kalerkantho


তানির স্বপ্ন গানই

প্রথম একক ‘তোমারও পিরিতি’র পর দ্বিতীয় একক ‘দিল দরিয়া’তেও গেয়েছেন লোকগান। তবে আধুনিকেও কম যান না সাঈদা তানি। ‘যত দূর চোখ যায়’ গানটির জন্য প্রশংসা পাচ্ছেন। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন। ছবি তুলেছেন ইমরান হোসেন

২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



তানির স্বপ্ন গানই

সাঈদা তানির প্রিয় সংগীত পরিচালকদের একজন বাপ্পা মজুমদার। স্বপ্ন দেখতেন বাপ্পার সঙ্গে কাজ করার।

সেই স্বপ্ন সত্য হয়েছে। ভিডিওতে প্রকাশ পেয়েছে বাপ্পার সুর-সংগীতে তানির ‘যত দূর চোখ যায়’। এই গানে তানির সঙ্গে হার্মোনাইজও করেছেন বাপ্পা। গিটার হাতে ভিডিওতেও অংশ নিয়েছেন। প্রকাশ করেছে বাংলা ঢোল। গানটির রেসপন্সে বেশ উচ্ছ্বসিত গায়িকা, ‘এমন একটি গানের জন্য অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম। পরিচিতজনদের কাছ থেকে সাড়া পাচ্ছি। ফেসবুকেও অনেকে ভালোলাগার কথা জানাচ্ছেন। ’

ছোটবেলায় আধুনিক গানের প্রতি ঝোঁক ছিল।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লোকগানে বিচরণ বেড়ে যায়। এর পেছনের গল্পটা শোনা যাক তানির কাছেই, ‘বিবিএ শেষ করে ২০০৯ সালে লন্ডনে যাই। হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল কেয়ার ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স করি। এর পর থেকে বেশির ভাগ সময় লন্ডনেই কাটে। কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বেছে বেছে গান করি। লন্ডনের বাঙালিরা লোকগান বেশি পছন্দ করে। তাদের দাবি মেটাতে গিয়ে লোকগানের দিকে মনোযোগী হই। বাঙালি মনের কথাগুলো লোকগানের মাধ্যমে দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়। বাংলাদেশের কালচার বিশ্বদরবারে তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যমও এই গান। ’

তানির প্রথম গান শাহ আবদুল করিমের ‘বন্ধুরে কই পাবে সখি গো’ প্রকাশ পায় ২০১৩ সালে। সে বছরই পাকিস্তানি সংগীত পরিচালক রাজা কাশিফের সঙ্গে ‘তেরি জাওয়ানি’ শিরোনামে একটি গানে কণ্ঠ দেন। একই বছর ড্রেকের ‘হোল্ড অন’ এবং জনপ্রিয় হিন্দি গান ‘তু ঝে দেখা তো ইয়ে’র সমন্বয়ে একটি ট্র্যাক বানান শ্রীলঙ্কান গায়ক, সংগীত পরিচালক অর্জুন, যাতে অজুর্নের সঙ্গে তানিও কণ্ঠ দেন।

২০১৪ সালে দেশে এলে ঢাকা এফএমের ব্যানারে প্রকাশ করেন নিজের প্রথম একক অ্যালবাম ‘তোমারও পিরিতি’। আটটি গানের সবই শাহ আবদুল করিমের। সংগীতায়োজনে ইবরার টিপু।

এবার দেশে এসে দ্বিতীয় এককের কাজ করেছেন। এটিও লোক। গান রয়েছে আটটি। লিখেছেন সৈয়দ দুলাল, সংগীতায়োজনে জাহিদ বাশার পংকজ। তানি বলেন, ‘অ্যালবামটির উদ্যোক্তা সৈয়দ দুলাল ভাই। আমার গান শুনে তিনি পছন্দ করেন। এরপর প্রস্তাব দেন। পহেলা বৈশাখ সামনে রেখে বাজারে আসবে অ্যালবামটি। ’ একই সময়ে রাজা কাশিফের সংগীতে ‘বাঙালি নন্দিনী’ গানটিও প্রকাশ করবেন তানি, বাঙালি নারীর রূপের বর্ণনা দিয়ে যেটির কথা লিখেছেন নিজেই।

‘চিরকুট’ ব্যান্ডের ইমন চৌধুরীর সুর-সংগীতে কণ্ঠ দিয়েছেন দুটি আধুনিক গানে। নতুন আরেকটি গান করে তিন গানের ইপি প্রকাশ করবেন বছরের মাঝামাঝি সময়ে।

তানি বলেন, ‘গানগুলোতে নিজেকে ভাঙার চেষ্টা করেছি। গায়কিতে নিজের শতভাগ উজাড় করে দিয়েছি। শ্রোতারাও পছন্দ করবেন আশা করি। ’

তানির জন্ম নরসিংদীর শিবপুরে। হাতেখড়ি পাঁচ বছর বয়সে, স্থানীয় পূরবী সংগীত নিকেতনের ওস্তাদ বজলুর রহমানের কাছে। শুরু ক্লাসিক্যাল, দেশাত্মবোধক ও ছড়াগান দিয়ে। একটু বড় হয়ে দুই বছর নজরুলসংগীত শেখেন ছায়ানটে। তুলা রাশির এই গায়িকার সংগীতের আইডল আশা ভোঁসলে ও রুনা লায়লা।

 

স্মরণীয় ঘটনার কথা জানতে চাইলে বলেন, ‘ইউনিয়ন চ্যাপেল নামে লন্ডনে একটি জায়গা আছে। পৃথিবীর সব বিখ্যাত শিল্পী-তারকা সেখানে পারফরম করেন। একটি অনুষ্ঠানে লন্ডনের স্থানীয় প্রায় তিন শ অর্কেস্ট্রার সঙ্গে সেই মঞ্চে ওঠার সুযোগ পাই। শাহ আবদুল করিম, হাসন রাজা ও রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর একটি করে গান শোনাই। উপস্থিত সবাই আমার গান দারুণ এনজয় করেছিলেন। একজন বাংলাদেশি শিল্পী হিসেবে সেদিন খুব গর্ব অনুভব করেছিলাম। ’


মন্তব্য