kalerkantho


পর্দায় দেশভাগের গল্প

১৯৪৭ সালের দেশভাগের গল্প পর্দায় নিয়ে আসছেন পরিচালক গুরিন্দর চাধা। আগামীকাল মুক্তির আগে ‘ভাইসরয়’স হাউস’ নিয়ে লিখেছেন হাসনাইন মাহমুদ

১৭ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



পর্দায় দেশভাগের গল্প

৬৭ বছর হয়ে গেলেও উপমহাদেশের অনেক মানুষের কাছেই দেশভাগের স্মৃতি এখনো টাটকা। দেশভাগ ইংরেজদের কৌশল নাকি তত্কালীন নেতাদের লোভের ফল—এই বিতর্ক হয়তো চলতেই থাকবে।

এবার দেশভাগের সেই ঐতিহাসিক আগস্ট মাসেই ভারতে মুক্তি পাচ্ছে ‘ভাইসরয়’স হাউস’। গুরিন্দর চাধা পরিচালিত ছবিটি আগে ব্রিটেনে মুক্তি পেলেও ভারতের দর্শকরা পর্দায় দেখতে পাবে আগামীকাল থেকে। হিন্দিতে রূপান্তরের পর ছবির নাম বদলে হয়েছে ‘পার্টিশন : ১৯৪৭’। ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ বড়লাট লর্ড মাউন্টব্যাটেনের সময়ে ভাইসরয়ের ভবনের অভ্যন্তরীণ কিছু ঘটনা নিয়েই চলচ্চিত্রটির গল্প।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যখন ভারতের স্বাধীনতা অবশ্যম্ভাবী, তখন বড়লাট হয়ে আসেন এই লর্ড মাউন্টব্যাটেন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী এডুইনা মাউন্টব্যাটেন, যিনি তাঁর রূপের জন্য জগত্খ্যাত ছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা প্রদানের কার্যক্রমে একের পর এক ভিন্নমত, উত্তাল সময়ে মাউন্টব্যাটেনদের জীবন এবং শেষে অনিবার্য ভারত বিভাগই এই চলচ্চিত্রের প্রধান উপজীব্য। এর পাশে মাউন্টব্যাটেনদের প্রাসাদে ভিন্ন ধর্মের দুই কর্মচারীর প্রণয় দেখানো হয়েছে।  এই দুজনের প্রেমকে কেন্দ্র করে পর্দায় এসেছে সেই সময়ের সমাজের নানা বৈষম্য।

ছবির প্রধান চরিত্রগুলো করেছেন হিউ বনভিল, গিলিয়ান অ্যান্ডারসন, মনিশ দায়াল, হুমা কুরেশি, মাইকেল গ্যাম্বন ও প্রয়াত ওম পুরীর মতো তারকারা। নির্মাণশৈলীর দিক থেকে প্রশংসায় ভাসলেও ইতিহাস বিকৃত করার অভিযোগে সমালোচনায় বিদ্ধ। দেশভাগে ব্রিটিশদের প্ররোচনার ইতিহাসকে প্রায় উপেক্ষা করে পুরো দোষ ভারতীয় কংগ্রেস কিংবা মুসলিম লীগের নেতাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ায় অনেকে ঐতিহাসিক চলচ্চিত্রটিকে আখ্যা দিয়েছে ‘আধুনিক যুগের প্রপাগান্ডা’ হিসেবে। সেই উত্তাল সময়ের আলোচিত জওয়াহেরলাল নেহরু এবং লেডি মাউন্টব্যাটেনের সম্পর্ক [অনেক ঐতিহাসিকের মতে, দেশভাগের তত্ত্বকে উসকে দিতে যা বারুদ হিসেবে কাজ করেছিল] ছবিতে সম্পূর্ণরূপে অনুপস্থিত। এসব সমালোচনায় যদিও একেবারেই চিন্তিত নন পরিচালক। তিনি বলেন, ‘রক্তাক্ত দেশভাগের ছায়ায় আমার শৈশব কেটেছে। এই ছবি করতে গিয়ে বারবার পুরনো দিনে ফিরে গেছি। দেশভাগ একটি ব্যাপক বিষয়। যার সবটা আমি পর্দায় আনার চেষ্টাও করিনি। স্বয়ং প্রিন্স চার্লস আমাকে এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণে উত্সাহ দিয়েছিলেন। ব্রিটিশ-এশীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নির্মিত এ ছবিটি সর্বজনীন। ভারতের শ্রেণি বিভাজনের একটি রূপও আমি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। ’

চলচ্চিত্রটি ওম পুরী অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র। তাঁর কন্যার চরিত্রে রূপদানকারী হুমা কুরেশি প্রয়াত অভিনেতা সম্পর্কে বলেন, ‘শুধু পর্দায়ই নয়, পর্দার পেছনেও তিনি ছিলেন বাবার মতোই। আমি তাঁকে আব্বা বলেই ডাকতাম।


মন্তব্য