kalerkantho


পিয়ার সমাজকর্ম

নিজ হাতে রান্না করা খাবার নিয়ে ছুটে যান শহরের উদ্বাস্তুদের কাছে। বৃদ্ধদের নিজ খরচে ভর্তি করান বৃদ্ধাশ্রমে। মডেল-অভিনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়ার যাবতীয় সমাজকর্মের খবর জানাচ্ছেন মীর রাকিব হাসান

১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



পিয়ার সমাজকর্ম

পিয়ার ছবি : সুমন হোসাইন

পিয়া ভালো রান্না করতে পারেন। পরিবারের বা কাছের বন্ধুরা তা জানেন।

তবে পিয়ার ব্যস্ততার কারণে সে রান্না সব সময় পরিবারের সদস্যদের ভাগ্যে জোটে না। কিন্তু আজকাল ব্যস্ততা কাটিয়ে পিয়া সময় বের করছেন গরিবদের জন্য। নিজের হাতে রান্না করা খাবার নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। শহরের এখানে-ওখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন। এ প্রসঙ্গে কথা তুলতেই অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন ‘চোরাবালি’ অভিনেত্রী—‘এসব নিয়ে বললে মানুষ নানা রকম কথা বলে। আমারও পার্সোনালি এগুলো মানুষকে জানিয়ে বেড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই। ’

তা ঠিক, কিন্তু অনেকেই পিয়ার কথা শুনে অনুপ্রাণিত হতে পারেন। এতে লাভ হবে মানুষেরই। কিছুক্ষণ চুপ থেকে পিয়া বললেন, ‘আমি মনে করি কারো মাসিক আয় যদি ১০ হাজার টাকাও হয়, সেখান থেকে কিছু টাকা গরিবদের দান করা উচিত।

সাধ্যমতো কমবেশি সবারই কিছু না কিছু করা উচিত। তাহলেই সমাজে পরিবর্তন আসবে। আমরা যদি সব সময় নিজেদের কথাই ভাবি তাহলে শুধু নিজেদের পরিবর্তনই সম্ভব। একটা দেশ একটা পৃথিবীর পরিবর্তন সম্ভব নয়। আসলে এগুলো কথা প্রসঙ্গে বলছি। আমি যা করি, তা ভালো লাগার জায়গা থেকে করি। বাইরের দেশে তারকারা নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। কেউ কেউ বিভিন্ন এনজিওর সঙ্গে যুক্ত হন, ফেসভ্যালু কাজে লাগিয়ে যদি সমাজের জন্য কিছু করা যায়, তাদেরও কিছু অর্থ দেওয়া হয়, তাতে লাভ ছাড়া ক্ষতি নেই। সব মিলিয়ে আসলে সমাজেরই উন্নয়ন হয়। আমাদের দেশেও এগুলো করা উচিত’—বললেন পিয়া। মানুষের পাশে থাকার জন্য কোনো সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হতেও আপত্তি নেই পিয়ার। তাঁর উদ্দেশ্য অবহেলিতদের জন্য কিছু করা।

এই তো কিছুদিন আগে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন, ‘ঢাকার মধ্যে কোনো বৃদ্ধাশ্রম থাকলে জানাবেন। অথবা কারো বাসা বা দোকানে যদি থাকার মতো স্পেস থাকে...খরচ যা হয় আমি দেব প্রতি মাসে। ’

বৃদ্ধাশ্রমের খোঁজ করছিলেন কেন? ‘আমি মাঝে মাঝে রাতে গাড়িতে খাবার নিয়ে বের হই। ছোট বাচ্চা বা বুড়ো যাদের দেখি তাদের খাবার দিই। এভাবে খুঁজতে গিয়েই গুলশান-২ নম্বরের পিঙ্ক সিটির এক বৃদ্ধকে পাই। উনি রাস্তাতেই থাকেন। বয়স আনুমানিক ৭৫। ওনার স্ত্রী থাকেন গ্রামের বাড়িতে। ছেলেমেয়েরা তাঁর খোঁজ নেন না। তাঁর হাল দেখে আমি ভীষণ কষ্ট পেয়েছি। তাই তাঁর একটা ব্যবস্থা করতে চেয়েছি’—বললেন পিয়া।

বৃদ্ধের সঙ্গে যেদিন দেখা হলো সেদিন রাতেই লন্ডন যেতে হয়েছে পিয়াকে। ফিরেছেন এক সপ্তাহ পর—১৩ মার্চ। গিয়েছিলেন ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের সমাবর্তনে যোগ দিতে। ৭ মার্চ অফিশিয়ালি গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন তিনি। যুক্তরাজ্যের প্রিন্সেস অ্যানের হাত থেকে সার্টিফিকেটও পেয়েছেন। ‘এটা আমার জীবনের বিশেষ একটা মুহূর্ত। এ জন্য আমার পরিবারের সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তারা পাশে না থাকলে শোবিজ ও পড়াশোনা একসঙ্গে চালানো সম্ভব হতো না। গত বছরই আইনবিদ্যায় গ্র্যাজুেয়েশন শেষ হয়েছে, কনভোকেশন পেলাম এ বছর। ’

ট্রেসেমে বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়েছেন সম্প্রতি।  

নাটক কিংবা চলচ্চিত্র নয়, পিয়া এখন পুরোপুরি মন দিয়েছেন মডেলিংয়ে। ওগুলো নয় কেন? পিয়া বললেন, ‘নাটকে অনেক সময় লেগে থাকতে হয়। ওই সময় অন্য কাজ করা যায় না। আমাকে দিয়ে ওসব হবে না। আমি ক্যারিয়ারের কোনো সময়ই নাটক নিয়ে খুব বেশি সিরিয়াস ছিলাম না। ’ আর চলচ্চিত্রে? ‘চোরাবালি’তে তো ভালোই করেছেন? ‘আমি আসলে ছবি বাছাইয়ে বড় ভুল করে ফেলেছিলাম। রনির ছবিটা ছাড়া আর কোনোটাই আমার প্রোফাইলে যোগ করার মতো হয়নি। ‘গ্যাংস্টার রিটার্নস’ আর ‘স্টোরি অব সামারা’—কোনোটাই না। সামনে আর এই ভুল করতে চাই না। ’


মন্তব্য