kalerkantho


চেইনড টু দ্য রিদম

কেটি পেরির গাওয়া ‘চেইনড টু দ্য রিদম’ এখন বেশ আলোচিত। লিখেছেন আবু সালেহ শফিক

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



চেইনড টু দ্য রিদম

‘চেইনড টু দ্য রিদম’ প্রথম জনসমক্ষে গেয়েছেন ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে। গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের উনষাটতম আসর বসেছিল সেদিন। ক্যাপিটল রেকর্ডস গানটি  প্রকাশ করেছে তার দুই দিন আগে, মানে ১০ ফেব্রুয়ারি। তার পর থেকেই বাজার গরম। গানটি কেটি পেরির পঞ্চম স্টুডিও অ্যালবামের জন্য রেকর্ড করা। ডিসকো ধরনের এই গান নিয়ে রোলিংস্টোনের জেসন নিউম্যান লিখেছেন, ‘পেরি বাজারে একটি উত্তেজক ওষুধ ছেড়েছে। হাতের কাছে এখন এর চেয়ে ঘোর লাগানো কিছু আর নেই। ’ পেরির সঙ্গে মিলেমিশে এটির কথা লিখেছেন স্কিপ মার্লে, সিয়া ফার্লার, ম্যাক্স মার্টিন প্রমুখ। বিলবোর্ড হট হান্ড্রেডে গানটির অবস্থান এখন ৮ নম্বরে। কানাডিয়ান হট হান্ড্রেডে ৩ নম্বরে জায়গা নিয়েছিল, অস্ট্রেলিয়ায় দখল করেছিল ৪ নম্বর জায়গা আর ফ্রান্সে ৮ নম্বর। ভেভোতে ভিডিওটি প্রকাশ পায় ২১ ফেব্রুয়ারি।

চিত্রায়িত হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার সিক্স ফ্ল্যাগস ম্যাজিক মাউন্টেন থিম পার্কে। পার্কটির নাম রাখা হয়েছিল অবলিভিয়া। অবলিভিয়া হলো কয়েকটি দ্বীপের একটি মালা। এখানে অনেক পুরনো স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ আছে। জায়গাটি পোকেমনের বাসস্থান। বিবিসির মার্ক সাভেজ বলছেন, ‘আধুনিক সময়ের অস্থিরতার রূপক ভিডিওটি। ’ বিলবোর্ডের গিল কফম্যান বলছেন, ‘মার্কিনরা এখন যে রাজনৈতিক ঘটনাবলির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা-ই প্রকাশিত এই ভিডিওতে। ’ এটি শুরু হয় পেরির গেট ঠেলে ভেতরে ঢোকার মধ্য দিয়ে। ভেতরে দেখা যায়, বেড়াতে আসা লোকজন বাচ্চাদের মতো ললিপপ খাচ্ছে আর সেলফি তুলছে। তিনি চমত্কৃত হন। তারপর দ্য গ্রেটেস্ট রাইডস ইন দি ইউনিভার্সের সামনে গিয়ে দাঁড়ানোর আগে বিলবোর্ডের গায়ে লেখা দেখতে পান দ্য গ্রেট আমেরিকান ড্রিম ড্রপ। পান অনেকগুলো গোলাপ। ধরতে গিয়ে কাঁটার ঘায়ে আহত হন। গিয়ে চড়েন ‘লাভ মি লেখা’ একটি রোলার কোস্টারে। কিন্তু কোস্টার থেকে নিরাপদে নামার উপায় নেই। একটি ক্রেন দিয়ে ছুড়ে মেরে কোস্টার থেকে নামানো  হয় অতিথিদের। যান ইনফার্নো এইচটুও লেখা একটি পেট্রল স্টেশনে। সেখানে সবাই আগুনপানি খায়। এরপর একটি থ্রিডি থিয়েটারে। দৌড়াতে থাকেন একটি বৃত্তের ভেতর দিয়ে। কোনোভাবেই পথ শেষ হয় না। একসময় বৃত্তের ঘূর্ণন থামে। পেরি এমনভাবে ক্যামেরার দিকে তাকান, মনে হয় দুঃস্বপ্ন দেখছিলেন।

আসল নাম ক্যাথেরিন এলিজাবেথ হাডসন। বর্তমান বয়স ৩২ বছর। শৈশবে চার্চে গাইতেন। ২০০১ সালে রেড হিল রেকর্ডসের সঙ্গে প্রথম চুক্তিবদ্ধ হন ‘কেটি হাডসন’ নাম নিয়ে। প্রথম স্টুডিও অ্যালবামটি সাফল্য পায়নি। লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে গ্লেন বালার্ড, ড. লিউক ও ম্যাক্স মার্টিনের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। তখনই কেটি পেরি নাম নেন। আর ক্যাপিটল রেকর্ডসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন ২০০৭ সালে। পরের বছর তিনি খ্যাতির শিখর ছুঁয়ে ফেলেন ‘আই কিসড আ গার্ল’ গানটি দিয়ে। তারপর একে একে ‘টিনএজ ড্রিম’, ‘ক্যালিফোর্নিয়া গার্লস’, ‘ফায়ারওয়ার্ক’সহ অনেক গান উপহার দেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও নাম লিখিয়েছেন পেরি। ২০১১ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত টানা ফোর্বসের টপ আর্নিং ওম্যান ইন মিউজিকের তালিকায় নাম তুলেছেন। ২০১৬ সাল পর্যন্ত তাঁর আয়ের পরিমাণ হিসাব করা হয়েছে ১২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ‘ওয়ান অব দ্য বেস্ট সেলিং মিউজিক্যাল আর্টিস্টস অব অল টাইম’ তকমা পেয়েছেন।


মন্তব্য