kalerkantho


নায়ক যখন পরিচালক

ছিলেন সময়ের সেরা অভিনেতা। তবে পরিচালনায়ও কম যান না। তাঁর পরিচালিত ১৬টি ছবিতে করেছেন নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। পরিচালক রাজ্জাককে নিয়ে লিখেছেন নাসরিন হক

২৪ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



নায়ক যখন পরিচালক

ষাটের দশকের মাঝামাঝি অভিনয়ে হাতেখড়ি, সত্তরের শুরুতে প্রযোজনায়। এর কয়েক বছর পর ১৯৭৭ সালে পরিচালক রাজ্জাকের অভিষেক ‘অনন্ত প্রেম’ দিয়ে; যা দিয়ে শুরু নতুন ইতিহাসেরও।

বাংলাদেশে প্রথম চুম্বন দৃশ্য ধারণ করা হয় এই ছবিতেই। রাজ্জাক-কবরী জুটি তখন সুপারহিট। কিন্তু নিজের পরিচালনার প্রথম ছবির নায়িকা হিসেবে রাজ্জাক নেন সময়ের গ্ল্যামার গার্ল ববিতাকে।

পরিচালক হিসেবে খুব নতুন পরীক্ষার দিকে যাননি তিনি। সামাজিক গল্প, টানপড়েন, প্রেম, নাটকীয়তা—সেই সময়ে যেসব ছবি চলত তেমনটাই বানিয়েছেন তিনি। নিজের অভিনয় শুরুর প্রায় এক যুগ পর পরিচালনা শুরু করেন। এই সময়ের সফল ছবিগুলো মন দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন তিনি। এর প্রমাণ মেলে তাঁর পরিচালিত ছবিগুলোতে। তবে তাঁর পরিচালিত ছবির একটা উল্লেখযোগ্য দিক—শক্তিশালী গল্প।

এ জন্য বারবার কথাসাহিত্য বা কথাসাহিত্যিকদের কাছে ফিরে গেছেন পরিচালক রাজ্জাক। তাঁর পরিচালিত তৃতীয় ছবি ‘অভিযান’-এর কথাই ধরা যাক। ছবির কাহিনি, সংলাপ ও চিত্রনাট্যের জন্য তিনি যান সৈয়দ শামসুল হকের কাছে। ফল, সুপারহিট ব্যবসা করে ছবি।

কিছুদিন আগেই হাল আমলের বাংলা ছবির ব্যর্থতার জন্য সাহিত্যের অনুপস্থিতিকে অনেকাংশে দায়ী করেছিলেন। বলেছিলেন, এখন সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করা মানুষজন চলচ্চিত্রের সঙ্গে খুব বেশি নেই। এ জন্যই ভালো গল্প তৈরি হচ্ছে না। ইমদাদুল হক মিলনের গল্প অবলম্বে শিশুতোষ ছবি তৈরির ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত লেখা অবলম্বনে রাজ্জাক ‘চাঁপাডাঙ্গার বউ’ [তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের একই নামের উপন্যাস] ও ‘সৎ ভাই’ [শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বৈকুণ্ঠের উইল’ অবলম্বনে] নির্মাণ করেন। এর মধ্যে প্রথমটি সুপার-ডুপার হিট হয়।

যত দিন নায়ক চরিত্র করেছেন তত দিনের নিজের পরিচালিত প্রায় সব ছবিতেই অভিনয় করেছেন রাজ্জাক। পরিচালক হিসেবে তিনি যুগের সঙ্গে বদলাতে চেয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে নিজেই বলেছেন চলচ্চিত্রে দর্শকদের জন্য খোরাক রাখার কথা, ‘আমাকে চিন্তা করতে হবে দর্শক কী খাচ্ছে। একেবারে উলঙ্গ বানাব না, কম্প্রোমাইজ করেই কিন্তু দর্শকদের কিছু খোরাক দিতে হবে। পাবলিককে প্রথমে হলে ঢোকাতে হবে। ’ ১৯৭৭ সালে ‘অনন্ত প্রেম’-এর তিন বছর পর রাজ্জাক পরিচালিত দ্বিতীয় ছবি ‘মৌ চোর’ মুক্তি পায় ১৯৮১ সালে। এর দুই বছর পর ‘বদনাম’। তার পরের দুই বছর টানা দুই ছবি ‘অভিযান’ ও ‘সৎ ভাই’। এরপর পাঁচ বছরের বিরতি দিয়ে ১৯৯০ সালে নির্মাণ করেন ‘জিনের বাদশা’। যুগের হাওয়া যে নির্মাতা রাজ্জাক ভালোই বুঝেছিলেন তার প্রমাণ ‘বাবা কেন চাকর’। পরিচালক হিসেবে যাত্রা শুরুর ঠিক দুই দশক পর ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া তাঁর পরিচালিত এই ছবিটি সুপার-ডুপার হিট হয়। ২০০০ সালের পরেও নির্মাণ করেন ‘মরণ নিয়ে খেলা’, ‘আমি বাঁচতে চাই’, ‘কোটি টাকার ফকির’, ‘মন দিয়েছি তোমাকে’। তবে সেগুলো ততটা সাফল্য পায়নি। রাজ্জাক পরিচালিত সর্বশেষ ছবি ‘আয়না কাহিনী’।

২০১৩ সালের পর থেকে শারীরিক অবস্থার ক্রমেই অবনতি হতে থাকে। বেশ কয়েকবার গুরুতর অসুস্থ হন। তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নতুন ছবি নির্মাণে হাত দিতে পারেননি।


মন্তব্য