kalerkantho


শুনুন মমর কথা

‘আলতাবানু’ সিনেমার শুটিং শেষ করে ঢুকেছেন টেলিফিল্ম ‘সোলমেট’-এর সেটে। পালা করে নাটক আর সিনেমার শুটিং করেই দিন কাটছে তাঁর। জাকিয়া বারী মমকে নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

১০ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



শুনুন মমর কথা

ঈদের জন্য নতুন একটি টেলিফিল্ম নির্মাণ করছেন শিহাব শাহিন। ‘সোলমেট’ নাকি ‘লাইফ পার্টনার’—কোন নামটি দেওয়া যায়? অনলাইনে এ নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন।

দর্শকরা তাদের মতামত জানিয়েছে। সবারই পছন্দ ‘সোলমেট’। টেলিফিল্মটি নিয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত মম। প্রথমবারের মতো বন্ধু মিশু সাব্বিরের সঙ্গে জুটি হয়ে অভিনয় করছেন। অনেক দিনের বন্ধুত্ব তাঁদের। শুটিং চলছিল উত্তরায়। শুটিংয়ের ফাঁকেই কথা হলো। মিশুর দুষ্টামির জন্য কথা বলতে পারছিলেন না মম। ‘এই তুই থামবি। দেখছিস না কথা বলছি’—বলে থামিয়ে দিলেন মিশুকে।

রোজার ঈদের মতো কোরবানির ঈদে খুব বেশি নাটকে দেখা যাবে না মমকে। কারণ রোজার ঈদের পর টানা এক মাস সময় দিয়েছেন ‘আলতাবানু’র শুটিংয়ে। অরুণ চৌধুরীর এই ছবির শুটিংয়ের জন্য প্রায় মাসখানেক তাঁকে থাকতে হয়েছে মানিকগঞ্জে। ‘ছুঁয়ে দিলে মন’-এর পর নাটকেই সময় দিয়েছেন বেশি। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভালো গল্প পেলেই আবার সিনেমায় অভিনয় করবেন। ‘আলতাবানু’ দিয়ে সেই অপেক্ষাটা শেষ হলো। এখানে তাঁর বিপরীতে আছেন আনিসুর রহমান মিলন। এর আগে মিলনের সঙ্গে আরো দুটি ছবিতে অভিনয় করেছেন—মুক্তি পেয়েছে ‘প্রেম করব তোমার সাথে’, শুটিং প্রায় শেষ করেছেন ‘স্বপ্নবাড়ি’র। মম বলেন, ‘আমি চাই দর্শক আমাকে দেখার অপেক্ষায় থাকুক। ১০-১৫ বছর পরও যেন আমার ছবি দেখে দর্শক বলতে পারে, ভালো একটা ছবি দেখেছি। এটিই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ’

সিনেমায় নিয়মিত না হলেও নাটকে কিন্তু নিয়মিতই। তবে মমর বিরুদ্ধে দর্শকের কমন একটা অভিযোগ, রোমান্টিক গল্পের নাটকেই তাঁকে বেশি দেখা যায়। “আসলে দর্শক আমাকে যেভাবে দেখতে চায়, পরিচালকরা সেভাবেই উপস্থাপন করেন। আর রোমান্টিক নাটকের গল্পে অভিনয় করতে হয় না এমন কিন্তু নয়। নাটকগুলো দেখলেই বুঝবেন, একটা থেকে অন্যটা কতটা আলাদা। আমরা শিল্পীরা কিন্তু শুধু টাকার জন্য অভিনয় করি না। নিজের ভালো লাগা থেকেও করি। নিজের যদি ভালো না লাগত তাহলে এত দিন অভিনয় করতে পারতাম না। ‘ফুলমতি’ কিংবা ‘অক্ষয় কম্পানির জুতো’ দেখলে দর্শক বুঝবে, রোমান্টিক নাটকের বাইরেও আমি সফল”, বললেন মম।

এত এত চরিত্রে অভিনয় করতে ক্লান্ত লাগে না? একঘেয়েমি আসে না?
‘এটা তো কঠিন প্রশ্ন’, বলেই উত্তর দিলেন, ‘আমি যদি ডিপ্লোমেসি করি তাহলে বলব, না ক্লান্ত হই না। আর সত্যিটাই যদি বলতে হয়—হ্যাঁ, ক্লান্ত হই। প্রতিদিনই আমি নতুন নতুন চরিত্রে নতুন এক মমকে আবিষ্কার করি। তখন ক্লান্তিটা হারিয়ে যায়। নতুন নতুন চরিত্রে অভিনয় করা এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জটা উপভোগ করি বলেই ক্লান্তিটা আর মাথায় থাকে না। ’

প্রচুর নাটক দেখেন মম। ছুটির দিনগুলোতে বাসায় বসে নাটকই দেখেন। “সময় পেলেই টিভি দেখি। নিজের অভিনয়ের খুঁতগুলো ধরার চেষ্টা করি। এই খুঁতগুলো ধরাটা ভীষণ জরুরি। দিনের পর দিন যেন একই ভুল না হয়। তবে একটা গোপন কথা বলি, নিজের খুব কম কাজই ভালো লাগে। প্রতিটি নাটক-সিনেমা দেখে মনে হয়, ইস! এটা তো ঠিক হয়নি, এই ক্লোজ শটে চোখের চাহনিটা ঠিক করা উচিত ছিল, হাঁটাটা ঠিক হয়নি—যা-ই দেখি, এ রকম অনেক খুঁতই চোখে ভাসে। আমাদের আসলে অনেক কিছু মেনে নিয়েই কাজ করতে হয়। এই মেনে নেওয়ার মানসিকতার কারণেই প্রডাকশনের মান খারাপ হচ্ছে। প্রায়ই দেখি প্রথমবার শট দিতেই পরিচালক বলেন ‘ওকে’। কিন্তু আমার মন বলছিল শটটি পারফেক্ট হয়নি। আরেকবার দিলে ভালো হতো। কিন্তু পরিচালক যখন ‘ওকে’ বলে দিয়েছেন, আমার আর কিছুই করার থাকে না”, বললেন মম।


মন্তব্য