kalerkantho


তাঁদের ফিরে আসার গল্প

ক্যান্সার জয় করে গানে ফিরেছেন শাহনাজ রহমান স্বীকৃতি ও মালিহা তাবাসসুম খেয়া। তাঁদের নিয়ে লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন। ছবি তুলেছেন আব্দুল্লাহ আল কায়েস রাতুল

১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



তাঁদের ফিরে আসার গল্প

বাঁ থেকে—মালিহা তাবাসসুম খেয়া ও শাহনাজ রহমান স্বীকৃতি

স্বীকৃতিকে দেখেই জড়িয়ে ধরলেন খেয়া। জানতে চাইলেন তাঁর শরীরের সর্বশেষ অবস্থা।

কেমন আছেন? ডাক্তার কী কী পরামর্শ দিয়েছেন? কিভাবে সময় কাটাচ্ছেন? একে একে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে খেয়াকেও পাল্টা প্রশ্নগুলো করলেন স্বীকৃতি! দুজন যে একই পথের পথিক। ক্যান্সার জয় করে দুজনই ফিরেছেন গানে। ২০০৯ সালে আরটিভির ‘গোল্ডেন কি’ প্রতিযোগিতায় সর্বশেষ দেখা হয়েছিল। আট বছর পর আবার যখন এক হলেন তত দিনে জীবনের ওপর দিয়ে অনেক বড় একটা ঝড় বয়ে গেছে! সেখান থেকে ঘুরেও দাঁড়িয়েছেন।

খেয়ার বোন ক্যান্সার ধরা পড়ে ২০১৩ সালের শুরুতে। সর্বশেষ অপারেশনটি হয়েছে ২০১৬ সালে, ঢাকায়। তবে সবচেয়ে বড় উপকারটি পেয়েছেন চেন্নাইতে গিয়ে। স্বীকৃতির শরীরে ব্লাড ক্যান্সারের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় ২০১৫ সালের আগস্টে। প্রথমে থাইল্যান্ড, তারপর মুম্বাইতে গিয়ে চিকিৎসা করান।

প্রায় এক বছর ধরে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন খেয়া। আর স্বীকৃতি সুস্থতাবোধ করছেন ছয়-সাত মাস ধরে।

স্বীকৃতি বলেন, ‘একটি শিশু যেমন নতুন করে পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে আমারও যেন তাই হয়েছে। এভাবে নিজেকে ফিরে পাব ভাবিনি। কী যে যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে সময়টা পার করেছি বলে বোঝাতে পারব না। সবার দোয়া ও সহযোগিতায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে। পেছনের দিনগুলোর কথা মনে পড়লে আঁতকে উঠি। এই যে দেখেন মাথায় নতুন চুল উঠছে। জীবনটাকেও এমনিভাবে নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করছি। ’

স্বীকৃতির কথা শেষ হতেই শুরু করেন খেয়া, ‘সবার মাঝে আবার ফিরে আসব, গান গাইব—কল্পনাও করিনি। বলা যায় আল্লাহ নিজ হাতে আমাকে দ্বিতীয় জীবন দান করেছেন। এই জীবন আমার কাছে অনেক বেশি মূল্যবান। ভালো কাজের মাধ্যমে বাকি জীবনটা পার করতে চাই। ’

সুস্থ হওয়ার পর খেয়া কণ্ঠ দিয়েছেন ‘পূর্ণ্যদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ২’ (এই রেখেছ কোথায়), ‘অনেক সাধের ময়না’ (আমার এ মন বলেছে) এবং মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘রাজনীতি’ (ও আকাশ বলে দে না রে) ও ‘আধি’ (ছুঁয়ে দিল কে আমায়) ছবিতে। প্রকাশ করেছেন তিন গানের ইপি অ্যালবাম ‘দূর আকাশে’। সর্বশেষ ‘সুখ’ শিরোনামের একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন আরফিন রুমির মিক্সড ‘দেহবাজি’তে। নাম লেখিয়েছেন উপস্থাপনায়ও। এসএ টিভির নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘বেলাশেষে’র চেয়ারে বসেন, আড্ডা দেন অতিথিদের সঙ্গে। খেয়া বলেন, ‘আগে গান গাইতে গেলে যে অনুভূতি কাজ করত এখন তার চেয়ে ভিন্ন। জীবনের প্রতি যেমন মায়া বেড়েছে, ভালোবাসা বেড়েছে, গানের প্রতিও। প্রতিটি গান এখন আগের চেয়ে আরো বেশি মনোযোগ দিয়ে গাওয়ার চেষ্টা করি। ’

স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পর দুটি চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন স্বীকৃতি। গেয়েছেন কয়েকটি মিক্সড অ্যালবামে। এর মধ্যে মারুফ মুন্নার সঙ্গে দুটি দ্বৈত, বাসু দেব ঘোষের সুরে দুটি, অজয় মিত্রের সুরে একটি, বাপনের সুরে একটি গান উল্লেখযোগ্য। কয়েক দিন আগে একটি রেডিওতে গান করেছেন। প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্টেজের জন্য। বলেন, ‘এখনো যে বেঁচে আছি, গাইতে পারছি এটা আমার জন্য বোনাস। শরীরের ওজন অনেক বেড়ে গেছে। তাই স্টেজে এখনো গাওয়া শুরু করতে পারিনি। স্টেজে গাইতে অনেক শক্তি লাগে। শরীরটাও হালকা হতে হয়। আশা করি দ্রুতই শুরু করতে পারব। ’

নওগাঁর মেয়ে স্বীকৃতি জানান, তাঁর মিডিয়ায় অভিষেক বাংলাদেশ টেলিভিশনের একটি গান দিয়ে। ২০০০ সালে আসে প্রথম একক ‘হৃদয়ে শিহরণ’। এরপর আরো সাতটি একক প্রকাশ করেছেন। সর্বশেষ একক ‘বন্ধু’ আসে ২০১২ সালে। গেয়েছেন অনেক মিক্সড অ্যালবামে। প্লেব্যাকে অভিষেক ২০০১ সালে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের হাত ধরে ‘মায়ের সম্মান’ ছবির মাধ্যমে। এখন পর্যন্ত চলচ্চিত্রে প্রায় ৫৫০টি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ‘মায়ের সম্মান’ ছবির ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয় কিছু নাই’, ‘অ্যাকশন জেসমিন’ ছবির ‘পানের জর্দ্দা’ এবং ‘কি মায়া লাগাইলি’ অ্যালবামের টাইটেল।

নারায়ণগঞ্জের মেয়ে খেয়া জানান, ২০০৫ সালে ‘তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় সেরা চল্লিশে এসে বাদ পড়েছিলেন। পরেরবার জায়গা হয় সেরা বিশে। তিন বছর পর অংশ নেন আরটিভির ‘গোল্ডেন কি’ প্রতিযোগিতায়। প্রথম গান শানের সঙ্গে ‘শিশির ভেজা’ অ্যালবামের টাইটেল প্রকাশ পায় ২০১১ সালে। ২০১৩ সালে আসে প্রথম একক আরফিন রুমি ফিচারিং ‘মন মানে না’। জনপ্রিয় গান আরফিন রুমির সঙ্গে ‘বলো না কোথায় তুমি’, শহীদের দ্বৈত ‘ভাবনা নদী’ প্রভৃতি। তাঁর কণ্ঠে ‘পোড়ামন’ এবং ‘কিছু আশা কিছু ভালোবাসা’ ছবির টাইটেল গান দুটিও শ্রোতারা গ্রহণ করেছে।

আড্ডার শেষ ভাগে দুই গায়িকা একই সুরে বলেন, ‘অসুস্থ হওয়ার আগে জীবনটাকে এক রকম মনে হতো! এখন আরেক রকম। এই জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে চাই। কণ্ঠে ধারণ করতে চাই আরো সুন্দর সুন্দর গান। ’


মন্তব্য