kalerkantho


চুমু নিয়ে বহু প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে

যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘গাদ্দার’-এ অভিনয়ের জন্য বাংলাদেশে এসেছিলেন টালিগঞ্জের ‘বরবাদ’ খ্যাত নায়িকা ঋত্বিকা সেন। ঢাকা ছাড়ার আগে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন মাহতাব হোসেন। ছবি তুলেছেন এন এইচ মুকিত

১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



চুমু নিয়ে বহু প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে

বাংলাদেশে তো এই প্রথমবার এলেন?

হুম্। তবে বাংলাদেশটাকে কখনোই ভিন্ন দেশ মনে হয়নি। বাংলাদেশের অনেকের সঙ্গেই কলকাতায় আমার চলাফেরা। বিমান থেকে নেমে মনে হয়েছে এটা তো আমারই দেশ। শুটিংয়ে এত মানুষ, সবার ব্যবহার দারুণ, আমি মুগ্ধ।

 

একাই এসেছেন?

না। সঙ্গে মা আছেন।

 

এখানে আপনার আত্মীয় আছে কেউ?

হ্যাঁ। আমার মায়ের সাইডের অনেকেই বাংলাদেশে থাকেন। প্রথম দিন আমার এক দাদা এসেছিলেন। তিনি ঢাকায় থাকেন।

আরো কয়েকজন আত্মীয় দেখা করে গেছেন। এবার সময় করে উঠতে পারিনি। পরেরবার এসে আত্মীয়স্বজন সবার বাড়ি যাব, পুরো বাংলাদেশটাও ঘুরে দেখতে চাই।

 

‘গাদ্দার’ ছবিটা সম্পর্কে বলুন...

সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে গল্পটা আমি কয়েকবার পড়েছি। একেবারে ইউনিক গল্প। পর্দায় আমাকে দুই রূপে দেখা যাবে। এখানে শুটিং শুরু হয়েছে ৯ মার্চ। আজই আমাকে চলে যেতে হবে (১২ মার্চ সন্ধ্যা)। খুব টাইট শিডিউলে টানা শুট হয়েছে। এর আগে কলকাতায় টানা তিন দিন শুট করেছি। তখন প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়েছিল। আমাদের ওখানে বৃষ্টিকে শুভ লক্ষ্মণ হিসেবে দেখা হয়। এখানে আসার আগে কলকাতা এয়ারপোর্টেও বৃষ্টি হয়েছিল।

 

ছবিতে আপনার নায়ক শ্রাবণ খান। তাঁর সঙ্গে অভিনয় করে কেমন লাগল?

সহ-অভিনেতার আগে শ্রাবণ আমার বন্ধু। কোথাও কাজ করতে গেলে একটা পরিবেশ তৈরি করতেই সময় লাগে। অ্যাডজাস্টের বিষয় থাকে। এখানে এসে খাপছাড়া ফিল করিনি। শ্রাবণ সেটে আছে মানে বিষয়টি অনেক আনন্দের। কাজের ফাঁকে আমাদের খুনসুটি লেগেই আছে। এটাই মজার। ‘বরবাদ’-এ বনির [সেনগুপ্ত] সঙ্গেও ঠিক এমনই রসায়ন ছিল। শ্রাবণ মেধাবী। নিশ্চয়ই ভালো কিছু অপেক্ষা করছে ওর জন্য।  

 

‘বরবাদ’ দিয়ে বাংলাদেশের দর্শকের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন। ছবিতে একটি চুম্বন দৃশ্য...

চুমু নিয়ে আমাকে বহুবার প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। দৃশ্যটার শুটিং হয়েছিল গঙ্গার ধারে। শুট শেষ হওয়ার পর বনিকে ধাক্কা দিয়ে গঙ্গায় ফেলে দিয়েছিলাম। আর চুম্বন দৃশ্যটা কিন্তু এডিটেড। জুম করে দেখলেই বুঝবেন।

 

এখন পর্যন্ত যেসব ছবি করেছেন, কোন ছবিটার জন্য দর্শক আপনাকে মনে রাখবে?

আসলে ভালোর তো শেষ নেই। পাঁচ বছর বয়স থেকেই আমি ক্যামেরার সামনে। ছিলাম শিশুশিল্পী। যদিও আমি অনেক বেশি কাজ করিনি। ‘বরবাদ’ বা ‘আরশিনগর’-এর জন্য দর্শক আমাকে মনে রাখবে। ‘বউ কথা কও’ ‘চ্যালেঞ্জ-২’, ‘হানড্রেড পারসেন্ট লাভ’ ছবিতেও আমার অভিনয় প্রশংসিত।

 

‘আরশিনগর’ প্রসঙ্গ যখন এসেই গেল তখন দেবের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কেও কিছু বলুন। গণমাধ্যমে এ নিয়ে খবরও বেরিয়েছিল।

দেবের সঙ্গে সম্পর্কের খবরের পুরোটাই গুজব। গুজবটা যে কেন ছড়াল এখনো বুঝতে পারছি না। এখন যেমন দেব আর রুকমিনী মৈত্রের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এসেছে, এটা এত পরে সামনে এলো কেন সেটাও বুঝতে পারছি না।

 

এত পরে বলতে—

দেবের সঙ্গে রুকমিনীর প্রেমের বিষয়টা দুই বছর আগে থেকেই টালিউডে ওপেন সিক্রেট। সবাই জানে। অথচ হুট করে আমার নাম জড়িয়ে গেল। এত দিন পর এসে সেই খবর প্রকাশ করছে মিডিয়া।

 

কলকাতার অন্যান্য ছবির সঙ্গে ‘গাদ্দার’-এর তুলনা করতে বললে কী বলবেন?

এই ছবিটা ব্যতিক্রম। কেন? অনেক দিন ধরেই আমার ইচ্ছা বাংলাদেশের ছবিতে অভিনয় করব। এটা একটা স্বপ্নও। সেই ইচ্ছা বা স্বপ্ন ‘গাদ্দার’ দিয়ে পূরণ হচ্ছে। এর আগে আরেকটা ছবির ব্যাপারে কথা হয়েছিল, করিনি। ছবি সাইন করার আগে সব অভিনেতাই ভাবেন, ছবিটাতে তাঁর অভিনয়ের কতটুকু জায়গা রয়েছে। এদিক থেকেও আমার ‘ড্রিম কামস ট্রু। ’ আগে কখনো ডাবল রোল করিনি, ‘গাদ্দার’ আমার জন্য একটা এক্সপেরিমেন্ট। অভিনেত্রী হিসেবে আমি মানসিকভাবে তৃপ্ত।

 

বাংলাদেশের ভক্তদের জন্য কিছু?

টুইটার, ইনস্টাগ্রামে আমার যত ফলোয়ার আছে তাদের বেশির ভাগই বাংলাদেশি। প্রচুর মন্তব্য পাই তাঁদের কাছ থেকে। অনেকে ‘লাভ’, ‘হার্টস’ লিখে পাঠায়; বলে, ‘আপু, আমরা বাংলাদেশ থেকে...। ’  ভক্তদের এত এত ভালোবাসাই হয়তো আমাকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছে। সব ভক্তের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা।


মন্তব্য