kalerkantho


জ্বলছে গ্রিন লাইট

নিউজিল্যান্ডের গায়িকা, গীতিকার লর্ড। বয়স মাত্র ২০। এরই মধ্যে ঝড় তুলেছেন গান দিয়ে। তাঁর গাওয়া ‘গ্রিন লাইট’ এখন জনপ্রিয়। লিখেছেন আবু সালেহ শফিক

১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



জ্বলছে গ্রিন লাইট

আমেরিকান জ্যাজ শুনে শুনে বড় হয়েছেন লর্ড। বিলি হলিডে তাঁর বিশেষ পছন্দ।

ভালো লাগার তালিকায় আরো আছেন স্যাম কুক, এটা জেমস প্রমুখ। মা-বাবার পছন্দের শিল্পী ক্যাট স্টিভেনস বা নিল ইয়ংকেও তাঁর পছন্দ। কণ্ঠের চর্চা করেন নিকি মিনাজ আর কেনড্রিক লামারকে দেখে দেখে। লেডি গাগা, কেটি পেরি, জাস্টিন টিম্বারলেককেও অনুকরণ করেন। ১৯৯৬ সালে লর্ড জন্মগ্রহণ করেন নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে। আসল নামটা কিন্তু বিরাট বড়—এলা মারজিয়া লানি ইয়েলিচ-ও’কনোর। লর্ড মঞ্চ নাম। তাঁর ক্রোয়েশিয়ান বাবা ভিক ও’কনোর একজন প্রকৌশলী আর আইরিশ মা সনয়া ইয়েলিজ কবি। ডেভেনপোর্টের শহরতলিতে দুই বোন জেরি আর ইন্ডিয়ার সঙ্গে বড় হয়েছেন তিনি। একটা ভাইও আছে, নাম অ্যাঞ্জেলো। পাঁচ বছর বয়সে লর্ড একটি নাটকের দলে যোগ দেন। নাটক করার মধ্য দিয়েই মঞ্চে স্বচ্ছন্দ হয়ে ওঠেন। ওই সময় স্কুলেও যেতেন। প্রথম স্কুলের নাম ভক্সহল। মা তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ের বই পড়তে উৎসাহ জুগিয়েছেন। পরে লর্ড বলেছেন, ‘আমার মনে হয় মা আমার মধ্যে কবিতা দেখতে পেতেন, তাই আমাকে অনেক বই কিনে দিতেন। ছোটবেলায় বড়দের বইও পড়েছি। কোনো বইয়ের দরজাই আমার জন্য বন্ধ ছিল না। এম টি এন্ডারসনের ফিড (কর্পোরেট পাওয়ার, ভোগবাদ ইত্যাদি বিষয়ক একটি বই) যখন পড়ি তখন আমার বয়স মোটে ছয়। ছোটবেলায় মা আমাকে রেমন্ড কার্ভারের (আমেরিকান ছোটগল্প লেখক ও কবি) বইও পড়িয়েছেন। ’ ২০০৯ সালে লর্ড আর তাঁর বন্ধু লুই ম্যাকডোনাল্ড বেলমন্ট ইন্টারমিডিয়েট স্কুলের বার্ষিক ট্যালেন্ট শোতে পুরস্কার জিতে নেন। সে বছরেরই আগস্টে দুজন রেডিও নিউজিল্যান্ডের আফটারনুন শোতে আমন্ত্রণ পান। সেখানে তাঁরা পিক্সি লটের ‘মামা দো’ (উহ ওহ, উহ ওহ) গানটি গেয়ে শোনান। ২০১০ সাল থেকে দুজন নিয়মিত গাইতে থাকেন ক্যাফেগুলোতে। ২০১১ সালে তাঁর জন্য ফ্রান্সেস ডিকিনসন নামের একজন ওস্তাদ নিয়োগ করা হয়। লেখনী প্রতিভার বিকাশও ঘটতে থাকে ডিকিনসনের সঙ্গ পেয়ে। ডেভেনপোর্ট ভিক্টোরিয়া থিয়েটারে তিনি প্রথম তাঁর লেখা গান পরিবেশন করেন ২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর। ২০১৩ সালের মার্চের ১৩ তারিখে লর্ড তাঁর প্রথম এক্সটেন্ডেড প্লে ‘দি লাভ ক্লাব’ প্রকাশ করেন। নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড চার্টে ইপিটি দুই নম্বর স্থান দখল করে। প্রথম একক গান ‘রয়াল’ প্রকাশিত হয় সেই বছরেরই জুন-জুলাই নাগাদ। আর বছরের শেষ দিকে প্রকাশ করেন প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম ‘পিউর হিরোইন’। ইউএস বিলবোর্ডে এটি তিন নম্বরে উঠে আসে। এরপর ‘টেনিস কোর্ট’, ‘টিম’, ‘নো বেটার’, ‘গ্লোরি অ্যান্ড গোরে’ গানগুলো দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল। ২০১৪ সালে ১৮তম জন্মদিনে লর্ডের সম্পদের পরিমাণ ছিল ১১ মিলিয়ন এনজেড ডলারের সমান। ২০১৬ সালের ব্রিট অ্যাওয়ার্ডে লর্ড ডেভিড বাউয়িকে সম্মান জানিয়ে ‘লাইফ অন মার্স’ গানটি পরিবেশন করেন। তাঁর দ্বিতীয় একক ‘মেলোড্রামা’ প্রকাশ পাবে এ বছরের ১৬ জুন। এতে গান থাকবে ১১টি। তবে ‘গ্রিন লাইট’ প্রকাশ করেছেন আগেই। গানটি এরই মধ্যে বাজার গরম করেছে। এটি লর্ডের সঙ্গে লিখেছেন জ্যাক অ্যানটনফ ও জোয়েল লিটল। ১৮ মাস ধরে গানটি লিখেছেন তাঁরা। অনেকটা ইলেকট্রোপপ ও ডান্স পপ ধরনের গান এটি। ছাড়ার আগে টুইটারে লর্ড লিখেছিলেন, ‘এই গানটি সবার কাছেই নতুন মনে হবে। এটি জটিল, মজার, দুঃখের এবং একই সঙ্গে আনন্দের। শুনলেই নাচতে ইচ্ছা করবে। ’

এখন তো ভক্তদের মুখে মুখে ফিরছে।   


মন্তব্য