kalerkantho


এবার মরলে গাছ হবো

এসেছে অনুপম রায়ের চতুর্থ একক ‘এবার মরলে গাছ হবো’। মুক্তি পেয়েছে তাঁর সংগীত পরিচালনায় দ্বিতীয় হিন্দি ছবি ‘রানিং শাদি ডটকম’। লিখেছেন সাজ্জাদ হোসেন

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



এবার মরলে গাছ হবো

‘আমার আশা-আকাঙ্ক্ষা জুড়ে সব সময়ই ছিল গান, কবিতা আর সিনেমা। কৈশোর থেকেই এক ধরনের ঘোরের মধ্যে থাকতাম। প্রতিটি মুহূর্তে চোখের সামনে ভাসত স্টেজে গিটার বাজিয়ে গান গাইছি। নিজের গানগুলো অ্যালবাম আকারে বের করছি। মানুষ কিনে তা শুনছে’—বলছিলেন অনুপম রায়। এর সবই এখন সত্য। অনুপম এখন এসবের মধ্যেই ডুবে থাকেন সারাক্ষণ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাট চুকিয়ে ২০০৪ সালে বেঙ্গালুরুতে যান চাকরি নিয়ে। ৯টা-৫টা অফিসের পাশাপাশি বাঁধছিলেন গানও। একদিন একটা থিয়েটারের দলে সৃজিত মুখার্জির সঙ্গে পরিচয়। সৃজিত তখন ‘ফেলুদা ফেরত’ নাটকের পরিকল্পনা করছিলেন।

সেই নাটকের মিউজিক কম্পোজিশন করলেন অনুপম। এই মানিকজোড়ের শুরুটা সেখান থেকেই। সৃজিত তখন অনুপমকে বলেছিলেন, যদি কোনো দিন সিনেমা বানান, তাহলে সংগীতের কাজটা তাঁকে দিয়েই করাবেন।

সৃজিত তাঁর প্রথম ছবি ‘অটোগ্রাফ’-এ সংগীত পরিচালনার কাজ দিলেন অনুপম রায়কে। ছবির ‘আমাকে আমার মতো থাকতে দাও’ গানটি দিয়ে পুরো পশ্চিম বাংলা আর বাংলাদেশকে মাতিয়ে দিলেন অনুপম। তখন এক সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন, ‘সৃজিত ছিল বলেই, সৃজিতের জন্যই সবাইকে গান শোনাতে পারলাম। ’

পরের বছর সংগীত পরিচালনা করেন হরনাথ চক্রবর্তীর ‘চলো পাল্টাই’ ছবির। আরো পরিপক্ব, আরো বিচক্ষণ অনুপমকে পাওয়া গেল এই ছবিতে। এবার চাকরি ছেড়ে বেঙ্গালুরু থেকে একেবারে চলে এলেন কলকাতায়। এখন থেকে বাণিজ্যিক ছবিতেও শোনা যাবে তাঁর গান। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ভাবছি বাণিজ্যিক ছবিতেও কাজ করব। লিখতে পারব কি না জানি না, কিন্তু সুরের দায়িত্ব যদি পাই ২০১৭ সালে একটা এক্সপেরিমেন্ট করতে চাই। ’

‘অটোগ্রাফ’-এর পর সৃজিতের সঙ্গে করেছেন ‘বাইশে শ্রাবণ’, ‘হেমলক সোসাইটি’ আর ‘চতুষ্কোণ’-এর মতো ছবির সংগীত। ছবিগুলোতে  অনুপমের গাওয়া প্রায় প্রতিটি গানই হিট। গানের কথায় শব্দের দুর্দান্ত ব্যবহার আর স্বকীয় গায়কি অনুপমকে তরুণ প্রজন্মের কাছের একজনে পরিণত করেছে।

একে একে গৌতম ঘোষের ‘শূন্য অঙ্ক’, ‘সুদীপ্ত চ্যাটার্জির ‘হাইওয়ে’, শিবপ্রসাদ মুখার্জি আর নন্দিতা রায়ের ‘বেলাশেষে’ ও ‘প্রাক্তন’-এর   মতো ছবিতেও কাজ করেছেন সংগীত পরিচালক হিসেবে। ২০১৫ সালে বলিউডে অভিষেক সুজিত সরকারের ‘পিকু’র সংগীত পরিচালনা দিয়ে। এখানেও সফল। এই ছবির জন্য ‘সেরা নেপথ্য সংগীত’ ক্যাটাগরিতে পেয়েছেন ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড। আর চলতি বছর ‘প্রাক্তন’ ছবির জন্য ‘সেরা সংগীত’ ও ‘সেরা গীতিকার’ ক্যাটাগরিতে পেয়েছেন ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড ইস্ট পুরস্কার। ঝুলিতে জমা পড়েছে আরো প্রায় ২৮টি পুরস্কার।

২০১২ সালে ‘দূরবীণে চোখ রাখব না’ দিয়ে পূরণ হয় তাঁর অ্যালবাম করার স্বপ্ন। পরের দুই বছর এসেছে আরো দুটি অ্যালবাম—‘দ্বিতীয় পুরুষ’ ও ‘বাক্যবাগীশ। ‘ তবে চতুর্থ একক এলো প্রায় তিন বছর পর। নাম ‘এবার মরলে গাছ হবো। ‘ এমন নাম কেন? উত্তরে বলেন, ‘আজকের সময়টা ভাবুন। নদী শুকিয়ে যায়। যে বন্দরে জাহাজ ঢুকত, সেখানে আর জাহাজ আসে না। গাছ মানুষকে প্রাণ দেয়, ওম ছড়ায়। আমি মানুষ হয়ে সেটা পৃথিবীকে দিতে পারলাম না, এই নিয়ে গান...। ’ অ্যালবামের ছয়টি গান ছয় রকম। এই প্রথম অনুপমের অ্যালবামে থাকছে অন্য কারো গান। একটি ‘মহীনের  ঘোড়াগুলি’ ব্যান্ডের  ‘চৈত্রের কাফন’, অন্যটি উপল সেনগুপ্তের গাওয়া ‘ব্যথা লাগে’। গত মাসে অ্যালবামটি প্রকাশের তিন দিন পর মুক্তি পায় ‘রানিং শাদি ডটকম’ ছবিতে। অনুপমের সংগীত পরিচালনায় দ্বিতীয় হিন্দি ছবি এটি।


মন্তব্য