kalerkantho


নুহাশের শুরু

হুমায়ূন আহমেদের ছেলে, এখনো এটাই তাঁর বড় পরিচয়। এবার ঈদে প্রথমবার নাটক বানালেন—‘হোটেল আলবাট্রোস’। প্রথম নাটকেই পেলেন প্রশংসা। নুহাশ হুমায়ূনকে নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



নুহাশের শুরু

বাবার পথেই হাঁটবেন কি না এখনো বলা যাচ্ছে না। তিনি নিজেও সন্দিহান।

বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছিলেন একবার। তবে নির্মাণের প্রতিই তাঁর বেশি ঝোঁক। শুরুটা করেছিলেন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দিয়ে। ফুয়াদ নাসেরের ‘ঢাকা পোকালাইপস’-এর চিত্রনাট্য করেছিলেন নুহাশ। এবার নির্মাণ করলেন টিভি নাটক। সিরিজের ট্যাগলাইন ‘অস্থির সময় স্বস্তির গল্প’। সাতটি মৌলিক গল্পে সাতজন মেধাবী তরুণকে ক্যামেরার পেছনে সুযোগ দিয়েছেন অমিতাভ রেজা। তাঁর সঙ্গে আছেন আরেক মেধাবী নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন। এই নামগুলো সিরিজের প্রতি আকর্ষণ জাগাতে যথেষ্ট। কিন্তু সবার দৃষ্টি একটু বেশিই ছিল হুমায়ূনপুত্র নুহাশের দিকে। কিংবদন্তি লেখক-নির্মাতার বড় ছেলে তিনি। নাটকে যেমন নতুন কিছু দিয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদ, তেমনি সিনেমাতেও জয় করেছেন মানুষের হূদয়। ছেলে নুহাশ যখন নির্মাণে এসেছেন, তাঁর প্রতি তো নজর থাকবেই! ‘অস্থির সময়ে স্বস্তির গল্প’ সিরিজের প্রথম নাটকটাই নুহাশের, ঈদের দিন রাত সাড়ে ৯টায় প্রচারিত হলো ‘হোটেল আলবাট্রোস’।

গল্প লিখেছেন নুহাশ নিজেই। একটি হোটেলে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়, সেই হোটেলেরই কিচেনে থাকা কয়েকজন শেফকে নিয়ে গল্প। প্রথম নাটকেই নিলেন বাবার প্রিয় অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূরকে। যথারীতি দুর্দান্ত করেছেন তিনি। অ্যালেন শুভ্র, আনন্দ খালেদরাও দারুণ করেছেন। ঈদের আগে ‘হোটেল আলবাট্রোস’ নিয়ে আসাদুজ্জামান নূর বলেছিলেন, ‘নুহাশ তো কেবল যাত্রা শুরু করল। ওর মেধা আছে। ও এই প্রজন্মের নির্মাতা। ফলে এখনকার সমসাময়িক চিন্তাগুলো ওর মাথায় কাজ করে। যদিও বয়স কম, কিন্তু সে তার চিন্তা-ভাবনা থেকেই নিজের মতো করে নাটকটি লিখেছে এবং নির্মাণ করেছে। তথাকথিত জনপ্রিয় নাটক হয়তো নাও হতে পারে। তবে নাটকটি যাঁরা দেখবেন তাঁদের ভাবাবে। ’

নুহাশ বলেন, ‘নির্মাণের সবচেয়ে মজার চ্যালেঞ্জ হলো, খুব কম সময়ে বড় একটা গল্প বলা এবং আমার প্রথম নাটকে সেটাই করতে হয়েছে। শুটিংয়ে দারুণ একটা টিম পেয়েছিলাম। নূর চাচা থেকে শুরু করে অ্যালেন শুভ্র, আনন্দ খালেদ সবাই দারুণ সহযোগিতা করেছেন। ’

‘হোটেল আলবাট্রোস’ প্রচারিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসার ঝড়! অনেকের মতে, নুহাশ যা বলতে চেয়েছেন দর্শক তা বুঝে নিয়েছে। কেউ কেউ লেখেন, ‘অভিনয়শিল্পীদের কাছ থেকে অভিনয়টা যেমন বের করে এনেছেন, তেমনি তাঁর নির্মাণের ঢংও ব্যতিক্রম। ’ অনেকে বলেন, ‘গল্পটা সিনেমার। কিন্তু নাটকের নির্দিষ্ট সময়ে তিনি গল্পটা বলেছেন। তাই হয়তো কোনো কোনো জায়গায় তাড়াহুড়া মনে হয়েছে। প্রথম নির্মাণ হিসেবে বেশ ভালো। ’

নির্মাণে আসা প্রসঙ্গে নুহাশ বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই নির্মাণে আসার আগ্রহ। আমি আসলে গল্প বলতে চাই। গল্পটা কোথায় বলছি, ইউটিউবে না টেলিভিশনে—সেটা বড় নয়। ঠিকভাবে গল্প বলতে পারাটাই হলো সবচেয়ে এক্সসাইটিং ব্যাপার। অমিতাভ ভাইয়ের উত্সাহেই মূলত নাটকটি নির্মাণ করা। ’

নির্মাণে নতুন কোনো পরিকল্পনা? ‘আপাতত তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। এখন পড়াশোনাতেই বেশি মনোযোগী। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে পড়ছি। নির্মাণে নিয়মিত হব কি না সেই সিদ্ধান্তটা নেব আরো পরে। তবে সময়-সুযোগ হলে কিছু শর্টফিল্ম নির্মাণের ইচ্ছা আছে’, বলেন নুহাশ।


মন্তব্য