kalerkantho


ধনঞ্জয় ফিরে এলো

২৭ বছর ধরেই পশ্চিম বাংলায় বহুল আলোচিত ঘটনা ‘হেতাল ধর্ষণ মামলা’। ধর্ষণের অভিযোগে ফাঁসি হওয়া ধনঞ্জয়ের পক্ষে-বিপক্ষে মতামতের অভাব নেই। এমন বিতর্কিত বিষয় পর্দায় আসার আগেও তাই আলোচনার ঝড়। আগামীকাল অরিন্দম শীলের ‘ধনঞ্জয়’ মুক্তির আগে ছবিটি নিয়ে লিখেছেন লতিফুল হক

১০ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



ধনঞ্জয় ফিরে এলো

১৯৯০ সাল। কলকাতার পদ্মপুকুর এলাকার আনন্দ অ্যাপার্টমেন্টের চারতলায় পাওয়া যায় কলেজছাত্রী হেতাল পারেখের লাশ।

ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপত্তরক্ষী ধনঞ্জয়। শুরু হয় পশ্চিম বাংলায় অন্যতম আলোচিত মামলার কার্যক্রম। বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও ২০১৪ সালের ১৪ আগস্ট ধনঞ্জয়ের ফাঁসি কার্যকর করা হয়, যা নিয়ে আজও বিতর্কের শেষ হয়নি। অনেকের মতে, পারেখের হত্যা ছিল অনার কিলিং। গরিব নিরাপত্তারক্ষীকে ফাঁসানো হয়েছে। সত্যটা যে কী, সেটা সন্দেহাহীতভাবে জানা না গেলেও বিতর্ক উসকে দিয়েছেন অরিন্দম শীল। আলোচিত সেই ঘটনা অবলম্বনে তাঁর ছবি ‘ধনঞ্জয়’, যার ট্রেলার মুক্তির পরেই ঝড়। অনেকের মতে, দোষীর পক্ষ নিয়েছেন পরিচালক। পরিচালক অবশ্য বলছেন, তিনি চলচ্চিত্র বানিয়েছেন, কাউকে দোষী বা নির্দোষ প্রমাণ করতে চাননি, ‘আমি কিন্তু বলছি না ধনঞ্জয় দোষী নাকি নির্দোষ। আদালতের অবমাননা করছি না। ধর্ষণকারীকে সমর্থন করছি না। ধনঞ্জয় যদি ধর্ষণ করে থাকে, তার ফাঁসি হয়ে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে সেই ফাঁসির নির্দেশ দেওয়া হয়, সেই পদ্ধতি কি ঠিক ছিল? সাদা কাগজে মানুষকে সই করানো হয়েছিল। ইংরেজিতে বয়ান লিখে এমন মানুষকে দিয়ে সই করানো হয়েছিল, যারা ইংরেজি বোঝে না। আমরা অনেক দিন গবেষণা করেছি। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই ছবি করেছি। ’ অনেকের মতে, বর্তমান তৃণমূল সরকারের সমর্থক অরিন্দম এই ছবি করেছেন শাসক দলকে সন্তুষ্ট করতে। সেটাও এককথায় উড়িয়ে দিলেন তিনি, ‘সরকারের কারো সঙ্গে এই ছবি নিয়ে কথা হয়নি। কাউকে খুশি করার জন্য কিছু করিনি। তবে এটুকু বলি, ধনঞ্জয়ের ফাঁসি চাই—এটা প্রকাশ্যে বলে আগের মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো কাজ করেছিলেন। আরেকটা কথা, ইচ্ছা করলেই কিন্তু আমি মূল চরিত্রের নাম বদলে দিয়ে ধনঞ্জয়ের সঙ্গে ছবির সম্পর্ক অস্বীকার করতে পারতাম। কিন্তু সেটা বড্ড বোকা বোকা হতো। ’ তবে পরিচালক ধনঞ্জয়ের নাম ব্যবহার করেছেন, আর বিপত্তিটা সেখানেই। ছবি মুক্তির সপ্তাহ দুই আগেই ধনঞ্জয়ের পরিবার ছবির মুক্তি বন্ধ করতে চিঠি পাঠিয়েছে প্রযোজক বরাবর। এটাকে ভুল-বোঝাবুঝি হিসেবেই দেখছেন অরিন্দম, ‘ছবি তৈরির আগে ওর পরিবারের সঙ্গে আমরা দেখা করেছি, রেকর্ডিং আছে। দুই দিন থেকেছি ওর বাড়িতে, তখন ওরা ছবি করার জন্য একটা পয়সাও চায়নি। এখন কিছু মানুষ ওদেরও ভুল বোঝাচ্ছেন। বলছেন, ছবি হলে ওদের নিয়ে মিডিয়া ফের হৈচৈ করবে। ’
সে যা-ই হোক, ছবিতে ধনঞ্জয় হতে পেরে ভীষণ খুশি অনির্বাণ ভট্টাচার্য। একই পরিচালকের ‘ইগলের চোখ’ দিয়ে যিনি অভিষেকেই নজর কেড়েছিলেন, তিনি এবার ধর্ষকের চরিত্রে, ‘ধনঞ্জয়ের মানসিক অবস্থা পর্দায় তুলে ধরাটা সহজ ছিল না। নিজেকেই ধনঞ্জয় ধনঞ্জয় মনে হয়েছে। তবে এটাই তো আমার কাজ। এ ধরনের চরিত্র ক্যারিয়ারের  শুরুতেই পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। ’
এই ছবি নিয়ে খুশি মিমি চক্রবর্তীও। এত দিন দর্শকরা যাঁকে গ্ল্যামারাস চরিত্রে দেখেই অভ্যস্ত ছিল, এবার তিনি আসছেন আইনজীবীর চরিত্রে। “এটা দারুণ সুযোগ আমাকে নতুন করে চেনানোর। আগে শুধু রোমান্টিক নায়িকা হিসেবেই দর্শক দেখেছে আমাকে। এ বছর এ দুই ছবি [‘পোস্ত’, ‘ধনঞ্জয়’] দিয়ে দর্শকদের মতো আমিও নিজেকে নতুন করে দেখব। ” ‘ধনঞ্জয়’-এর প্রচারণায় এর মধ্যেই মিমি নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টের নাম ছবির চরিত্র কাব্য সিনহা রেখেছেন!


মন্তব্য