kalerkantho


ব্যান্ড ছেড়েছেন যাঁরা

‘চিরকুট’কে বিদায় বলেছেন ব্যান্ডটির অন্যতম ভোকাল পিন্টু ঘোষ। এমন ঘটনা আরো আছে। ব্যান্ড ছেড়ে যাওয়া শিল্পী মাকসুদুল হক, শাফিন আহমেদ তাহসান ও জন কবিরকে নিয়ে এই ফিচার। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ব্যান্ড ছেড়েছেন যাঁরা

‘চিরকুট’ ছেড়েছেন পিন্টু ঘোষ

গত নভেম্বরে ‘চিরকুট’ ছেড়ে যান পিন্টু ঘোষ। বর্তমানে একক ক্যারিয়ার নিয়েই ব্যস্ত এই গায়ক।

অ্যালবাম, প্লেব্যাক, স্টেজ, টিভি লাইভ—সব মাধ্যমেই শোনা যাচ্ছে পিন্টুর কণ্ঠ। কিন্তু কেন তিনি চিরকুট থেকে বেরিয়ে গেলেন? শোনা যাক তাঁর মুখেই, ‘শুরুর দিকে চিরকুট নাটক-সিনেমার মিউজিক তেমন করত না। আমি মাঝেমধ্যে করতাম। এরপর আমাদের মধ্যে কথা হলো, যে যা-ই কাজ করি না কেন, চিরকুটের নাম যোগ করে দেব। এমনও হয়েছে, ব্যক্তিগত শোও চিরকুটকে দিয়েছি। কিন্তু পাঁচ বছর পর ব্যান্ডটি যখন নাম করল, তখন আমাকে নিয়েই এলোমেলো বাতাস বইতে লাগল। একসময় আমার মিউজিক্যাল চিন্তাভাবনা সুমী আপার ভালো লাগছিল না। এমনও হয়েছে, ব্যান্ডের অন্য সবার ভালো লেগেছে, কিন্তু সুমী আপার পছন্দ না হওয়ায় প্রজেক্টটি বাদ। আমি বললাম, চিরকুট যে ফরমায়েশি কাজগুলো করছে, সেগুলোর সঙ্গে আমি নেই। কারণ সেই কাজগুলো আমার মনমতো হচ্ছিল না। ধীরে ধীরে নিজেকে আলাদা করে ফেলি। যেখানে সম্মান নেই, সেখানে থেকে লাভ কি? ব্যক্তিস্বার্থেই সুমী আপা আমার সঙ্গে এসব আচরণ করেছেন। তিনি আমাকে আরো বলেছিলেন, আমার মতো আরো অনেক মেধাবীকে ভবিষ্যতে জায়গা করে দেবে চিরকুট। এর মানে কী! এমনও হয়েছে, ব্যান্ডের শো হচ্ছে, কিন্তু আমি জানি না। কেউ আমার কথা জিজ্ঞেস করলে বলতেন আমি ছুটিতে। মানে টেকনিক্যালি আমার পেটে লাথি দেওয়া। তখন আর বুঝতে বাকি রইল না, তিনি আর আমার বড় আপার সম্মানের জায়গায় নেই। এমন আরো অসংখ্য প্রমাণ আছে, চাইলে দেখাতে পারব। বিষয়টা তো এমন নয় যে আমি চিরকুটে ক্রিম খাওয়ার জন্য গিয়েছিলাম? ব্যান্ডটির আজকের অবস্থানে আসার পেছনে আমারও অনেক শ্রম আছে। নিজের কাজটা আমি স্বাধীনভাবে করতে চাই, তাই এ সিদ্ধান্ত। ’ 

আরো বলেন, ‘এখন থেকে নিয়মিত গান গাইব। তবে যেসব গান আমার সঙ্গে যায় না, সেগুলো গাওয়ার ইচ্ছা নেই। সংগীত পরিচালনায়ও মনোযোগ দিতে চাই। ’

এ প্রসঙ্গে চিরকুটের ভোকাল শারমীন সুলতানা সুমীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে পিন্টু ঘোষের জন্য শুভ কামনা জানিয়েছেন।     

 

‘ফিডব্যাক’ থেকে ‘ঢাকা’য় মাকসুদ

১৯৭৬ সালে ‘ফিডব্যাক’ গড়ে ওঠার পরের বছরই ব্যান্ডটির ভোকাল হিসেবে কাজ শুরু করেন মাকসুদুল হক। ১৯৮৫ সালে প্রথম অ্যালবাম বের হওয়ার আগে ফিডব্যাক ছেড়ে ‘ওয়েব’ নামের একটি ব্যান্ড করেন মাকসুদ। পরের বছর ‘উল্লাস’ অ্যালবামটি বের করার আগে আবারও ফিডব্যাকে ফিরে আসেন। এরপর ‘বাউলিয়ানা’ অ্যালবাম পর্যন্ত এই ব্যান্ডের হয়েই কাজ করেন। তবে ১৯৯৬ সালে ফিডব্যাককে আবারও বিদায় জানান মাকসুদ। ফিডব্যাকের অন্যতম সদস্য ফোয়াদ নাসের বাবু বলেন, ‘মাকসুদ আমাদের ভাই-বন্ধুর মতোই। তাঁর লেখাকেও আমরা অনেক সম্মান করি। আমরা যে ধরনের গান করছিলাম, তার বাইরে গিয়ে নিজের মতো করে জীবনমুখী এবং রাজনৈতিক গান শুরু করেছিলেন তিনি, যা আমাদের সঙ্গে যাচ্ছিল না। ’ এরপর সমঝোতার ভিত্তিতেই তিনি ফিডব্যাক ছাড়েন এবং ‘ঢাকা’ নামে নতুন ব্যান্ড গড়েন।

 

ঘুরেফিরে ‘মাইলস’-এ শাফিন

২০১০ সালে ‘মাইলস’ ছেড়ে দেন ব্যান্ডটির ভোকাল ও গিটারিস্ট শাফিন আহমেদ। সে সময় কালের কণ্ঠকে শাফিন বলেছিলেন, ‘ব্যান্ডের মধ্যে সমঝোতার বেশ অভাব। সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছে একতরফাভাবে। অনেক দিন ধরে কোনো অ্যালবাম নেই। পুরনো গান নিয়েই বারবার মঞ্চে উঠতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে আমি বাধ্য হয়েছি মাইলস ছেড়ে দিতে। ’ হামিন আহমেদ বলেছিলেন, ‘শাফিন ব্যান্ড ছেড়ে দিয়েছে, এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। মাইলস মনে করে, ব্যক্তির চেয়ে ব্যান্ড বড়। শাফিন আহমেদ না থাকলেও মাইলস থাকবে। ’ এরপর ‘রিদম অব লাইফ’ নামে নতুন একটি ব্যান্ড গড়েন শাফিন। ব্যান্ডটি নিয়ে বেশ কিছু শোতেও অংশ নেন। কিন্তু প্রায় ১০ মাস পর আবারও মাইলসে ফিরে আসেন শাফিন। এরপর হামিন আহমেদ বলেছিলেন, ‘শাফিন, হামিন কিংবা মানাম কাউকে বাদ দিয়ে দর্শক-শ্রোতারা মাইলসকে দেখতে চায় না। দর্শক-শ্রোতার ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা আবার এক হয়েছি। ’

 

‘ব্ল্যাক’ থেকে ‘তাহসান অ্যান্ড দ্য সুফিজ’

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ‘ব্ল্যাক’-এ ছিলেন তাহসান রহমান খান। ব্যান্ডটিতে তাহসানের যাত্রা শুরু মূলত কি-বোর্ডবাদক হিসেবে। একসময় জনের পাশাপাশি ভোকালও দিতে থাকেন। ব্ল্যাকের গিটারিস্ট জাহান বলেন, “ব্ল্যাকের প্রথম দুটি অ্যালবাম ‘আমার পৃথিবী’ ও ‘আবার’-এ চারটি গানে কণ্ঠ দেন তাহসান। একটা সময় মিউজিক নিয়ে আমাদের সঙ্গে তাঁর মনের অমিল দেখা দেয়। এরপর নিজের মতো করে মিউজিক করার জন্য আলোচনা করেই ব্ল্যাক ছেড়ে দেন তাহসান। তবে আমাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কোনো অবনতি হয়নি। বন্ধুত্বের সম্পর্কটা ঠিক আগের মতোই আছে। ” ব্ল্যাক ছেড়ে একক ক্যারিয়ার নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েন তাহসান। গাইতে থাকেন একক এবং বিভিন্ন মিক্সড অ্যালবামে। এর মধ্যে তাহসানের গাওয়া অনেক গানই শ্রোতারা গ্রহণ করেন। চলচ্চিত্র এবং বেশ কিছু নাটকের গানেও শোনা গেছে তাঁর কণ্ঠ। গান গাওয়ার পাশাপাশি অভিনেতা ও উপস্থাপক হিসেবেও সফল তিনি। তবে এত কিছুর পরও ব্যান্ড ছেড়ে থাকতে পারেননি। তাইতো ২০১২ সালে ‘তাহসান অ্যান্ড দ্য সুফিজ’ নামে নতুন ব্যান্ড গড়েন।

 

‘ব্ল্যাক’ ছেড়ে ‘ইন্দালো’তে

জন কবির

২০০১ সালে গড়ে ওঠা ‘ব্ল্যাক’-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের একজন জন কবির। তিনি ছিলেন ব্যান্ডটির প্রধান ভোকাল। ১০ বছর পর ২০১১ সালে ব্যান্ডটি ছেড়ে দেন জন। মিউজিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে দ্বিমতের কারণেই  আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তখন জানিয়েছিলেন জন এবং ব্ল্যাকের সদস্যরা। বিষয়টি যে সত্য তার প্রমাণ মেলে পরের বছরই। পছন্দমতো মিউজিক করার স্বপ্ন নিয়ে আরো তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে  নতুন ব্যান্ড ‘ইন্দালো’ গড়ে তোলেন জন। ২০১৫ সালের শেষ দিকে প্রকাশ পায় ব্যান্ডটির প্রথম অ্যালবাম ‘কখন কিভাবে এখানে কে জানে’। আপাতত ইন্দালোকে নিয়েই জনের যত ব্যস্ততা। গানের পাশাপাশি অভিনেতা হিসেবেও জন এখন বেশ আলোচিত।


মন্তব্য