kalerkantho


বাপ-বেটার গল্প

‘অদৃশ্য শত্রু’র পর এবার মাশরুর পারভেজ রাইয়ান নির্মাণ করেছেন ‘রাইয়ান’। আগামীকাল মুক্তি পাবে ছবিটি। পুত্রের সঙ্গে ছবিতে আছেন বাবা সোহেল রানাও। বাপ-বেটার ফিল্মি গল্প শোনাচ্ছেন ইসমাত মুমু

১০ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



বাপ-বেটার গল্প

ছবি তুলেছেন সুমন ইসলাম আকাশ

ছবির প্রধান চরিত্র সিরিয়াল কিলার। মানুষের রক্ত খায়।

ভ্যাম্পায়াররা যেমন মানুষের রক্ত খায়, তেমন। তবে ও শুধু মেয়েদের রক্ত খায়। তার ওপর ছবিতে রয়েছে গালাগাল, সেন্সর ছাড়পত্র পেতে সমস্যা হয়নি? ‘জিনিসটা তো শুধু দেখানোর জন্য করিনি। প্র্যাকটিকাল। সে কারণে সেন্সর বোর্ড অ্যালাউ করেছে। তবে হ্যাঁ, সেন্সরে জমা দেওয়ার সময় ভয়ে ছিলাম। এগুলো কেটে দিলে তো ছবিটার কোনো অর্থ হয় না। তারপর ১০ মিনিটের একটা সিকোয়েন্স আছে, যেখানে কোনো ক্যারেক্টার কথা বলে না। তবু গল্পটা এগোতে থাকে। সাদাকালো দৃশ্য আছে, যেটা আমি ফ্ল্যাশব্যাক বোঝাতে ব্যবহার করিনি’, বললেন রাইয়ান।
সিনেমাটি নিয়ে কতটা আশাবাদী? উত্তর দিলেন বাবা সোহেল রানা, ‘সিনেমাটির দুই রকম সম্ভাবনা আছে—ভালো ছবি হিসেবে এবং ব্যবসায়িক দিক থেকে। এটি একটি ভালো ছবি। আর ব্যবসা? বাংলাদেশের কোনো ছবিই এখন সফল হতে পারে না। দেড় হাজার সিনেমা হল থেকে এখন আছে ৩৫০টি। এখানে একটা সিনেমা বাম্পার হিট হলেও ব্যয় উঠে আসে না। একটা বিশেষ মহলের কারণে দেখা যায় বেশির ভাগ হল মালিকই তাদের কাছ থেকে মেশিন ভাড়া নিচ্ছে। আর সেই ভাড়াটা প্রযোজকের কাছ থেকে কেটে নেওয়া হচ্ছে। তাহলে ব্যবসা হবে কিভাবে?’
সিনেমা হিসেবে ‘রাইয়ান’ কেমন? “সব পরিচালকই বলেন, আমার গল্পে নতুনত্ব আছে। কিন্তু আমি বলব ‘রাইয়ান’-এর মতো ছবি শুধু বাংলাদেশে নয়, দক্ষিণ এশিয়ায় আগে কখনো হয়নি”, বললেন রাইয়ান। পুত্রের সঙ্গে যোগ করলেন সোহেল রানা, ‘এটি বাংলাদেশের জন্য একটা টার্নিং সিনেমা। তথাকথিত গল্প বলার ঢং ভেঙেছে এ সিনেমা, নতুন একটা ধারা তৈরি করবে এটি। চলচ্চিত্রে প্রায় ৪৪ বছর ধরে আছি, প্রযোজনা করেছি, পরিচালনা করেছি। মানুষ জানে, আমি মিথ্যা বলতে পছন্দ করি না। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এটা আসলেই ব্যতিক্রমী ছবি। ’
পরিচালক পরিচয়ের আগে নিজেকে লেখক দাবি করেন রাইয়ান। তাঁর মতে, ‘রাইয়ান’ শুধু সাধারণ দর্শকই নয়, যাঁরা ফিল্ম সমালোচক তাঁদেরও মাথার ওপর দিয়ে যাবে। পরিচালক হিসেবে প্রথম বানিয়েছেন ‘অদৃশ্য শত্রু’। বাবার পরামর্শ নিয়েই বানিয়েছিলেন ছবিটা। কিন্তু ‘রাইয়ান’-এর সব কিছুই তাঁর। সোহেল রানা বলেন, ‘এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য ও আমাকে অফার করেছে এভাবে, এই হলো চরিত্র। তোমার করতে ইচ্ছে করলে করো, না ইচ্ছে করলে না করো। তুমি না পারলে আমি অন্য আরেকজনের কাছে যাব, যে এই চরিত্রটা করতে পারবে। আমার ভালো লাগল আমি করলাম। ’  ছবিতে রাইয়ানের নায়িকা অর্ষা। তাঁর প্রশংসা রাইয়ানের মুখে, ‘ও তো পেশাদার অভিনেত্রী। দারুণ করেছে। নতুন যাঁরা ছিলেন, তাঁরাও ভালো করেছেন। ’
‘অদৃশ্য শত্রু’ মুক্তির পরদিনই এ সিনেমার গল্প মাথায় আসে রাইয়ানের। বলেন, ‘প্রথম ছবিটা নিয়ে আমি খুশি ছিলাম না। সিনেমাটার যে ফাইনাল কাটটা হয় সেটা আমার ভালো লাগেনি। আমার ভাবনার পুরোটা এই ছবিতে দিতে চেয়েছি। এটা তৈরি করতে তিন বছর সময় লাগে। গল্প লিখতে সময় লাগে, তারপর সংলাপ। টাকাটাও আমার, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ছবিটায় টাকা ঢেলেছি। তার মানে এই নয়, আমাকে একগাদা টাকা দিলেই এক বছরে আমি ছবিটা শেষ করতে পারতাম। ’
পরের ছবিরও প্ল্যান করেছেন। এখনই নাম বলতে চাচ্ছেন না। তবে রহস্য জিইয়ে রেখে বললেন, ‘রাইয়ান’ ছবিটা কেউ মনোযোগ দিয়ে দেখলেই পরের ছবির নাম পেয়ে যাবে। ছবিটার সনদপত্র নেওয়া হয়েছে। তাই চাইলেই কেউ নামটা নিতে পারবে না।


মন্তব্য