kalerkantho


জিতেই চলেছেন জিৎ

ধীরলয়ে ভাসতে ভাসতে বোদ্ধা কানেরও মাঝে মাঝে দরকার হয় চনমনে তালের ধামাকা কোনো সুর। আর এ ধরনের সুর আর তাল সৃষ্টির দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে চলেছেন পশ্চিম বাংলার জিৎ গাঙ্গুলি। তাঁকে নিয়ে জানাচ্ছেন নূসরাত জাহান নিশা

১০ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



জিতেই চলেছেন জিৎ

একটা বড় সময় পর্যন্ত আমজনতার কানে কানে মুখে মুখে ঘুরে বেড়ানোর মতো কিছু গানের জন্ম হয় হুটহাট, যে গানগুলো ছাড়া গ্রামবাংলার বিয়েবাড়ির আয়োজন যেন অসম্পূর্ণই রয়ে যায়। গা দুলিয়ে আগাগোড়া নড়ে ওঠার মতো ওই গানগুলো শুরু থেকেই তৈরি করে চলেছেন জিৎ গাঙ্গুলি।

ঢোলের সর্বশেষ বাড়িটা হলো ‘মেনকা মাথায় দিল ঘোমটা’। গানপাগলরা যে টানা কত দিন এ গান আওড়াবে, সেটা এখনই বলা মুশকিল। পাড়া কিন্তু সরগরম হয়েই আছে। হিটের ভল্টে যে আরো একখানা ট্রফি যোগ হবে, তা নিয়ে বাজি ধরার সাহস দেখাবে না কেউ।
গানের কথা শুনেই বুঝে যান কিভাবে দোলাতে হবে তালের ঢেউ, কতটা জোরে পড়বে ঢোলের বাড়ি। কিন্তু একেবারেই ধ্রুপদী বিবর্জিত বলা যাবে না জিৎ গাঙ্গুলিকে। কারণ তিন বছর বয়স যখন, তখনই তো ভারতীয় ক্লাসিক্যালের তালিম নেওয়া শুরু করেছিলেন। পরের ৩৭টা বছর শুধুই গানের।
শুরুতেই, মানে সাল যখন ২০০০ তখনই একঝলক শীতল পরশ বুলিয়ে দিয়েছিলেন ‘তেরে লিয়ে’ দিয়ে। বলিউডের প্রীতমের সঙ্গে জোট বেঁধে ওই ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন তিনিও। পরের বছরই ফের প্রীতমের সঙ্গে ‘মেরে ইয়ার কি শাদি হ্যায়’-এর কাজ করলেন। এরপর ‘মর্নিং ওয়াক’-এ বাগিয়ে নিলেন মির্চি মিউজিক অ্যাওয়ার্ড। তখন অবশ্য সুরের জগতের নবীন তারকা হিসেবে পুরস্কার জোটে। পরে ‘আশিকি-২’ দিয়ে জানান দিলেন, তিনি আর নবীন নন, স্থায়ী হতেই এসেছেন। ‘আশিকি-২’-এর জনপ্রিয় ছয়টি গানের সুর তাঁর করা। ‘চাঁহু ম্যায় ইয়া না’, ‘হাম মার জায়েঙ্গে’, ‘পিয়া আয়ে না’—গানবাজদের কাছে এখনো কদর কমেনি এগুলোর।
বলিউডের গানে নাম আর পকেট ভারী হলেও জিতের আসল ছন্দ ধরা পড়ে বাংলা গানে। ‘প্রেমী’, ‘যুদ্ধ’, ‘বন্ধন’, ‘শুভদৃষ্টি’, ‘নায়ক’, ‘রিফিউজি’, ‘ফাটা কেস্ট’, ‘আই লাভ ইউ’, ‘লাভ’, ‘পাগলু’, ‘১০০% লাভ’, ‘বস’, ‘বাপি বাড়ি যা’, ‘গেম’—তালিকাটা বিশাল। ২০০০ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত তার সুর করা শুধু বাংলা সিনেমাই আছে ৬৮টি। পুরস্কার আছে বাংলায় ১২টি ও হিন্দি দুটি ছবির জন্য। পশ্চিম বাংলার রোমান্টিক ছবিতে এখন জিত্ থাকা মানেই গান হিট, আর গান হিট তো সিনেমাও। কয়েক দিন আগে ঢাকায় এসেছিলেন ওপার বাংলার অন্যতম সেরা এ গায়ক, সংগীত পরিচালক। রিয়ালিটি শোর প্রতি খানিকটা অনীহা আছে তাঁর। বললেন, ‘রিয়ালিটি শোর প্ল্যাটফর্ম পেয়ে অনেকেই চর্চা ভুলে গেছে। ’
তবু তরুণদের নিয়ে আশাবাদী জিৎ। সামনে কাজ করার ইচ্ছা তাদের নিয়েই।


মন্তব্য