ফজল। আগেও একবার ভিক্টোরিয়া চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসায় ভেসেছিলেন জুডি। ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মিসেস ব্রাউন’ তাঁকে এনে দেয় বাফটা পুরস্কারও। মজার ব্যাপার ‘মিসেস ব্রাউন’ চলচ্চিত্রেও ফুটে উঠেছিল রানি ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে রাজপরিবারের স্কটিশ এক কর্মচারী জন ব্রাউনের সম্পর্ক। এ ছাড়া ‘শেকসপিয়ার ইন লাভ’-এ রানি প্রথম এলিজাবেথ চরিত্রে অভিনয় তাঁকে এনে দিয়েছিল অস্কার। জুডির জন্য রানির চরিত্র ডাল-ভাত হলেও এমন একটি ছবির অন্যতম প্রধান চরিত্র করা ভারতীয় অভিনেতা আলী ফজলের জন্য বিশেষ কিছু। বিভিন্ন চলচ্চিত্র উত্সবে প্রদর্শনের পর থেকেই প্রশংসায় ভাসছেন ‘ফুকরে’খ্যাত এই অভিনেতা। জুডি তাঁর সম্পর্কে সনদ দিয়েছেন, ‘ও একজন জাত অভিনেতা। ’ আর ‘আবদুল’ ওরফে আলী বলছেন, ‘এই চরিত্র পেয়ে আমি গর্বিত। এটা অসাধারণ একটা সফর ছিল। পরিচালক স্টিফেন ফ্রিয়ার্স দুজনের রসায়নটা দারুণভাবে তুলে এনেছেন। ’


মন্তব্য