kalerkantho


পূজার সেই দিনগুলো

দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের ঘরে ঘরে। শোবিজের হিন্দু তারকারাও এখন ব্যস্ত পূজার কেনাকাটা ও উত্সব উদ্যাপনের পরিকল্পনা নিয়ে। এরই ফাঁকে একটু স্মৃতিকাতর হয়ে উঠলেন তাঁরা, স্মৃতিচারণা করেছেন ছোটবেলার পূজামণ্ডপের, বলেছেন মজার সব ঘটনার কথা

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



পূজার সেই দিনগুলো

ঢোলের প্রেমটা এখনো ভুলিনি

কুমার বিশ্বজিত্

ছোটবেলায় নাওয়া-খাওয়া ভুলে পড়ে থাকতাম পূজামণ্ডপে। অন্য গ্রাম থেকে একজন ঢোলবাদক আসতেন আমাদের গ্রামে।

মন্দিরে ঢোল বাজাতেন। আমি সারা দিন তাঁর সঙ্গে থাকতাম। তিনি যে ঘরে ঘুমাতেন সেখানে গিয়ে ঘুমাতাম। মা-বাবা মারধর পর্যন্ত করতেন। তাঁরা বলতেন, ‘তুই কি ঢোলবাদক হবি নাকি! সারা দিন ওর পিছে পিছে কী?’ কারো কথা শুনতাম না। সেসব স্মৃতি খুব মিস করি। এখন তো কাজের চাপে এক বা দুই দিন পরিবার নিয়ে মণ্ডপে যাই। আর তখন কী পাগলই না ছিলাম! লক্ষ করলে দেখবেন, আমার বেশির ভাগ গানেই ঢোল বা ওই সব বাদ্য রাখা হয়। ঢোলের সেই প্রেমটা এখনো ভুলতে পারিনি।

নতুন কাপড় লুকিয়ে রাখতাম
মৌটুসী বিশ্বাস

ছোটবেলার পূজামণ্ডপ মানেই আমার কাছে চট্টগ্রামের রামকৃষ্ণ মিশন। ওখানে ভোগ খেতাম। আশপাশে পরিচিত অনেক ফ্যামিলি, তাদের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে খেলতাম। তখন কারো ভরসা করে পূজামণ্ডপে যেতাম না। নিজের মতো করে চলে যেতাম। সারা দিন ঘুরে বেড়াতাম। এখন তো পরিবার নিয়ে যেতে হয়। ঢাকায় আছি ১০ বছরের কিছু বেশি হবে। ছোটবেলায় পূজায় নতুন কাপড় কিনলে কাউকে বলতাম না। লুকিয়ে রাখতাম। এখনো পূজার সময় এই কাজটা করি। স্বামী-সন্তানকেও দেখাই না।

পুজো মানেই নতুন জামা

জ্যোতিকা জ্যোতি

প্রতিবছরের মতো এবারের পুজোয় ময়মনসিংহ থাকব। পুজো মানেই নতুন জামা, ছোটবেলায় এই বিষয়টা সবচেয়ে বেশি আনন্দের ছিল। হরেক রকম খাবার খেতে পারতাম তখন। আমরা দুই বোন সব সময় একসঙ্গে থাকতাম। বোনের সঙ্গে মিল রেখে জামা কিনতাম। মামারা নতুন জামা উপহার দিতেন। এ নিয়েও ভীষণ এক্সাইটেড থাকতাম। কবে দেবেন জামা, রং কী হবে, সঙ্গে জুতা থাকবে তো—এই সব বাচ্চামি তো এখন করতে পারি না। এখনকার বাচ্চাদের দেখে সেসব স্মৃতি মনে পড়ে।

অষ্টমীতে কুমারী সেজেছিলাম

অপর্ণা ঘোষ

আমি তখন ক্লাস ফোর বা ফাইভে। এক অষ্টমীতে কুমারী পূজায় আমাকে কুমারী সাজানো হয়েছিল। স্টেজে বসে আছি আর সবাই নিচে থেকে আমাকে প্রণাম করছে। নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে হয়েছিল তখন। দশমীর দিন রং মারামারি হতো। আর যখন দুর্গা মাকে বিসর্জন দেওয়া হতো তখন খুব কষ্ট লাগত। কান্নাকাটি করতাম। দিনগুলো খুব মিস করি।

নৌকা প্রায় উল্টেই যাচ্ছিল

বিদ্যা সিনহা সাহা মিম

আমার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে। কুমিল্লায় পড়াশোনা করতাম। পুজোর সময় রাজশাহীতে থাকতাম। তখন আমার প্রথম ও প্রধান কাজ ছিল সেজেগুজে মণ্ডপে যাওয়া। সারা দিন হৈ-হুল্লোড় করে কাটাতাম। নৌকায় চড়তে আমার ভীষণ ভালো লাগে। একবার তো নৌকা প্রায় উল্টেই যাচ্ছিল। সেদিন হয়তো মরেও যেতে পারতাম। স্মৃতিটা খুব মনে পড়ে। ওই ঘটনার পরও নৌকায় চড়েছি। আমার বেশ ভালো লাগে নৌকায় চড়তে। আর দশমীর দিন নদীতে বিসর্জনের স্মৃতিগুলোও খুব মনে পড়ে।

চিত্কার করে কান্না শুরু করলাম

উর্মিলা শ্রাবন্তী কর

ছোটবেলার একবার মামার বাড়ির পূজায় ঘুরতে গিয়ে ড্রেনে পড়ে গিয়েছিলাম। রিকশা থেকে সোজা ড্রেনে। নতুন জামা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। গত বছরের পূজায় বেশ কষ্ট হয়েছিল। বিয়ের পর প্রথম পূজা। জীবনে প্রথমবারের মতো বাবাকে রেখে ট্রেনে করে কলকাতা যাচ্ছিলাম। শ্বশুরবাড়ির সবাইকে নিয়ে খুব এক্সাইটেড ছিলাম। কিন্তু যখন বর্ডার ক্রস করি এত খারাপ লাগা শুরু হলো যে চিত্কার করে কাঁদতে শুরু করলাম। আমার শ্বশুর-শাশুড়ি ইমোশনাল হয়ে গেলেন। আমাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন, কোনো ব্যাপার না। আমরা তো দুই দিন পরই ফিরে যাব। বাবাকে ছাড়া পূজা, তখনই যে কী কষ্ট হয়েছে! এবার তো তিনি পৃথিবীতেই নেই!

অনুলিখন মীর রাকিব হাসান


মন্তব্য