kalerkantho


বাংলা ফিল্মফেয়ারের পাঁচ

দ্বিতীয়বারের মতো দেওয়া হলো ফিল্মফেয়ার ইস্ট পুরস্কার। ওপার বাংলার এই চলচ্চিত্র পুরস্কারের সেরা পাঁচ ঘটনা নিয়ে লিখেছেন লতিফুল হক

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বাংলা ফিল্মফেয়ারের পাঁচ

‘সিনেমাওয়ালা’র জয়

সেরা ছবির দৌড়ে এবার ফেভারিট বলে কিছু ছিল না। মনোনয়ন পেয়েছিল ছয়টি—‘সিনেমাওয়ালা’, ‘ডাবল ফেলুদা’, ‘ঈগলের চোখ’, ‘প্রাক্তন’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’ ও ‘শঙ্খচিল’।

এর মধ্যে শেষেরটা ভারতের জাতীয় পুরস্কারও জিতে নিয়েছে। সেই হিসাবে একটু হলেও এগিয়ে ছিল গৌতম ঘোষের ছবি। কিন্তু সেরা ছবি হয়েছে ‘সিনেমাওয়ালা’। কৌশিক গাঙ্গুলির ছবিটির মূল চরিত্র মফস্বলের এক সিনেমা হলের মালিক। প্রচলিত প্রেক্ষাগৃহ ভেঙে সব জায়গায় মাল্টিপ্লেক্স হচ্ছে—এ নিয়ে পুরনো হল মালিকের উদ্বেগ, ছেলের সঙ্গে দ্বন্দ্ব। গত বছর মুক্তি পাওয়া ছবিটি অবশ্য বক্স অফিসে ততটা ভালো করতে পারেনি। মূল চরিত্র করেন পরান বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

জিতলেন প্রসেনজিৎ

আবির চ্যাটার্জি, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, যীশু সেনগুপ্ত, পরান বন্দ্যোপাধ্যায়, দেব, নাকি প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি—এ নিয়ে জল্পনা ছিল। তবে প্রসেনজিৎ, পরান অথবা চিরঞ্জিত—এই তিন সিনিয়রের কেউ পাবেন সেরা অভিনেতার পুরস্কার, নিশ্চিত ছিলেন অনেকেই।

শেষ পর্যন্ত ‘শঙ্খচিল’-এর জন্য জিতলেন প্রসেনজিৎই, যেখানে তিনি স্কুল শিক্ষক বাদল চরিত্রে অভিনয় করেন।

 

জয়া নন, স্বস্তিকা

‘ঈগলের চোখ’-এর জন্য সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পেয়েছিলেন জয়া আহসান। বাংলাদেশের ভক্তদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছিল—প্রিয় অভিনেত্রী পুরস্কার জিতবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরস্কার গেল স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের হাতে। তাঁর জয়টাও সহজ ছিল না—প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে পাওলি দাম, গার্গী রায়চৌধুরী, রাইমা সেন ও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের সঙ্গে। ‘সাহেব বিবি গোলাম’-এ জয়া চরিত্র করেন স্বস্তিকা। শারীরিক ও মানসিকভাবে বঞ্চিত গৃহবধূ জয়ার নতুন অ্যাডভেঞ্চার নিয়ে ছবির গল্প, যে চরিত্র ফুটিয়ে তোলা অভিনয়জীবনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল—জানিয়েছিলেন স্বস্তিকা। আলোচিত-সমালোচিত ছবিটি মুক্তির আগে দীর্ঘদিন সেন্সর বোর্ডে   আটকে ছিল।

 

সেরা কৌশিক

প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অরিন্দম শীল, গৌতম ঘোষ, প্রিতম ডি গুপ্ত, সন্দীপ রায় ও শিবপ্রসাদ মুখার্জি, নন্দিতা রায় থাকলেও কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ই এগিয়ে ছিলেন অনেকটা। মনে করা হচ্ছিল, তিনি বা গৌতম ঘোষ—এই দুজনের একজনই পাবেন পুরস্কার। শেষ পর্যন্ত পুরস্কার গেল কৌশিকের হাতেই। সেরা ছবির পর সেরা পরিচালকের পুরস্কারও পায় ‘সিনেমাওয়ালা’।

 

যশের বাজিমাত

গেল বছর বিরসা দাশগুপ্তের ‘গ্যাংস্টার’ দিয়ে রুপালি পর্দায় অভিষেক হয় যশ দাশগুপ্তের। ছোট পর্দার জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘বোঝে না সে বোঝে না’র ‘অরণ্য’ খ্যাত যশ প্রথম ছবিতেই নজর কাড়েন। বিশেষত তাঁর অ্যাকশন নিয়ে আলাদাভাবে কথা হয়। ফিল্মফেয়ার ইস্টে অনুমিতভাবেই সেরা নবাগত অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন তিনি। অনেকের মতে, টালিগঞ্জে বড় তারকা হবেন যশ। বৈশাখে মুক্তি পাবে তাঁর পরের ছবি ‘ওয়ান’, যেখানে খলনায়কের ভূমিকায় আছেন প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি।


মন্তব্য