kalerkantho


এবার সব ভূতুড়ে

ভৌতিক ছবি ‘গল্প হলেও সত্যি’ দিয়েই পরিচিতি পেয়েছিলেন পরিচালক বিরশা দাশগুপ্ত। কয়েক বছরের বিরতির পর সেই ঘরানায়ই ফিরছেন তিনি। আগামীকাল ‘সব ভূতুড়ে’ মুক্তির আগে ছবিটি নিয়ে লিখেছেন লতিফুল হক

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



এবার সব ভূতুড়ে

ছবি মুক্তির আগে যা টেনশন ছিল ‘অ্যানাবেল : ক্রিয়েশন’ মুক্তির পর থেকেই তা উবে গেছে বিরশা দাশগুপ্তর। পরিচালক এখন বেশ চনমনে।

কারণটা আর কিছুই নয়, হরর ছবি ‘অ্যানাবেল’ কলকাতায় জমজমাট ব্যবসা করেছে। তাই বিরশা নিজের ভৌতিক ছবি ‘সব ভূতুড়ে’র নিয়ে বেশ আশাবাদী। যদিও জানেন ভূতেরা সব এক রকম হয় না। হলিউডি আর দেশি ভূতের বিস্তর ফারাক, ‘হলিউডের ভূত বা জাপানি ভূতই বলুন সবাই আলাদা। আমাদের বাঙালি ভূত তো একেবারেই আলাদা। কিন্তু আগে বাংলায় ভূতের ছবি করতে গিয়ে হলিউডকে অনুকরণ করার চেষ্টা হয়েছে, আমরা যেটা একেবারেই করিনি। ’ উদাহরণ দিয়ে বিরশা বললেন কেন টালিগঞ্জের ভৌতিক ছবিগুলো ব্যর্থ, “সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের এখানে কেবল ‘মণিহারা’ বা ‘কুহেলি’র মতো ছবিগুলো ব্যবসা করেছে। কারণ সেগুলো ঠাম্মার বলা ভূতের গল্প। তাতে আবেগ আছে। এখন যদি লীলা মজুমদার বা শীর্ষেন্দুবাবুর গল্প নিয়ে ছবি বানানো হয় তাহলে কিন্তু ছবি চলবে। আমার ছবি সেটা জেনেই বানিয়েছি। ”

ছবির গল্প অনিকেত আর নন্দিনীকে নিয়ে। গল্পের মূল চরিত্র অনিকেত [আবির চ্যাটার্জি] গ্রামের স্কুলের প্রধান শিক্ষক, যে একেবারেই ভূতে বিশ্বাসী নয়। কিন্তু তার স্কুলেই এমন সব ভূতুড়ে কাণ্ড ঘটে যে তা সামলাতে অনিকেতকে হিমশিম খেতে হয়। অন্যদিকে সেই গ্রামে আসে সুন্দরী এক তরুণী নন্দিনী [সোহিনী সরকার]। যে হাসে না, একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে। কম কথা বলা অদ্ভুত এক চরিত্র সে, যে প্রবলভাবে ভূতে বিশ্বাসী। ছবিতে আছে আরো এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র—ছোট এক শিশু। পোস্টারে যার ছবি শোভা পাচ্ছে। যে চরিত্র করেছেন পরিচালক বিরশার কন্যা ইদা। এখানেই শেষ নয়, ছবিতে আছেন বিরশা পরিবারের আরেক সদস্যও, বড় কন্যা মেঘলা দাশগুপ্ত। তবে অভিনয়ে নন, তিনি আছেন সহকারী পরিচালকের ভূমিকায়।

হাল আমলে পর্দায় সবচেয়ে নিয়মিত মুখ আবির চ্যাটার্জি। ‘বিসর্জন’, ‘মেঘনাদবধ রহস্য’, ‘ছায়া ও ছবি’সহ গেল কয়েক মাসে তার বেশ কয়েকটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। তবে আগেরগুলোর সঙ্গে ‘সব ভূতুড়ে’কে মেলাচ্ছেন না অভিনেতা, ‘বিসর্জনের পর আবার আমি গ্রামের মানুষের চরিত্র করেছি। তবে এটা একেবারেই আলাদা। এখানে আমি ভূতে অবিশ্বাসী এক শিক্ষক। যে কি না পরে ভূত সামলাতেই হিমশিম খায় [হাসি]। ’ পরিচালক বিরশার মতো তিনিও কলকাতায় হলিউড হরর ছবির সাফল্যে খুশি, ‘আমি অ্যানাবেল ক্রিয়েশন দেখিনি। তবে এটুকু বলতে পারি অপেক্ষা করুন। বাঙালি ভূতের ছবিও যে ভয় পাওয়াতে পারে, দর্শক তা বুঝতে পারবে। ’ আগে ভৌতিক ছবি ‘গল্প হলেও সত্যি’ বানিয়েছেন বিরশা। তবে সেটা ছিল রিমেক। এবারেরটি মৌলিক। ‘সব ভূতুড়ে’র গল্প লিখেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক কল্লোল লাহিড়ি।

আগে ভৌতিক ছবি ‘মণিহারা’য় ছিলেন সোহিনী। যেটা বেশ প্রশংসিত হয়েছিল, তাই এবারের ‘সব ভূতুড়ে’ নিয়েও আশাবাদী সোহিনী। তাঁর মতে, গল্প ভালো হলে দর্শকরা ছবি পছন্দ করে, যা এই ছবিতে আছে। তা ছাড়া বিরশা বাণিজ্যিক ছবির সফল নির্মাতা। সোহিনীর মতে এই দুয়ের যুগলবন্দি ছবির বড় সম্পদ। সাম্প্রতিক সময়ে সোহিনী অভিনীত ‘দুর্গা সহায়’ ও ‘বিবাহ ডায়রিজ’ হিট। ‘সব ভূতুড়ে’ কী হবে সেটা পরের কথা কিন্তু ছবির গল্প শুনেই ‘পাগল’ হয়ে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী, ‘ছবিটা দর্শকদের কেমন লাগবে জানি না। কিন্তু এ ছবির চিত্রনাট্য শুনে আমার পুজো সংখ্যায় বিভূতিভূষণ, শীর্ষেন্দু বা লীলা মজুমদারের লেখা পড়ার অনুভূতি হয়েছে। ’


মন্তব্য