kalerkantho


ড্রাগনের জন্ম

ভক্তদের কাছে তিনি কিংবদন্তি, তাঁর জীবনধারাকে অনুসরণ করা হতো অন্ধের মতো। সেই ব্রুস লির জীবনের বাঁকবদলের এক ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে ‘বার্থ অব দ্য ড্রাগন’। যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তির পর নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত ছবিটি নিয়ে লিখেছেন হাসনাইন মাহমুদ

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ড্রাগনের জন্ম

মাত্র ৩২ বছরের জীবনকালে ব্রুস লি নিজেকে পরিণত করেছিলেন পৌরাণিক উপন্যাসের এক চরিত্রে। হাতে গোনা কয়েকটি চলচ্চিত্র করলেও উদ্ভাবনী মার্শাল আর্টের প্রদর্শনীর মাধ্যমে অমর হয়ে আছেন।

ব্যক্তি ব্রুস লি এসেছেন চলচ্চিত্রে, কখনো বা উপন্যাসের পাতায়। এশিয়া, আমেরিকা, ইউরোপ—এই তিন মহাদেশেই ব্রুস লিকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অথবা তথ্যচিত্র। তবে এবারের ‘বার্থ অব দ্য ড্রাগন’ অবশ্য ব্রুস লির পুরো জীবন নিয়ে নয়, তাঁর তারকা হয়ে ওঠার আগের গল্প!

ষাটের দশকের শুরুতে লি যখন কুংফু শিক্ষক হিসেবে বেশ নাম কামিয়েছিলেন তখন তিনি প্রবল উত্সাহে চ্যালেঞ্জ করেন ওং জ্যাক ম্যান নামের এক বিখ্যাত মার্শাল আর্ট গুরুকে। তাঁদের এই দ্বৈরথ এবং লির জীবনের বেশ কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করেই চলচ্চিত্রের কাহিনি। জর্জ নলফির চলচ্চিত্রে লির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন হংকংয়ের তারকা ফিলিপ ইং। এ ছাড়া আরো আছেন জিয়া ইউ, জিন জিং, বিলি ম্যাগনুসেন প্রমুখ।

১৯৬৫ সালে সান ফ্রান্সিসকোতে ঘটা এই সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হলেও পরিচালক চলচ্চিত্রে এনেছেন অনেক কাল্পনিক চরিত্র ও কাহিনি। এমনকি ছবিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা লির বন্ধু হিসেবে চিত্রায়িত স্টিভ ম্যাককি চরিত্রটিও সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত। বিখ্যাত মার্শাল আর্টিস্ট কোরি ইউয়েনের অ্যাকশন পরিচালনায় চলচ্চিত্রের মার্শাল আর্টের বিভিন্ন প্রদর্শনী হয়ে উঠেছিল খুবই সাবলীল।

তবে বিভিন্ন চলচ্চিত্র উত্সবে প্রদর্শিত হওয়ার পর থেকেই প্রবল সমালোচনায় বিদ্ধ হয় চলচ্চিত্রটি। প্রথমবার প্রদর্শনের পর তো দর্শকদের বাজে প্রতিক্রিয়া দেখে নতুন করে সম্পাদনা করা হয়। প্রথম সংস্করণে লির থেকে স্টিভ ম্যাককি চরিত্রটিকে অধিক প্রাধান্য দেওয়ায় হলিউডকে বর্ণবাদী আখ্যা দেয় ভক্তরা। সম্পাদনার পর লিকে প্রধান চরিত্র হিসেবে রূপায়িত করলেও মার্শাল আর্টের প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর দর্শন অনেকাংশেই ছিল অনুপস্থিত। ছবিটি নিয়ে তাঁর মেয়ে শ্যানন লি এতটাই বিরক্ত ছিলেন যে, চলচ্চিত্রটির কোনো অনুষ্ঠানেই তাঁকে দেখা যায়নি। তাঁর ভাষ্য মতে, ‘আমার বাবার দর্শন উপেক্ষিত হয়েছে এ চলচ্চিত্রে। মার্শাল আর্টের প্রতি তাঁর ভালোবাসাকে একেবারেই প্রকাশ করতে পারেননি নির্মাতারা।


মন্তব্য