kalerkantho


এখন কোথায় যাবে জলি

কাল মুক্তি পাবে নাদের চৌধুরীর ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’। ইমদাদুল হক মিলনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ছবিটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন ফাল্গুনী রহমান জলি। এই নায়িকার মুখোমুখি হয়েছেন মীর রাকিব হাসান

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



এখন কোথায় যাবে জলি

এই যুগে প্রায় সব নায়ক-নায়িকাই অনলাইনে সরব। ছবির প্রচারণাও চলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। অথচ ফেসবুক-টুইটারে নেই জলি। ‘সে জন্যই এখন টিভি চ্যানেল, পত্রিকা অফিসে ঘুরছি। কাল থেকে সিনেমা হলেও যাব’—বললেন জলি। প্রচারণায় গিয়ে কী বলছেন? এই ছবি কেন দেখবে দর্শক? ‘শুধু বিনোদনের জন্যই নয়, একটা অসহায় মেয়ের জীবনের একটুকরো বাস্তবতা দেখার জন্যও দর্শকের প্রেক্ষাগৃহে যাওয়া উচিত। ’

‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ জলির তৃতীয় ছবি। অভিষেক ছবি ‘অঙ্গার’ আর দ্বিতীয় ছবি ‘নিয়তি’তে যেভাবে দেখা গিয়েছিল, নতুন ছবিতে তাঁকে দেখা যাবে ভিন্ন এক অবতারে। এখানে তিনি গ্রামের মেয়ে, নাম কৃষ্ণকলি। ছবিটির ট্রেলার ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে একটা দৃশ্যে জলির মুখের অতিরিক্ত মেকআপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

জলি বলেন, ‘ছবির ছোট্ট একটা অংশেই মেকআপ ব্যবহার করেছি। অজপাড়াগাঁয়ের একটি মেয়ে গেছে সামাজিক অনুষ্ঠানে, সে তো একটু বেশিই মেকআপ করবে। চরিত্র অনুযায়ী এটাই ন্যাচারাল। এ ছাড়া সিনেমার বাকি অংশে মেকআপ নিইনি বললেই চলে। ’

ছবির গল্পে দেখা যাবে, জলিকে পছন্দ করেন শাহরিয়াজ। কিন্তু জলি সাড়া দেন না। শাহরিয়াজও তাঁর পিছু ছাড়েন না। একসময় সাড়া দেন জলি, কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় ধর্ম। কারণ জলি হিন্দু। আগের দুই ছবিতে জলির নায়ক কলকাতার ওম ও আরিফিন শুভ। সহশিল্পী হিসেবে শাহরিয়াজ কেমন? ‘উনি তো আমার সিনিয়র। কিন্তু শুটিংয়ের সময় কখনো তা বুঝতে দেননি। সব সময়ই বন্ধুর মতো মিশেছেন, খুঁটিনাটি ব্যাপারে সাহায্যও করেছেন। আমি অন্য সিনিয়র অভিনেতাদের কথাও বলতে চাই, রাইসুল ইসলাম আসাদ স্যার, উনি তো একেবারে বাবার মতো আমার সঙ্গে মিশেছেন। উনার সামনে দাঁড়িয়ে মনে হয়নি, এত সিনিয়র কোনো অভিনেতার সামনে সংলাপ দিচ্ছি। ’

ইমদাদুল হক মিলনের উপন্যাস অবলম্বনে এই ছবি। এই কথাসাহিত্যিকের অনেক বই পড়েছেন জলি। ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ উপন্যাসের বিশেষত্ব কী? এটা নিয়ে সিনেমা করার কারণই বা কী? ‘উপন্যাসটিতে গ্রামবাংলার সমাজব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি খুব সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। হৃদয়স্পর্শী একটা গল্প, মেয়েটির করুণ পরিণতি দেখে দর্শকের মনে তার জন্য মায়া জন্মাবে’—বললেন জলি।

শুটিং হয়েছে বিক্রমপুর, মানিকগঞ্জ ও ভোলায়। নৌকায়ই হয়েছে ছবির বেশির ভাগ শুটিং। নৌকায় ঘুরে ঘুরেই কেটেছে শুটিংয়ের দিনগুলো। এক কাপড় পরে আট দিন পর্যন্ত থাকতে হয়েছে তাঁকে।

আচ্ছা, এটা কি রোমান্টিক ছবি? জলি বললেন, “শুরুতেই পরিচালকসহ প্রযোজনা সংস্থা জাজ মাল্টিমিডিয়ার অনেকেই আমাকে বলেছেন, এটা কোনো প্রেম-ভালোবাসার ছবি নয়। তাঁরা বলেছেন, ‘আমাদের একজন খুব ভালো অভিনেত্রী দরকার। তোমার মধ্যে এই গুণটা আছে। মন দিয়ে অভিনয় করলে এই ছবি দিয়ে তুমি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলেও আমরা বা দর্শকরা অবাক হব না। ’ আমিও ছবিটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। ”

জলির আগের দুই ছবি গতানুগতিক নাচ-গানের, তৃতীয়টিতে এসে হয়েছেন উপন্যাসের নায়িকা। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন মেকআপ ছাড়াই। ক্যারিয়ারের শুরুতেই সাধারণত নায়িকারা এ ধরনের নন-গ্ল্যামারাস চরিত্রে অভিনয় করতে চান না। জলি এদিক দিয়ে ব্যতিক্রম। বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই অভিনয় করতে চেয়েছি। একবার যখন সুযোগ পেয়েছি, প্রতিভাটা দেখাতে চাই। গ্ল্যামারের পেছনে ছুটি না। ভালো গল্প আর চরিত্র পেলে লুফে নেব। তা ছাড়া জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা, তারা আমার শুভাকাঙ্ক্ষী। আমাকে নিয়ে তাদের ভাবনাও কম নেই। ’

নতুন ছবির খবর? সাবধানী জলির উত্তর, ‘ক্যামেরার সামনে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কিছুই বলব না। ঘটা করে বললাম, পরে দেখা গেল নায়িকা পরিবর্তন হয়ে গেল! সেটা তো আমার দোষ না, কিন্তু প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে আমাকেই। তাই একেবারে সেটে গিয়ে জানাতে চাই। তার আগে যদি ছবি সংশ্লিষ্টরা কিছু জানাতে চায়, সেটা তাদের ব্যাপার। ’


মন্তব্য